অপূর্ণ_জীবন


 


সাফাত কাত হয়ে শোয়া থেকে অন্যপাশে ফিরে। একি! অন্যপাশে ফিরে তো ও পুরো থ! কে ও? সাফাতের সামনে কে যেন তাঁর বড় ঘন কালো মেঘের মতো চুলগুলোকে আঁচড়াচ্ছে। পরনে তাঁর নীল শাড়ী। এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি। সাফাত তাকে চিনতেই পারছে না। কে এই রমনী যে ওর সামনে তাঁর কোমড় সমান মেঘমালার মতো কেশগুলো ছেড়ে দিয়েছে? তাও আবার ওর পছন্দের রঙের শাড়ী পরে। সাফাত চোখ কচলিয়ে আবার তাঁর দিকে তাকায়। সে তাঁর মতো চুলগুলো আঁচড়াচ্ছে। ও তাঁর পরিচয় না মেলাতে পেরে তাকে ডাকই প্রশ্নই করে বসি,


- এই কে তুমি?


সাফাতের ডাকে মেয়েটা রীতিমতো কেঁপে উঠে। দ্রুত চিরুনিটা রেখে মাথায় কাপড় দিয়ে ওর দিকে ফিরে তাকায়। এবার সাফাত স্পষ্ট দেখতে পারছে ও কে। রহস্যময় এই রমনী এখন আর অপরিচিতা নয় ওর কাছে। তাকে ও চিনি। সাফাত তাকে দেখা মাত্রই চোখটা বন্ধ করে ফেলে রাগে। কারণ সে আর কেউ নয় ওর স্ত্রী, মৌরি। কালো একটা মেয়ে। কিন্তু একটু আগেই মৌরিকে দেখে সাফাতের মনে হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী মায়াবী মেয়েটা ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু মুহূর্তেই আবার তা আঁধারে হারিয়ে গেল। সাফাতের প্রশ্নে মৌরি বলে উঠলো,


~ জ্বী আমি মৌরি। ভুলে গিয়েছেন?


- নাহ! কীভাবে ভুলবো তোমাকে? আমার জীবনটা...থাক সকাল সকাল দিনটা অার নষ্ট করতে চাইনা। আমি আরও ঘুমাবো।


এই বলে সাফাত আবার ঘুমিয়ে যায়। মেজাজটা খুব খারাপ লাগছে ওর। বিয়ে করেছে। কই একটু বউয়ের সাথে রোমান্স করবে কিন্তু এই কালো মেয়েকে ও দেখতেই পারে না। একদমই সহ্য হচ্ছে না ওর।


অন্যদিকে সকাল সকাল মৌরি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে বিতাড়িত হয়ে মুখটা মলিন করে তাড়াতাড়ি চুলটা বেঁধে রুম ত্যাগ করে একরাশ কষ্ট নিয়ে। বাড়ির নতুন বউ সে। অতএব তাঁর হাতের রান্না খাওয়ার জন্য সবাই ই বেকুল থাকবে।


মৌরি বেশ সাংসারিক একটা মেয়ে। নিজের বাসায় রোজ ওকেই নাস্তা, দুপুরের খাবার রান্না করতে হতো। আসলে রোজ বললে ভুল হবে যে কদিন ভার্সিটি অফ থাকতো সে কদিন ও ই রান্না করতো। ওর বাবা ওর হাতের রান্না খুব পছন্দ করতো। এই তো গতকালও বাবাকে রান্না করিয়ে খাইয়ে এসেছে। আর আজ সব ছেড়ে অচেনা মানুষের ভীড়ে পাড়ি জমিয়েছে। যেখানে নিজের স্বামীর কাছেই অবহেলিত ও। মেয়েদের জীবন বুঝি এমনিই? বাবার কাছে রাজকন্যা আর স্বামীর কাছে দাসী? বাবার কথা ভেবে মৌরির চোখ নোনা জলে ভরে আসে। আজ ওর প্রিয় বাবা আর ওর হাতের নাস্তা খেতে পারবে না। এতোদিন সেসব মানুষদের জন্য ও রান্না করেছে যারা ওকে আপ্রাণ ভালবাসতো। আর আজ যারা হয়তো ওকে নিয়ে কিছুক্ষণ পর উপহাস করবে তাদের জন্য ও রান্না করছে। এটাই বুঝি জীবন!


