১.১ বর্তমান যুগের ইংরেজি ও বাংলা আত্মনির্ভরশীল নয়। – প্রাবন্ধিক কোন্ অর্থে ‘আত্মনির্ভরশীল’শব্দের প্রয়াোগ ঘটিয়েছেন? বর্তমান যুগের ইংরেজি ও বাংলাকে কেন তিনি আত্মনির্ভরশীল মনে করেননি ?
উ:- মনের কোনাো নতুন চিন্তা বা অনুভূতি প্রকাশের জন্য নতুন শব্দের প্রয়াোজন হলে সংস্কৃত ভাষার মতাো নিজস্ব শব্দভাণ্ডারে অনুসন্ধান না করে বাংলা ও ইংরেজি অন্য ভাষা থেকে শব্দ গ্রহণ করে। এই প্রসঙ্গেই লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী আলাোচ্য উক্তিটি করেছেন।
১.২ ‘আমি এই ঘাসে বসে থাকি - কোন্ সময়ে কবি ঘাসে বসে থাকেন? তখন প্রকৃতির কেমন রূপ তার চোখে ধরা পড়ে ?
উ:- জীবনানন্দ দাশের লেখা আকাশের সাতটি তাঁরা কবিতায় যখন আকাশে সাতটি তারা ফুটে ওঠে তখন কবি ঘাসের উপর বসে থাকেন। মা দিবসের অবসানে যখন সন্ধ্যা শান্ত অনুগত হয়ে বাংলার বুকে নেমে আসে, তখন কবি টের পান তথা বুঝতে পারেন এক কেশবতী কন্যার আগমন বার্তা। সেই নারী যেন চুল দিয়ে জাম কাঠাল-হিজলের বনে চুম্বনরত। তিনি টের পেয়ে যান নরম ধানের গন্ধ বা কলমির ঘ্রাণে, পুকুরের জলে বা হাঁসের পালকে পল্লিবাংলার আসল রূপ।
১.৩ ‘কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু। – পত্ৰলেখক স্বামী বিবেকানন্দ ভগিনী নিবেদিতাকে কীরূপ বিঘ্নের কথা জানিয়েছেন?
উ: আলাোচ্য উক্তিটি স্বামী বিবেকানন্দের চিঠি রচনা থেকে নেওয়া। চিঠি থেকে জানা যায় যে ভগিনি নিবেদিতা ভারত বর্ষের নারী সমাজের কল্যাণ সাধনের জন্য তার দেশ থেকে ভারতবর্ষে আসতে চান। স্বামীজি তাই তাকে নানা বিঘ্নের কথা জানান।
২.আমাদের দেশের আবহাওয়া তার প্রতিকূল।
১.৪ ‘নটেগাছটা বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু মুড়য় না। — উদ্ধৃতাংশে নটেগাছের প্রসঙ্গ উত্থাপনে ‘আবহমান’ কবিতায় রূপকথার আবেশ কীভাবে রচিত হয়েছে, বিশ্লেষণ করাো।
ঘরের কাছেই উঠান, তার পাশে থাকা লাউমাচা চিরন্তন সত্যের প্রতীক হিসেবে বিদ্যমান। নটেগাছ বুড়য় অর্থাৎ আমাদের বয়স বাড়ে, স্মৃতির ভাণ্ডার বাড়তেই থাকে, কিন্তু তা শেষ হয়ে যায় না, তথা ফুরিয়ে যায় না কখনাোই। তেমনিভাবে ফুরিয়ে যায় না যাওয়া-আসা বা আসা-যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।বরং দুরন্ত পিপাসা বাড়িয়ে দেয় এই নস্ট্যালজিক স্মৃতিকাতরতা। ঘাসের গন্ধ গায়ে মাখা, আকাশের তারায় তারায় স্বপ্ন এঁকে রাখা, যন্ত্রণার আগুন না-নেভা, দুঃখের বাসি না-হয়ে যাওয়া, সূর্যের ওঠা ও নামা এ সমস্ত কিছুর কিছুই ফুরায় না। কারণ ফুরাতে পারে না চিরন্তন সত্যের রীতি অনুযায়ী। নটেগাছ সেই কারণেই কবির কল্পনায় মুড়িয়ে যায়নি।
১.৫ ... আর আহারের সংস্থান রহিল না। - রাধারাণী ও তার মায়ের দুর্গতির চিত্র ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশে কীভাবে চিত্রিত হয়েছে, তা উদ্ধৃতাংশের আলাোকে আলাোচনা করাো।
