আমরা প্রায় সবাই মনে করি জন্মদিন পালন করা খ্রিস্টান বা ইহুদিদের উৎসব।কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাই আগের দিনের খ্রিস্টানরা জন্মদিন পালন করত না এবং এখনো অনেক খ্রিস্টান জন্মদিন পালন করেনা।কারন তারা জন্মদিনকে প্যাগানদের উৎসব মনে করে।
সর্বপ্রথম জন্মদিন পালন করে ছিল মিশরের রাজা ফারাও।খ্রিস্টানরা ফারাওকে পাপি মনে করত।এজন্য তারা জন্মদিন পালনকারিদেরো পাপি মনে করত।
আবার অন্য দিকে যদি দেখা যায় জন্মদিন এর উৎপত্তি কি ভাবে হয়েছে তাহলে Ralph and Adelin Linton এর লেখা 'THE LORE OF BIRTHDAY' বই এ বলা আছে "Originally the idea (of birthday greetings and wishes for happiness) was rooted in magic." অর্থ্যাৎ জাদুবিদ্যা থেকেই জন্মদিনের উৎপত্তি হয়েছে।
এছাড়া জন্মদিন পালন করতে গিয়ে যেসব কাজ গুলো করা হয় যেমনঃজন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো,কেক কাটা,মোমবাতি জ্বালানো,গিফট দেয়া ইত্যাদি এই সব গুলোর পিছনে রয়েছে কিছু কারন ও ইতিহাস।
#জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোঃমনে করা হয় যার জন্মদিন পালন করা হচ্ছে সেই দিন তার নিকট তার আত্মার আগমন ঘটে এবং কে তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে তা শোনে এবং কে তাকে কুমন্ত্রনা দিচ্ছে তা শোনে এবং সে অনুযায়ী তার ভাগ্য নির্ধারন করে।
#কেক কাটা এবং মোমবাতি জ্বলানোঃজন্মদিনের অনুষ্ঠানে মোমবাতি জ্বালানোর প্রচলন শুরু করে গ্রিকরা।গ্রিকরা প্রতি মাসের ছয় '৬'তারিখে তাদের দেবী Artemis(চন্দ্র ও শিকারের দেবী) এর জন্মদিন উপলক্ষে গোলাকার কেক বানাত যা দেখতে পূর্ণিমার চাঁদের মত মনে হত এবং মন্দিরের বেদীতে মোমবাতি জ্বালাত যা দেখেলে মনে হতো চাঁদ তার দীপ্তি ছড়াচ্ছে।আর গ্রিকরা মোমবাতি কে সৌভাগ্যের প্রতিক মনে করত।
#জন্মদিনে উপহার দেয়াঃঅশুভ আত্মা(Evil Spirit) থেকে আত্মরক্ষার জন্য মূলত এটা দেয়া হয়ে থাকে(এটাকে এক ধরনের ত্যাগ বা বলি মনে করা হয়ে থাকে অশুভ আত্মা থেকে আত্মরক্ষার জন্য)।
উপরের এতগুলা লেখা পড়ার পরও আমাদের মনে হতে পারে জন্মদিন হতে পারে প্যাগানদের উৎসব বা অন্য ধর্মের উৎসব কিন্তু আমরা তো আর তাদের অনুসরন করে বা তাদের ধর্ম বিশ্বাস থেকে পালন করে করছি না।তাহলে তো কোনো বাধাই আসার কথা না তাহলে ইসলাম কেন বাধা দিচ্ছে?