তাও সব তিক্ততা মেনে নিয়ে এই নতুন জীবনটাকে মৌরি সুন্দর করে সাজাতে চায়। শ্বশুর শ্বাশুড়ি যেন ওর কোন ভুল ধরতে না পারে ও সেভাবেই চলতে চায়। শত হলেও তাঁরা গুরুজন। তাদের সেবা করা খুশী করা সত্যি সাওয়াবের কাজ। মৌরি সে সাওয়াবটুকু চায়। তাই মনের মাধুরি দিয়ে সকালের নাস্তা বানাচ্ছে। ওর রান্নার হাত অসম্ভব ভালো। তার কারণ আবার এই কালো হওয়াই। ও কালো বলে ও একা একাই থাকতো। বাইরে ঘুরাঘুরি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা বাজি আরও কত কি। এসব কিছু থেকে ও দূরে থাকতো। সারাদিন মন দিয়ে পড়াশোনা করতো আর রান্না শিখতো। ঘরের কাজ করো। মাকে সাহায্য করতো। ছোট ভাইটাকে পড়াতো। এভাবেই ও ওর জীবনের ২২ টা বছর পার করেছে। এতে যে ও অখুশী তা কিন্তু নয়। ও বেশ খুশী এসবের জন্য। কারণ মৌরির কাছে ওসব অর্থহীন। তার চেয়ে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকাই ভালো। সাথে আল্লাহর ইবাদত। কারণ দিন শেষে আমাদের সবার আবার তাঁর কাছেই যেতে হবে। ও শুকরিয়া করে আল্লাহর কাছে ওকে কালো বানিয়েছে বলে। কোন সুন্দরী ফর্সা মেয়ে হলে হয়তো রূপের ঝলকে ও আল্লাহকে ভুলে না জানি কতই পাপে লিপ্ত হতো। তার চেয়ে এই জীবনটাই ভালো।


নাস্তা বানানো প্রায় শেষ। ঠিক সেই মুহূর্তে মৌরি ওর কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ পায়। কিছুটা আঁতকে উঠে ঘুরে তাকিয়ে দেখে ওর শ্বাশুড়ি।


~ আসসালামু আলাইকুম মা।

~ অলাইকুম আসসালাম। তুমি দেখি নাস্তা বানিয়ে ফেলেছো। এতো সকালে উঠলে কি করে? 

~ মা এটা আমার পুরনো অভ্যাস। আমি সকাল সকাল উঠে পড়ি।

~ বাহ! খুব ভালো। তুমি নতুন বউ। তুমি বানাতে গেলে কেন। আমিই বানাতাম। তুমি কষ্ট করলে শুধু শুধু। 

~ না না মা কি বলছেন। এটা আমার দায়িত্ব। আপনি অনেক কষ্ট করেছেন এতোদিন। আজ থেকে আপনার রেস্ট। আপনি শুধু বলবেন আমি তা তা করবো। 

~ মাশাল্লাহ মাশাল্লাহ। এরকম বউমা ক'জনের কপালে থাকে। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের একটা মনের মতো বউমা দিয়েছেন।


মৌরি অনেকটা অবাক হয় শ্বাশুড়ির কাছ থেকে এতো ভালো আচরণ পেয়ে। কি অমায়িক তাঁর আচরণ। একদম ওর নিজের মায়ের মতো। কিন্তু ওর মনে একটা প্রশ্ন অনেকক্ষণ যাবৎ ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই ও সেটা করেই ফেলে।


~ আচ্ছা মা কিছু মনে না করলে একটা প্রশ্ন করি?

~ করো করো। কিচ্ছু মনে করবো না। 

~ আমি তো কালো। আর উনি কত্তো সুন্দর ফর্সা। তাহলে কেন উনার জন্য আমাকে পছন্দ করলেন? আর কেনই বা আপনার আর বাবার আমাকে পছন্দ হলো? কেন মা?


সাফাতের মা মৌরির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,


~ সত্যি বলতে মা প্রথমে আমারও তোমাকে পছন্দ হয়নি। কিন্তু সাফাতের বাবা আমাকে কিছু কথা বলেছেন। আমি ভেবে দেখেছি। কথাগুলো খুব মূল্যবান ছিল। শোনো, তোমার গায়ের রঙটা শুধু কালো আর বাকি সবদিক থেকে কিন্তু তুমি ১০০/১০০। এই যে তোমার মুখখানা একদম মায়ায় পরিপূর্ণ। এই মুখের দিকে তাকালেই তো তোমার মায়ায় পরে যাবে সবাই। তাই সাদা কালো এগুলো আসলে কিছুই না। সবই তো আল্লাহর সৃষ্ঠী। ভেদাভেদের প্রশ্নই ওঠে না।


