১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : (প্রতিটি প্রশ্নের মান – ২)
১.১ ‘ভাদুলি’ ব্রত কখন উদ্যাপিত হয় ?
উত্তর- ভাদুলি ব্রত বর্ষাকালের শেষের দিকে মেয়েরা করে থাকে। বৃষ্টির পরে আত্মীয় স্বজনদের সমুদ্রযাত্রা থেকে স্থলপথে নিজেদের বাসায় ফিরে আসার কামনায় তারা এই ব্রত করে। নদীর পাড়ে নানা আলপনা এঁকে, গান গেয়ে নদী মাতা কে জানায় তাদের প্রার্থনা।
১.২ সন্ধ্যায় হাটের চিত্রটি কেমন ?
উত্তর- কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত তার ‘হাট’ কবিতায় সন্ধ্যাবেলার বাস্তব চিত্রটুকু তুলে ধরেছেন। দূরের গ্রামগুলিতে প্রদীপ জ্বললেও হাট অন্ধকারে থেকে যায়। ক্লান্ত কাকের পাখনায় ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নেমে আসে। হাটের দোচালা দোকানগুলি যেন চোখ বুজে বিশ্রাম নেয়, শুধু শোনা যায় জীর্ণ বাঁশের বুকে বাতাসের ফুঁ তে ওঠা বিদ্রূপের সুর।
১.৩ কোন্ তিথিতে রাঢ়বঙ্গের কৃষিজীবী সমাজের প্রাচীন উৎসব গো-বন্দনা, অলক্ষ্মী বিদায়, কাড়াখুঁটা, গোরুখুটা প্রভৃতি পালিত হয় ?
উত্তর- কালীপূজা অর্থাৎ কার্তিকের অমাবস্যা তিথিতে রাঁঢ়বঙ্গের কৃষিজীবী সমাজের প্রাচীন উৎসব গো- বন্দনা,অলক্ষী বিদায়, কাঁড়াখুটা, গরুখুঁটা প্রভৃতি পালিত হয়। এই উৎসবের সময় সমস্ত ঘরদোর পরিষ্কার করে আলপনা দিয়ে সাজানো হতো।
১.৪ কেমন যেন চেনা লাগে ব্যস্ত মধুর চলা– কবি কার চলার কথা বলেছেন ?
উত্তর- কবি অমিয় চক্রবর্তী তাঁর ‘পিঁপড়ে’ কবিতায় ছোট ছোট পিঁপড়েদের চলার কথা বলেছেন। পিঁপড়ে গুলোর নিজেদের মধ্যে কথা না বলে, ব্যস্ত ভাবে সারি দিয়ে চলা- কবির মনে মুগ্ধতার সৃষ্টি করে।
১.৫ সে বাড়ির নিশানা হয়েছে আমগাছটি’— ‘ফাকি’ গল্পে গোপালবাবু কীভাবে তাঁর বাড়ির ঠিকানা জানাতেন ?
উত্তর- ‘ফাঁকি’ গল্পে আমরা দেখতে পাই গোপাল বাবুকে কেউ তার বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতেন – কাঠজোড়ি নদীর ধার বরাবর পুরীঘাট পুলিশের ফাঁড়ির পশ্চিমদিকে যেখানে পাঁচিলের মধ্যে আমগাছ দেখবেন- সেইখানে আমাদের বাড়ি। এভাবেই আমগাছটি তাদের বাড়ির নিশানা বা ল্যান্ডমার্ক হয়ে উঠেছিল।
১.৬ তুমি যে কাজের লোক ভাই ! ওইটেই আসল। কে, কাকে, কখন একথা বলেছিল ?
