Class 6 Model Activity Task Geography Part 8 November
Activity Task
ষষ্ঠ শ্রেণি
পরিবেশ ও ভূগোল
১. বিকল্পগুলি থেকে ঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখাে :
১.১ ঠিক জোড়াটি নির্বাচন করাে —
ক) গ্রহ – নিজস্ব আলাে আছে
খ) গ্রহাণু – গ্রহের তুলনায় আয়তনে বড়
গ) উপগ্রহ – নক্ষত্রের আলােয় আলােকিত
ঘ) উল্কা – লেজবিশিষ্ট উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক
উত্তর: গ) উপগ্রহ – নক্ষত্রের আলােয় আলােকিত
১.২ নিরক্ষরেখার সমান্তরালে উত্তর গােলার্ধে বিস্তৃত কাল্পনিক রেখা হলাে –
ক) মকরক্রান্তি রেখা
খ) কর্কটক্রান্তি রেখা
গ) মূলমধ্য রেখা
ঘ) কুমেরুবৃত্ত রেখা
উত্তর: খ) কর্কটক্রান্তি রেখা
১.৩ নীচের যে রাজ্যটির ওপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা বিস্তৃত সেটি হলাে –
ক) অরুণাচল প্রদেশ
খ) মহারাষ্ট্র
গ) হিমাচল প্রদেশ
ঘ) পশ্চিমবঙ্গ
উত্তর: ঘ) পশ্চিমবঙ্গ
১.৪ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জীবকূলকে রক্ষাকারী ওজোন স্তর আছে –
ক) ট্রপােস্ফিয়ারে
খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে
গ) আয়নােস্ফিয়ারে
ঘ) এক্সোস্ফিয়ারে
উত্তর: খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে
১.৫ আন্টার্কটিকার একটি স্বাভাবিক উদ্ভিদ হলাে –
ক) পাইন
খ) শাল
গ) মস
ঘ) সেগুন
উত্তর: গ) মস
১.৬ ভারতের মরু অঞ্চলের মাটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলাে –
ক) মাটির জলধারণ ক্ষমতা বেশি
খ) মাটিতে লােহার পরিমাণ বেশি
গ) মাটির জলধারণ ক্ষমতা কম
ঘ) মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি
উত্তর: গ) মাটির জলধারণ ক্ষমতা কম
১.৭ উত্তর আমেরিকা ও ইউরােপের মাঝে অবস্থিত মহাসাগরটি হলাে –
ক) প্রশান্ত মহাসাগর
খ) আটলান্টিক মহাসাগর
গ) ভারত মহাসাগর
ঘ) সুমেরু মহাসাগর
উত্তর: খ) আটলান্টিক মহাসাগর
১.৮ পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুর প্রকৃতি –
ক) উষ্ণ-আর্দ্র
খ) শীতল-আর্দ্র
গ) শীতল-শুষ্ক
ঘ) উষ্ণ-শুষ্ক
উত্তর: ক) উষ্ণ-আর্দ্র
১.৯ ভারতের একটি পশ্চিমবাহিনী নদী হলাে –
ক) কাবেরী
খ) গােদাবরী
গ) নর্মদা
ঘ) মহানদী
উত্তর: গ) নর্মদা
২. শূন্যস্থান পূরণ করাে :
২.১ সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু ___________ প্রকৃতির হয়।
উত্তর: সমভাবাপন্ন
২.২ নির্দিষ্ট ঋতুতে যে গাছের পাতা ঝরে পড়ে তাকে ___________ উদ্ভিদ বলে।
উত্তর: পর্ণমোচী
২.৩ সাধারণত শীতকালে শীতল অঞ্চল থেকে যে পাখিরা আমাদের দেশে উড়ে আসে তারা ___________ পাখি নামে পরিচিত।
উত্তর: পরিযায়ী
৩. বাক্যটি সত্য হলে ‘ঠিক’ এবং অসত্য হলে ‘ভুল’ লেখাে :
৩.১ গােলাকার পৃথিবী দ্রুত গতিতে আবর্তন করায় এটি মাঝ বরাবর স্ফীত।।
উত্তর: ‘ঠিক’
৩.২ ০° ও ১৮০° দ্রাঘিমারেখা প্রকৃতপক্ষে একটিই রেখা।
উত্তর: ‘ভুল’
৩.৩ সূর্যের দৈনিক আপাত গতির মূল কারণ পৃথিবীর আবর্তন।
উত্তর: ‘ঠিক’
৪. স্তম্ভ মেলাও :
| ক স্তম্ভ | খ স্তম্ভ |
| ৪.১ আর্দ্রতা | i) প্যানজিয়া |
| ৪.২ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ | ii) হাইগ্রোমিটার |
| ৪.৩ অখণ্ড স্থলভাগ | iii) গডউইন অস্টিন |
উত্তর:
| ক স্তম্ভ | খ স্তম্ভ |
| ৪.১ আর্দ্রতা | ii) হাইগ্রোমিটার |
| ৪.২ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ | iii) গডউইন অস্টিন |
| ৪.৩ অখণ্ড স্থলভাগ | i) প্যানজিয়াা |
৫. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :
৫.১ তারার রঙের সঙ্গে উষ্ণতার সম্পর্ক লেখাে।
উত্তর: তারার রঙের সঙ্গে উষ্ণতার সম্পর্ক :
(1) যে সমস্ত তারাদের উষ্ণতা কম তাদের রং লাল হয় ।
(2) একটু বেশি উষ্ণতার তারাদের রং হলুদ হয় ।
৫.২ দিগন্তরেখা কাকে বলে?