মৌরির চোখে অশ্রু। ও সাফাতের মায়ের হাত ধরে বলে,


~ মা, বিশ্বাস করুন আমার মনে হচ্ছে আমি স্বপ্ন দেখছি। এরকম শ্বাশুড়ি পাওয়া খুব দুষ্কর। জানি না আমি স্বপ্ন দেখছি কিনা তবে আমি ভাগ্যবতী আপনার মতো একজন শ্বাশুড়ি পেয়ে।


~ আমি কি শুধু তোমার শ্বাশুড়ি? তোমার মা না? নাকি আমাকে মা ভাবা যায় না?


মৌরি মা বলে কাঁদতে কাঁদতে সাফাতের মাকে জড়িয়ে ধরে। সাফাতের মা ওকে স্বান্ত্বনা দেয়। সত্যিই এরকম শ্বাশুড়ি হয়তো সবার কপালে থাকে না। কিন্তু আবার থাকে। যারা বউমার ভুল ধরে না। বরং তাকে শুধরে দেয়। তাঁর মা হয়ে তাঁর পাশে থাকে। মৌরির পরিবারের পর আজ আরো দুজন যুক্ত হলো যাদের কাছে ওর কালো হওয়াটা কোন সমস্যা না। মৌরি আজ অনেক খুশী। তবে মনের ভিতরে এক আকুলতা রয়েই গিয়েছে। কারণ সাফাত ওকে মেনে নেয় নি। সাফাতের মা বলে উঠে,


~ বউমা নাস্তা তো বানানো শেষ। তুমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সাফাতকে নিয়ে আসো আমি ততক্ষণে নাস্তা টেবিলে দি।


~ না না মা। আমিই দিচ্ছি।


~ এই মেয়ে তুমি কি বলোতো? নতুন বিয়ে হয়েছে। কই খালি সুযোগে থাকবে জামাইয়ের কাছে যাওয়ার। আর তুমি আরও দূরে থাকতে চাচ্ছো। আসল কাহানী কি বলো তো?


মৌরি সাফাতের সম্পর্কে কিছু বলতে চায় না। কারণ সাফাত না করেছে। ও একটা হাসি দিয়ে বলে,


~ আচ্ছা মা যাচ্ছি।


~ যাও যাও। খুব দ্রুত নাতির মুখ দেখতে চাই কিন্তু। হাহা।


মৌরি লজ্জায় আর কষ্টে রান্না ঘর থেকে বের হয়ে হাত মুখ ধুয়ে ওর রুমে যায়। তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে আয়নায় নিজের কালো মুখটা একবার দেখে সাফাতের কাছে যায় ও। গুটি গুটি পায়ে সাফাতের কাছে এসে দাঁড়ায় ও। সাফাত ঘুমিয়ে আছে। কীভাবে ডাকবে ও সাফাতকে? যদি রেগে যায়? যদি আবার কথা শুনায়? তাও মায়ের আদেশ ডাকতে তো হবেই। মৌরি আস্তে করে বলল,


~ এই যে উঠুন মা ডাকছে। এই যে...


সাফাতের কোন খবর নাই। মৌরি হাল না ছেড়ে এবার আস্তে করে গুতো দিয়ে বলে,


~ এই যে উঠুন। নাস্তা খাবেন না? মা ডাকছে।


এবার সাফাত চোখ মিলে তাকায়। মৌরি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। সাফাত ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ও নিচের দিকে ভয়ে তাকিয়ে আছে। সাফাত কিছু না বলে আস্তে করে উঠে বসে। মৌরি খুব নম্রতার সহি বলে,