উত্তর- ফাঁকি’ গল্পে আমরা দেখতে পাই গোপাল বাবুকে কেউ তার বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতেন – কাঠজোড়ি নদীর ধার বরাবর পুরীঘাট পুলিশের ফাঁড়ির পশ্চিমদিকে যেখানে পাঁচিলের মধ্যে আমগাছ দেখবেন- সেইখানে আমাদের বাড়ি। এভাবেই আমগাছটি তাদের বাড়ির নিশানা বা ল্যান্ডমার্ক হয়ে উঠেছিল।
২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো : (প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৩)
২.১ ‘হঠাৎ একদিন ঝমঝম করে পড়ে বৃষ্টি’— তখন কৃষকরা কীভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ‘মরশুমের দিনে’ রচনাংশ অনুসরণে লেখো।
উত্তর- সুভাষ মুখোপাধায়ের ‘মরশুমের দিনে’ গদ্যাংশে দেখা যায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হঠাৎ একদিন কমঝম করে বৃষ্টি হওয়ার পর চাষিদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। হোগলার তৈরি মাথালে মাথা-পিঠ ঢেকে গামছা পরে তারা বেরিয়ে পড়ে চাষের কাজে। বর্ষা থাকতে থাকতেই তারা ধান রোয়া ও আল বাঁধার কাজ সেরে নেয়। ধান ছাড়াও কারো আছে পাটের জমির বিস্তর কাজ।
২.২
শিশির বিমল প্রভাতের ফল,
শত হাতে সহি পরখে ছল—
বিকালবেলায় বিকায় হেলায়
সহিয়া নীরব ব্যথা’।— উদ্বৃতাংশের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর- কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘হাট’ কবিতা থেকে উদ্ধৃতাংশটি নেওয়া হয়েছে। সকালবেলা হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা ফলগুলি সারাদিন শতহাতে পরখের ছলনা সহাকরে বিকালবেলায় অবহেলার সঙ্গে সামান্য দামে বিক্রি হয়ে যায়। প্রাপ্ত দাম বা সম্মান থেকে বঞ্চিত হওয়ার নীরব কথা এখানে প্রকাশিত হয়ে
২.৩ ‘…….এমন অভূতপূর্ব অবস্থায় আমায় পড়তে হবে ভাবিনি’। – গল্পকথক কোন অবস্থায় পড়েছিলেন ?
উত্তর- শিবরাম চক্রবর্তীর ‘এক ভূতুরেকান্ড’ গল্প থেকে উদ্ধৃত উক্তিটি নেওয়া হয়েছে। সাইকেলের চাকা ফেঁসে যাওয়ায়, লেখক খুব আস্তে আস্তে চলা একটি ছোট্ট বেবি অস্টিন গাড়িতে উঠে আরাম করে বসেন। লালপুরার মোড়ে তিনি যে নামবেন, সেকথা ড্রাইভারকে বলতে গিয়ে দেখলেন, ড্রাইভার নেই, গাড়ির ইঞ্জিনও চলছে না অথচ গাড়িটি ঠিক পথেই চলছিল। গল্পকথক এই ভূতুরে অবস্থায় পড়ে ছিলেন ।
২.৪ ‘বাঘ বাবা-মা বদলে নিলেন বাড়ি’ – তাদের বাড়ি বদলাতে হয়েছিল কেন ?