উত্তর: দিগন্তরেখা : সমুদ্র কিংবা বিশাল প্রান্তরের ধারে দাঁড়িয়ে দূরে তাকালে মনে হয় – জলরাশি বা ভূমি এবং আকাশ যেন একটি বৃত্তরেখায় মিশে গিয়েছে । এই কাল্পনিক রেখাকে দিগন্তরেখা বা Horizon বলে ।
৫.৩ বারিমণ্ডল কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: পৃথিবী সৃষ্টির বহু কোটি বছর পর পৃথিবীর বাইরের আবরণ শীতল হয়ে এলে প্রচুর জলীয়বাষ্প সৃষ্টি হয় । এই জলীয়বাষ্প উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে বৃষ্টির আকারে অবিশ্রান্তভাবে ঝরতে থাকে পৃথিবীতে । শত শত বছর ধরে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে পৃথিবীর নিচু জায়গা গুলো জলে ভরাট হয়ে সাগর – মহাসাগর হ্রদ তৈরি করে।এভাবেই বিশাল জলভান্ডার বা বারিমন্ডলের সৃষ্টি হয়েছে ।
৫.৪ বিকিরণ পদ্ধতিতে কীভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয় ?
উত্তর: যে পদ্ধতিতে কোনো মাধ্যম ছাড়াই বা মাধ্যম থাকলেও তাকে উত্তপ্ত না করে তাপ এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে চলে যায়, সেই পদ্ধতিকে বিকিরণ পদ্ধতি বলে । বায়ুমণ্ডল সূর্যকিরণের দ্বারা সরাসরিভাবে উত্তপ্ত হয় না । সুর্য থেকে আলোর তরঙ্গ বায়ুমণ্ডল ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে এসে পড়ে । সূর্য থেকে আগত বিকিরিত তাপশক্তি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে ভূপৃষ্ঠে এসে পড়লেও বায়ুমণ্ডলকে প্রথমে উত্তপ্ত না করে ভূপৃষ্ঠে এসে পড়ে । ভূপৃষ্ঠ সেই তাপ শোষণ করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে । ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলোক চৌম্বকীয় তরঙ্গরূপে সেই তাপের বিকিরণ শুরু হয় ও ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুস্তর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ।
৬. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
৬.১ পৃথিবীর কাল্পনিক অক্ষ কক্ষতলের সঙ্গে কত ডিগ্রি কোণে হেলে অবস্থান করছে তার একটি চিহ্নিত চিত্র আঁকো।
উত্তর:

৬.২ পলিমাটির তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করাে।
উত্তর: পলিমাটির তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
(1) পলিমাটিতে জৈব পদার্থ বেশি থাকে ।
(2) এই মাটিতে ধান , পাট , গম প্রভৃতি ফসল অত্যন্ত ভালো হয় কারণ এই মাটি খুব উর্বর ।
(3) পলিমাটির জলধারণ ক্ষমতা বেশি ।
৬.৩ বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীর শীতলতম মহাদেশ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?