~ মা আমাদের নিচে ডেকেছে একসাথে। যদি ফ্রেশ হয়ে আসতেন তাহলে একসাথে নিচে যেতাম।


কথাগুলো মৌরি নিচে তাকিয়েই বলেছে। সাফাত উঠে দাঁড়ায়। কোন কথা বলে না। মৌরি সেভাবেই দাঁড়িয়ে ছিল। সাফাত আস্তে আস্তে ওর দিকে আগাচ্ছে। মৌরি সাফাতকে ওর দিকে এগোতে দেখে ভয়ে পিছাতে থাকে। সাফাত এগোচ্ছে মৌরি পিছাচ্ছে। একসময় ও পিছাতে পিছাতে সোফায় পড়ে যায়। আর সাফাতের দিকে তাকায়। সাফাত ওর ডান হাত তুলে থাপ্পড় দেওয়ার মতো করলে মৌরি প্রচন্ড ভয়ে চোখ বন্ধ করে নিজের হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে ফেলে। আর সাফাত মৌরির পাশে থাকা ওর তোয়ালেটা নিয়ে নেয়। মৌরি ওর শরীরে কোন স্পর্শ না পেয়ে হাত সরিয়ে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে সাফাত তোয়ালে হাতে দাঁড়িয়ে আছে। সাফাত ওর দিকে একটা রাগী লুক দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। মৌরি সেখানেই "থ" মেরে বসে আছে। ও ভেবেছে সাফাত ওকে মারবে। কিন্তু আসলে সাফাত তোয়ালে নিয়েছে। সাথে ওকে ভয় দেখিয়েছে। মৌরি কিছুক্ষণ পর উঠে নিজেকে একটু গোছাতে শুরু করে। আয়নায় তাকিয়ে ও মনে মনে বলে,


~ এই আয়না বলনা আমাকে, তোরও কি কালো মেয়ে অপ্রিয়? তুইতো প্রতিদিন সময় করে আমাকে দেখিস। তোরও কি আমাকে দেখতে খারাপ লাগে? অসহ্য লাগে তোর? বলনা আয়না। কালো মেয়েদের কপালে কি কখনো সুখ নেই? আচ্ছা তোর ভিতরে যে আরেক আমি আছি। সেও কি কালো? নাকি তাঁর গায়ের রঙ সাদা? তাঁর স্বামী নিশ্চয়ই তাকে অনেক ভালবাসে? সে কতো ভাগ্যবতী। আর আমার স্বামী! আমাকে ঘৃণা করে৷ এটাই বোধহয় আমার জীবন। তাই না?


এরমধ্যে সাফাত বেরিয়ে আসে। সাফাতকে দেখে মৌরি মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। সাফাত মুখ মুছতে মুছতে মনে মনে বলে,


- মেয়েটার মধ্যে কোন লজ্জা সরম নাই। জামা কাপড় চেঞ্জ কি ওর সামনে করবো? দাঁড়াও। আমাকে দেখার তো অনেক সখ তোমার। তোমার সামনেই জামা চেঞ্জ করবো অাজ।


বলেই সাফাত সুন্দর করে ওর পরনের গেঞ্জিটা ঠাস করে খুলে ফেলে। ওর উদাম বুকটা এখন সম্পূর্ণ মৌরির সামনে। মৌরির চোখ ডিমের মতো হয়ে গিয়েছে এ দৃশ্য দেখে। ও নড়তেও পারছে না। একদম পাথর হয়ে গিয়েছে। পুরো মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গিয়েছে। ও মনে মনে বলছে,


~ একি উনি এটা কি করলেন! আমার সামনে জামা খুলে ফেললেন? ওনার কি লজ্জা করছে না? আমার তো লজ্জায় গা হাত পা কাঁপছে। হায়! আল্লাহ আমি একি দেখছি। গলা শুকিয়ে আসছে।


মৌরি লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলে। সাফাত গেঞ্জিটা দ্রুত পরে ওর কাছে গিয়ে বলি,


- কি এখন লজ্জা পাচ্ছো কেন? এতক্ষণ তো লজ্জা সরম খেয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলে। তখন লজ্জা করে নাই? ফ্রেশ হয়ে এসেছি। জামা চেঞ্জ করবো। আর তুমি খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছো। মাথায় বুদ্ধি নাই? বোকা কালো মেয়ে।


মৌরি সাফাতের বকা খেয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। খুব খারাপ লাগছে ওর। বিয়ের রাত থেকেই সাফাত ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করেই যাচ্ছে। আর ও সব মেনে নিচ্ছে।


মৌরিকে বকা দিয়ে সাফাত আবার বলে,


- এতক্ষণ তো কান ঝালাপালা করে ফেলেছো এখন কি যাবা? নাকি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবা?


~ না না চলুন।


সাফাতের পিছে পিছে মৌরি হেঁটে নাস্তার টেবিলে আসে। এসেই,


~ আসসালামু আলাইকুম বাবা। 

- অলাইকুম আসসালাম বউমা। কেমন আছো তুমি? 

~ আলহামদুলিল্লাহ বাবা। আপনি?