উত্তর- নবনীতা দেবসেনের ‘বাঘ’ কবিতায় ছোট্ট বাঘটি থাকত তার বাবা-মায়ের সাথে পাখিরালয়ে। সেখানে শুধুই পাখি। ছাগল, ভেড়া, হরিণ কিছুই নেই, খাবে কি? খিদের জ্বালায় সে পাখি ধরতে লাফ দেয় কিন্তু পাখিরা উড়ে পালায়। এরপর সে যায় নদীতে কাঁকড়া ধরতে। গর্তে থাবা ঢোকাতেই কাঁকড়া তার পা চিমটে ধরে। অবশেষে সে কাদায় মেনিমৎস ধরতে চেষ্টা করলে লজ্জায়, বাঘ বাবা-মা বাড়ি বদলে নেয়।
৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
৩.১ শব্দজাত, অনুসর্গগুলিকে বাংলায় কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় এবং কী কী ? ২ + ২
উত্তর- শব্দজাত, অনুসর্গ গুলিকে বাংলায় তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। এগুলি হলো – (১) তৎসম অনুসর্গ, (২) তদ্ভব অনুসর্গ এবং (৩) বিদেশি অনুসর্গ
৩.২ উপসর্গের আরেক নাম ‘আদ্যপ্রত্যয় কেন ? ২
উত্তর- উপসর্গের আরেক নাম আদ্যপ্রত্যয়, কারণ এইগুলি শব্দের আদিতে (আগে) বসে সেই শব্দের অর্থকে আংশিক বা পুরোপুরি বদলে দেয়।
৩.৩ ‘ধাতুবিভক্তি’ বলতে কী বোঝ ? ২
উত্তর- যে বিভাক্তি ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয় তাকে ধাতু বিভক্তি বলে। যেমন – দেখ্ + তে = – দেখতে।
৩.৪ শব্দযুগলের অর্থপার্থক্য দেখাও – আশা / আসা, সর্গ/ স্বর্গ ২
উত্তর-
আশা- আকাঙ্ক্ষা, আসা- আগমন সর্গ – কাঝের অধ্যায়, স্বর্গ – দেবলোক
৩.৫ পদান্তর করোঃ জগত, জটিল ২
উত্তর- জগৎ জাগতিক জটিল – জটিলতা
৩.৬ অনধিক ১০০ শব্দে অনুচ্ছেদ রচনা করো বাংলার উৎসব ৫
উত্তর-
ভুমিকাঃ বাঙালির জীবন যাপন ক্ষুদ্র হলেও কিন্তু উৎসবের দিনে তারা প্রত্যেকের সঙ্গে মিশিয়ে হয়ে যায় বৃহৎ। গতানুগতিক জীবনধারা, নিজেকে অপরের কাছে প্রকাশ করা ও বিভিন্ন জিনিস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বাঙালিরা বিভিন্ন রকম উৎসবের আয়োজন করে থাকে।
বাঙালির উৎসবের বৈচিত্র্য অনেক রকম যেমন জাতীয় উৎসব, সামাজিক উৎসব, ধর্মীয় উৎসব, লোক উৎসব ইত্যাদি।
বাংলার জাতীয় উৎসবঃ
বাঙালিরা যে সমস্ত জাতীয় উৎসব পালন করে তার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংহতি ও ঐক্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করে। যেমন স্বাধীনতা উৎসব, প্রজাতন্ত্র দিবস
বাংলার সামাজিক উৎসবঃ
বাঙালিরা সামাজিক উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে মিলন ও আদান প্রদানের ভূমিকাকে গড়ে তোলে। বাঙালিরা যে সমস্ত সামাজিক উৎসব পালন করে তা হল বিবাহ অন্নপ্রাশন
বাংলার ধর্মীয় উৎসবঃ
হিন্দু বাঙালি , বাঙালি মুসলমান, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, শিখ প্রভৃতি ধর্মালম্বী মানুষদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান বিভিন্ন রকমের।
বাঙালি মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব গুলি হল যেমন ঈদ উল ফিতর, মহরম ইত্যাদি।
বাঙালি হিন্দুরা যে সমস্ত ধর্মীয় উৎসব পালন করে তার মধ্যে হল দুর্গা পূজা, সরস্বতী পুজো, জন্মাষ্টমী, কালীপুজো, ইত্যাদি।
খ্রিষ্টানরা বড়দিন ও গুড ফ্রাই ডে পালন করে ,বৌদ্ধরা বুদ্ধ পূর্ণিমা ও শিখদের গুরু নানকের জন্মদিন।
বাংলার লোক উৎসব
বাঙালির জীবন ধারার সঙ্গে অনেক রকমের লোক উৎসব এর প্রচলন আছে। বাঙালিরা যে সমস্ত লোক উৎসব পালন করে সেগুলি হল ভাদু, টুসু ইত্যাদি।
উপসংহার: এখন বাঙালীদের মধ্যে সেই উৎসবের আর কল্যাণ কামনা নেই আর তেমন আনন্দও নেয়।
বাঙালিরা এই সমস্ত উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা এক বিশাল আনন্দ উপভোগ করে।বাঙালির সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে তার উৎসবের বৈচিত্র্যকে সূচিত করেছে।

No comments:
Post a Comment