হয়তো আমাদের বিশ্বাস তাদের সাথে মিলছে না কিন্তু কাজ তো মিলছে।বিশ্বনবী হযরত মুহম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যারা বিধর্মীদের মত উৎসব করবে, কিয়ামত দিবসে তাদের হাশর ঐ লোকদের সাথেই হবে।(৩)
আর জন্মদিন হচ্ছে বিধর্মিদের উৎসব মুসলমানদের নয়।আর ইসলামে বিজাতীয় উৎসব ও সাংস্কৃতি পালনে সম্পুর্ন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন, যে ব্যাক্তি অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে , সে তাদের দলভুক্ত বলে গন্য হবে।(১)
মুসলমানদের জন্য অন্য ধর্মের লোকদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ব্যপারে হযরত উমার রাঃ এক বর্ণনায় বলেন, তোমরা আল্লাহর দুশমনদের উৎসবগুলোতে অংশগ্রহন থেকে বেঁচে থাকো।(২)
তিনি আরো বর্ননা করেন,
এছাড়া উপরোক্ত কথা গুলো যদি আমরা মন দিয়ে পড়ি তাহলে দেখা যায় আমরা কত গুলো কবিরা গুনাহ করে ফেলেছি এমনকি শিরক পর্যন্ত চলে গেছে।
আমরা জন্মদিনের মাধ্যমে শুভ আর অশুভ নির্নয় করছি যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা ছাড়া অদৃশ্যের জ্ঞান কেউ রাখে না।
‘‘অতঃপর যখন তাদের শুভদিন ফিরে আসতো, তখন তারা বলতো এটা তো আমাদের প্রাপ্য। আর যদি তাদের নিকট অকল্যাণ এসে উপস্থিত হতো, তখন তা মূসা এবং তার সঙ্গীদের অশুভ কারণরূপে মনে করতো। শুনে রাখো! তাদের অকল্যাণ তো আল্লাহ্র কাছেই। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই অজ্ঞ’’।(৪)
আল্লাহ আরো বলেন‘হে নবী আপনি বলুন! আল্লাহ ব্যতীত নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের কেউ গায়েবের খবর জানে না।’(৫)
এছাড়াও হাদিসে এসেছে
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গণক বা জ্যোতিষীর কাছে এলো, অতঃপর তাকে সত্যায়ন করল, সে মুহাম্মাদের ওপর অবতীর্ণ বস্তুর ওপর কুফরি করল।(৬)
'হজরত সাফিয়া বিনতে আবু উবাইদ (রা.) নবীজীর জনৈক স্ত্রী থেকে বর্ণনা করে বলেন, নবীজী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গণক ও জ্যোতিষীর কাছে যায় এবং তাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করে তার চল্লিশ দিনের নামাজ কবুল হয় না।’(৭)
এছাড়া এই সব অনুষ্ঠান গুলোর মাধ্যমে আল্লাহ কে ভুলে থাকা,অশ্লীলতা ছড়ানো,অপচয় করা ইত্যাদি হয়ে থাকে যা মুসলমানদের সাথে একেবারেই যায় না।
আমরা এইসব বিজাতীয় আত্মকেন্দ্রিক উৎসব পালন না করে আল্লাহর ইবাদতে দিনটি কাটাতে পারি।আমরা ভাবতেই ভুলে যাই আবারো একটি বছর আমার মাঝ থেকে চলে গেছে,মৃত্যু আমার সন্যিকটে।
#রেফারেন্স
(১)সূনানে আবূ দাঊদঃ৪০৩১
(২)আসসুনানুল কুবরাঃ১৮৮৬২
(৩)আসসুনানুল কুবরাঃ১৫৫৬৩
(৪)সূরা আরাফঃ৩১
(৫)সূরা নামলঃ৬৫
(৬)মুসনাদে আহমদঃ৯৫৩৬
(৭)মুসলিমঃ২২৩০
আমি কোনো লেখক নই,কিছু তথ্য কালেক্ট করে একটু অগোছালো লেখার চেষ্টা।
মোঃ আতিকুল ইসলাম হামিম
জন্মদিন উপলক্ষে কাউকে উপদেশ মূলক মেসেজ দেয়ার বিধান কি?
-------------------
প্রশ্ন: জন্মদিন পালন জায়েজ নয় তা জানি। এক্ষেত্রে কাউকে মেসেজে উইশ নয় (happy birth day),কিন্তু remind মূলক মেসেজ দেয়া কি অনুচিত হবে? (no birth day wish or celebration but remember that u have some responsibility as a muslim.......like this)?
উত্তর:
জন্ম দিবস পালন করা অমুসলিমদের কালচার। মুসলিমগণ অমুসলিমদের ধর্মীয় বা কালচারের বিষয় থেকে বিরত থাকবে-এটাই ইসলামের নির্দেশ।
সুতরাং জন্মের দিনকে উপলক্ষে করে বিশেষ কিছু করা ঠিক নয়। আপনি যদি তাকে উপদেশ মূলক কোন বার্তা দিতে চান তাহলে তা বছরের যে কোন সময় করা যাবে। এক জন মুসলিম আরেকজনকে উপদেশ দিবে, তার কল্যাণ কামনা করবে, তাকে ভালবাসবে, তার জন্য দুয়া করবে, তাকে উপহার দিবে...এগুলো তো ইসলামের শিক্ষা। এ জন্য কারও জন্ম দিবসকে নির্দিষ্ট করা ঠিক নয়। বরং যে কোন দিন যে কোন সময় তা করা যায়।
মোটকথা, এমন কিছু করা ঠিক নয়, যা মানুষকে পাশ্চাত্যের কালচারের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে। আল্লাহ তাওফিক দানকারী।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
Abdullahil Hadi
জুবাইল, সৌদি আরব
আলহামদুলিল্লাহ এতো সুন্দর উত্তর দেওয়ার জন্য শুকরিয়া আদায় করছি .......... আমিন