- আলহামদুলিল্লাহ। সাফাত বস।


সাফাত বসে। ওর মা বলে উঠে,


~ আজকে সম্পূর্ণ নাস্তা আমাদের নতুন বউমা বানিয়েছে। আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি মৌরির সব বানানো শেষ। চিন্তা করো কত্তো পাকা মেয়েটা। 

- এরজন্যই তো আমাদের একমাত্র ছেলের জন্য মৌরিকে পছন্দ করেছি। আমার চোখ সবসময় আসল খাটিটাই চিনে। মৌরি মাকে প্রথম দিন দেখেই বুঝেছি ও খুব ভালো। তাইতো ওকে পছন্দ করে আমাদের বউমা করেছি। কিরে মা তুই খুশীতো আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে?


মৌরি সাফাতের দিকে তাকায়। সাফাত ওর দিকেই তাকিয়ে ছিলো। মৌরি সাফাতের দিকে তাকিয়েই বলে,


~ জ্বী বাবা আমি অনেক খুশী। আচ্ছা আমি আপনাদের খাবার বেড়ে দিচ্ছি। মা আপনি বসুন।


~ আচ্ছা দেও।


মৌরি প্রথমে সাফাতের বাবাকে তারপর মাকে আর সবশেষে সাফাতকে খাবার বেড়ে দেয়৷ সাফাতের বাবা বলে,


- মা তুমিও সাফাতের পাশে বসো। আমরা দুজন তোমাদের একসাথে দেখি।


~ হ্যাঁ মা বসো তুমি।


মৌরি সাফাতের দিকে তাকিয়ে ওর পাশে বসে। আর নাস্তা নিয়ে খাওয়া শুরু করে সবার সাথে। সবাই চুপচাপ খাচ্ছে। মৌরির মনটা খচখচ করছে। কেউ কিছু বলছে না। তাহলে কি রান্না ভালো হয়নি? কিন্তু খাবার কিছুই বাকি নেই। সবাই সব নিয়ে খেয়ে ফেলেছে৷ মৌরি যখন হতাশায় ভুগছে তখন ওর শ্বশুর বলে উঠে,


- মাশাল্লাহ। আজ যা নাস্তাটা খেলাম না। আহ! প্রাণ জুড়িয়ে গিয়েছে। মৌরি মা মাশাল্লাহ। তোমার হাতের রান্নাতো অসম্ভব সুন্দর। ঠিক আমার মায়ের রান্নার মতো। আহ! মায়ের রান্নার কথা মনে পড়ে গিয়েছে। কি তাইনা সাফাতের মা?


~ একদম মনের কথা বলেছো তুমি। আমিও খেতে খেতে তাই ভেবেছি। কিরে সাফাত তুই কিছু বল।


- হুম ভালো হইছে।


~ ছেলেটা একদমই বোকা। অসম্ভব ভালো হয়েছে রান্না। মাশাল্লাহ। এখন থেকে বউমার হাতের রান্নাই খাবো।


~ ঠিক আছে।


~ দেখছো আবার ঠিক আছেও বলে।


- সাফাত খাওয়া দাওয়া শেষ হলে বউমাকে নিয়ে ওর বাসা থেকে ঘুরে আয় যা।


- এগুলোর আবার কিসের দরকার বাবা?


~ মেয়েটার বুঝি ওর বাবা-মার কথা মনে পড়ে না? তুই কি বোকা নাকি?


- যাওয়া সময় কিছু কিনে নিয়ে যাস। বোকার মতো খালি হাতে যাস না আবার শ্বশুর বাড়ি।


- আচ্ছা আচ্ছা। (বিরক্ত হয়ে)


মৌরি কিছু বলে না। চুপচাপ খেয়ে সব গুছিয়ে ওর রুমে আসে। এসে দেখে সাফাত একটা পাঞ্জাবি আর পায়জামা পরে রেডি হয়ে বসে আছে। সাফাত মৌরিকে দেখে রাগী ভাবে বলে,


- আমি বাইরে অপেক্ষা করছি তুমি ৫ মিনিটে রেডি হয়ে আসবে।


~ আচ্ছা।


সাফাত বাইরে বসে অপেক্ষা করছে। বেশ কিছুক্ষণ পর ওর মনে পড়ে যে ও ফোনটা রুমের মধ্যে রেখে এসেছে। তাই উঠে কিছু না ভেবেই ওর রুমে ঢুকে পড়ে। সাফাত ওর রুমে ঢুকে পুরো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে মৌরি দেখে৷ কারণ...


চলবে....

No comments:

Post a Comment