উ:- জনৈক মামলাবাজ জ্ঞাতির কারণে স্বামীর বাড়ি ভদ্রাসন থেকে বিতাড়িত সম্পূর্ণ সহায়সম্বলহীন রাধারাণীর মা ও রাধারাণীর কথাই উদ্ধৃতিটিতে বলা হয়েছে। রথযাত্রার আগে রাধারাণীর মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ল, একেবারেই শয্যাশায়ী। এই অবস্থায় কাজ করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে রাধারাণী ছাোটো, তার পক্ষেও উপার্জন অসম্ভব। ঘরেও সঞ্চিত আহার্য নেই, তাই তাদের আর আহার চলে না।
উ:- প্রফেসর শঙ্কু তার দিনলিপিতে কর্ভাস বেশ কিছু তথ্য দরকারি পাোস্ট করেছেন। ২২ অক্টোবরের দিনলিপিতে প্রফেসর শঙ্কু লিখেছেন, কর্ভাস এখন সাধারণ কাকের থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে চায়। বজ্র-বিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাতে একটি কাক মারা গেলে, সেখানে বহু কাকের সমাগম হলেও কর্ভাস তাদের সঙ্গে শামিল হয়নি।সে একমনে পেনসিল মুখে দিয়ে মৌলিক সংখ্যা লিখে চলেছে 2, 3, 5, 7, 11, 13 প্রভৃতি। এই দু-দিনের দিনলিপিতে কর্ভাসের শিক্ষানবিশের অনেক তথ্যই প্রকাশ করেছেন প্রফেসর শঙ্কু।যেসব শব্দকে ভাঙা বা বিশ্লেষণ করা যায় না এবং যার সঙ্গে কোনাো প্রত্যয়, বিভক্তি বা উপসর্গ যুক্ত থাকে না, তাদের মৌলিক শব্দ বলে।
২. নীচের ব্যাকরণগত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
২.১ মৌলিক শব্দ বলতে কী বোঝ?
উ:- যেসব শব্দকে ভাঙা বা বিশ্লেষণ করা যায় না এবং যার সঙ্গে কোনো প্রত্যয়, বিভক্তি বা উপসর্গ যুক্ত থাকে না, তাদের মৌলিক শব্দ বলে।
উদাহরণ: মা, বাবা, গোলাপ, বই, হাত, আকাশ ইত্যাদি।
২.২ নবগঠিত শব্দকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় এবং কী কী?
উ:- নবগঠিত শব্দকে সাধারণত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলোর মধ্যে কিছু হলো অবিমিশ্র শব্দ যেমন অনিকেত, অতিরেক ইত্যাদি। আবার কিছু শব্দ ভিন্ন-ভিন্ন ভাষার উপাদানের সংযোগে গঠিত। এগুলোকে মিশ্র শব্দ বা সঙ্কর শব্দ বলে।
যেমন : হেড [ ইং ] + পণ্ডিত [ বাং] = হেডপণ্ডিত। হেড + মৌলবী [ আরবী] = হেডমৌলবী। ফি [ ফারসী ] + বছর [ বাংলা ] ফি-বছর।
২.৩ তদ্ভব শব্দের দুটি উদাহরণ দাও।
উ:- তদ্ভব শব্দকে দুটো ভাগে ভাগ করা যায়। নিজস্ব ও কৃতঋণ তদ্ভব। যেসব তদ্ভব শব্দ যথার্থই বৈদিক বা সংস্কৃতের নিজস্ব শব্দের পরিবর্নের ফলে এসেছে সেগুলোকে নিজস্ব তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
যেমন -ইন্দ্রাগার > ইন্দাআর > ইন্দারা, উপাধ্যায় > উবজঝাঅ > ওঝা ইত্যাদি।
আর যেসব শব্দ প্রথমে বৈদিক বা সংস্কৃত ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় বংশের অন্য ভাষা থেকে বা ইন্দো-ইউরোপীয় ছাড়া অন্য বংশের ভাষা কৃতঋণ শব্দ হিসাবে এসেছিল এবং পরে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে সেসব শব্দকে কৃতঋণ তদ্ভব বা বিদেশী তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
যেমন গ্রীক দ্রাখমে > সং দ্রম্য > প্ৰা দম্ম > বাং দাম।
২.৪ ‘দেশি শব্দ’ কে ‘অজ্ঞাতমূল শব্দ’ বলা হয় কেন?