উত্তর: বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর ফলে পৃথিবীজুড়ে তাপমাত্রা একটু একটু করে অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে চলার কারণে বিষুবীয় ও মেরু অঞ্চলের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে ।ক্রমাগত উষ্ণতা বাড়ার ফলে প্রতিদিন একটু একটু করে গলে যাচ্ছে আন্টার্কটিকার বরফ,কমে যাচ্ছে মহাদেশটার আয়তন। ফলে ক্রিল, সিল, পেঙ্গুইন সবারই সংখ্যা কমছে,নষ্ট হচ্ছে আন্টার্কটিকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য । বরফের এই অস্বাভাবিক গলনের ফলে ফলে সমুদ্রের জলস্তরও একটু একটু করে ঊর্ধ্বগামী হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, আর ১০০ বছরের মধ্যে হিমশৈলসহ সুমেরু কুমেরুতে জমে থাকা সমস্ত বরফ জলে পরিনত হবে ।
৭. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
৭.১ হিমালয়ের উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত তিনটি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
উত্তর: হিমালয়ের উত্তর থেকে দক্ষিনে বিস্তৃত তিনটি পর্বতশ্রেণী হল- ( 1 . ) হিমাদ্রি হিমালয় ( 2 ) হিমাচল হিমালয় ( 3 ) শিবালিক হিমালয় ।
(1) হিমাদ্রি হিমালয় : হিমাদ্রি হিমালয়ের গড় উচ্চতা প্রায় 6000 মিটারের বেশি।এই হিমালয়ের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শৃঙ্গ হল — মাউন্ট এভারেস্ট , কাঞ্চনজঙ্ঘা , মাকালু প্রভৃতি ।
(2) হিমাচল হিমালয় : হিমাদ্রি হিমালয়ের দক্ষিণ দিকে হিমাচল হিমালয় অবস্থিত । এই অংশের গড় উচ্চতা প্রায় 3000 মিটারের বেশি । কেদারনাথ , বদ্রিনাথ বিখ্যাত পর্বতশৃঙ্গ গুলি এই হিমালয়ের , অংশ ।
(3) শিবালিক হিমালয় : হিমাচল হিমালয়ের দক্ষিণ দিকে শিবালিক হিমালয় অবস্থিত।এই দুই হিমালয়ের মাঝের উপত্যকাগুলিকে ‘ দুন ‘ বলে । এই হিমালয়ের গড় উচ্চতা প্রায় 1500 মিটার ।
৭.২ বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহ কোনাে অঞ্চলের আবহাওয়াকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তা ব্যাখ্যা করাে।
উত্তর: কোন অঞ্চলের আবহাওয়া কে বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহ বিভিন্নভাবেই নিয়ন্ত্রণ করে । যেমন –
বায়ুর চাপ : নিম্নচাপ বলয়ে উত্তপ্ত বায়ু উচ্চচাপের বলয়ের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় উচ্চচাপ যুক্ত অঞ্চলের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এর ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে ।
বায়ুপ্রবাহ : কোন স্থানের উপর দিয়ে যদি জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবাহিত হয় তাহলে সেখানে বৃষ্টিপাত ঘটতে দেখা যায় । অপরদিকে শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হলে বৃষ্টিপাত হয় না । এভাবেই বায়ুর চাপ ও বায়ুপ্রবাহ আবহাওয়া কে নিয়ন্ত্রণ করে ।
৭.৩ অরণ্য সংরক্ষণ করা কেন প্রয়ােজন বলে তুমি মনে করাে?
উত্তর: অরণ্য সংরক্ষণ করা বিশেষভাবে প্রয়োজন , কারণ —
(1) গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয় এবং বাতাস থেকে কার্বন – ডাই – অক্সাইড শোষণ করে । তাই নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার জন্যই আমাদের অরণ্য সংরক্ষণ করা উচিত ।
(2) অরণ্য বৃষ্টিপাত ঘটায় ও খরা নিয়ন্ত্রণ করে ।
(3) অরণ্য থেকে মধু , মোম , জ্বালানি , গদ , আঠা , বিভিন্ন ঔষধি গাছ পাওয়া যায় যা মানুষের জীবন বাঁচাতে ও জীবিকা অর্জনে সাহায্য করে ।
(4) বন্যপ্রাণীদের বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অরণ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন ।
(5) অরণ্য প্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে ।
No comments:
Post a Comment