উ:-দেশি শব্দ দেশের প্রাচীনতর আদিবাসী দ্রাবিড় গোষ্ঠীর ভাষা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই শব্দের মূল পাওয়া যায় না বলে একে অজ্ঞাতমূল শব্দ বলা হয়।
২.৫ তুর্কি এবং ওলন্দাজ শব্দভাণ্ডার থেকে বাংলায় গৃহীত হয়েছে এমন দুটি করে শব্দের উদাহরণ দাও।
উ:- তুর্কি - দারোগা,মুচলেকা,বারুদ ওলন্দাজ-তুরুপ, হরতন, রুইতুন
২.৬ তামিল শব্দভাণ্ডার থেকে বাংলায় এসেছে এমন দুটি শব্দ লেখ।
উ:- চুরুট, চেট্টি, পিলে ইত্যাদি
২.৭ নির্দেশ অনুযায়ী মিশ্র বা সংকর শব্দ তৈরি করো
উ:- ইংরেজি + বাংলা = স্কুলঘর/হেড + কেরানি = হেড কেরানি
তৎসম শব্দ + বিদেশি প্রত্যয় = ধূপ+দানি = ধূপদানি
উ:- Wrist Watch = হাত ঘড়ি, News paper = সংবাদ পত্র
২.৯ যোগরূঢ় শব্দের দু’টি উদাহরণ দাও।
২.১০ গুণবাচক বিশেষ্যযোগে একটি বাক্য রচনা করো।
উ:- সাহস - ছেলেটির সাহস তো কম নয়। দয়া - দয়াকরে একটু জল দিন।
২.১১ ক্রিয়াবিশেষণের দু’টি গঠনরীতি নির্দেশ করো।
উ:- বিভক্তি পদের প্রয়োগ - শীঘ্র এসো, তাড়াতাড়ি চলো। বিভক্তিযুক্ত পদের প্রয়োগ-সে অনায়াসে সমস্যার সমাধান করল। অসমাপিকি ক্রিয়ার প্রয়োগ - ভালোকরে বই পড়া উচিত।
২.১২ কাছের ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করতে কোন্ সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হয়?
উ: -সামীপ্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন - ইনি উনি, এটা সেটা, এই ওই ইত্যাদি।
উ: -সামীপ্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন - ইনি উনি, এটা সেটা, এই ওই ইত্যাদি।
২.১৩ একটি তৎসম অব্যয় এবং একটি খাঁটি বাংলা অব্যয়ের উদাহরণ দাও।
উ:- তৎসম অব্যয় -যদি যথা/হঠাৎ খাঁটি বাংলা অব্যয়- আচ্ছা/আবার/তবু
২.১৪ ধাতুর গঠন অনুযায়ী ক্রিয়াপদ কত ধরনের হয়ে থাকে?
উ:- চার প্রকার I) মৌলিক ক্রিয়াপদ II) সাধিত ক্রিয়াপদ III) যৌগিক ক্রিয়াপদ IV) সংযোগমূলক ক্রিয়াপদ
Google Search - www.motaleb783.blogspot.com

No comments:
Post a Comment