Model Activity Task Class 7 Part 8 History
মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক Class 7 Part 8 পরিবেশ ও ইতিহাস
১. ‘ক’ স্তম্ভের সাথে ‘খ’ স্তম্ভ মেলাও : ১ x ৪ = ৪
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
| ১.১ খলিফার অনুমোদন ১.২ সিজদা ও পাইবস ১.৩ বাজারদর নিয়ন্ত্রণ ১.৪ আমুক্তমাল্যদ | (ক) গিয়াসউদ্দিন বলবন (খ) কৃষুদেব রায় (গ) ইলতুৎমিশ (ঘ) আলাউদ্দিন খলজি |
উত্তরঃ
| ‘ক’ স্তম্ভ | ‘খ’ স্তম্ভ |
| ১.১ খলিফার অনুমোদন ১.২ সিজদা ও পাইবস ১.৩ বাজারদর নিয়ন্ত্রণ ১.৪ আমুক্তমাল্যদ | (গ) ইলতুৎমিশ (ক) গিয়াসউদ্দিন বলবন (ঘ) আলাউদ্দিন খলজি (খ) কৃষুদেব রায় |
২. বেমানান শব্দটির নিচে দাগ দাওঃ ১ x ৪ = ৪
২.১ বিজয়ালয়, দন্তিদুর্গ, প্রথম রাজরাজ, প্রথম রাজেন্দ্র
উত্তরঃ দন্তিদুর্গ
২.২ বরেন্দ্র, হরিকেল, কনৌজ, গৌড়
উত্তরঃ কনৌজ
২.৩ হলায়ুধ, জয়দেব, গোবর্ধন, উমাপতিধর
উত্তরঃ গোবর্ধন
২.৪ প্রতাপাদিত্য, কেদার রায়, ইশা খান, বৈরম খান
উত্তরঃ বৈরম খান
৩. শূন্যস্থান পূরণ করো : ১ x ৪ = ৪
৩.১ বন্দেগান-ই চিহলগানির সদস্য ছিলেন সুলতান __________________ ।
উত্তরঃ গিয়াসউদ্দিন বলবন
৩.২ বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান ছিলেন ___________________ ।
উত্তরঃ সুলতান শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ
৩.৩ পোর্তুগিজ পর্যটক __________________ বিজয়নগর পরিভ্রমন করেন।
উত্তরঃ পেজ
৩.৪ বিজয়নগর পরাজিত হয়েছিল ___________________ যুদ্ধে।
উত্তরঃ ১৫৬৫ খ্রিঃ তালিকোটার
৪. সত্য বা মিথ্যা নির্ণয় করো : ১ x ৪ = ৪
৪.১ ‘দাগ’ ও ‘হুলিয়া’ ব্যবস্থা চালু রাখেন শেরশাহ।
উত্তরঃ সত্য
৪.২ ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে হলদিঘাটির যুদ্ধে আকবর রানা প্রতাপকে পরাজিত করেছিলেন।
উত্তরঃ সত্য
৪.৩ মনসবদারি ও জায়গিরদারি ব্যবস্থা বংশানুক্রমিক ছিল।
উত্তরঃ মিথ্যা
8.8 রাজিয়া তার মুদ্রায় নিজেকে ‘সুলতান’ বলে দাবি করেছেন।
উত্তরঃ সত্য
৫. দুই-তিনটি বাক্যে উত্তর দাও : ২ x ২ = ৪
৫.১ ‘দীন-ই ইলাহি’ কী?
উত্তরঃ দীন-ই-ইলাহি হল সম্রাট আকবর প্রবর্তিত একটি সম্পূর্ণ নতুন ধর্মীয় মতাদর্শ। অন্যান্য ধর্মের সারবস্তু নিয়ে তিনি এই ধর্ম গড়ে তুলেছিলেন দীন-ই-ইলাহি এর অর্থ হলো ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস 1582 খ্রিস্টাব্দে আকবর তার বিখ্যাত দীন-ই-ইলাহি মতবাদ ঘোষণা করেছিলেন।আবুল ফজল ও বদাউনি, এই ধর্মমতকে তৌহিদ – ই – ইলাহি বা ‘স্বর্গীয় একেশ্বরবাদ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
৫.২ ‘মনসব’ কী?
উত্তরঃ আকবর সামরিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন করেন। সেটি ছিল তার মনসবদারি ব্যাবস্থা। আকবরের শাসনব্যাবস্থায় প্রশাসনিক পদগুলিকে বলা হতো মনসব।
৬. চার-পাঁচটি বাক্যে উত্তর দাও : ৩ x ৫ = ১৫
৬.১ পাল-সেন যুগে কেমন ভাবে কর আদায় করা হত।
উত্তরঃ ভূমিকা : পাল ও সেনযুগে রাজারা বিভিন্ন ধরনের কর সংগ্রহ করতেন।
ক. কৃষি কর : রাজারা উৎপন্ন ফসলের এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬ ভাগ) কৃষকদের কাছ থেকে কর নিতেন। তাঁরা নিজেদের ভোগের জন্য ফুল, ফল, কাঠ ও প্রজাদের কাছ থেকে কর হিসাবে আদায় করতেন।
খ. বাণিজ্য কর : বণিকরা তাদের ব্যাবসাবাণিজ্য করার জন্য রাজাকে কর দিত।
গ. অন্যান্য কর : এছাড়াও প্রজারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাজাকে কর দিত। সমগ্র গ্রামের উপরেও কর দিতে হতো গ্রামবাসীদের। হাট ও খেয়াঘাটের উপরে কর চাপানো হতো।
৬.২ সেন রাজারা কি সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন?
উত্তরঃ বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেন ছিলেন সাহিত্যানুরাগী। অনেক কবি ও সাহিত্যিক তাঁর রাজসভা অলংকৃত করতেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন –
(১) কবি জয়দেব : লক্ষণ সেনের সভাপতি জয়দেব ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক। তাঁর রচিত কাব্যের নাম হলো “গীতগোবিন্দ”। এই কাব্যের বিষয় ছিল রাধাকৃষ্ণের প্রেমের কাহিনি।
(২) ধোয়ী : তাঁর রাজসভার আর এক কবি ধোয়ী লিখেছিলেন ‘পবনদূত” কাব্য।
(৩) পঞ্চরত্ন : জয়দেব ও ধোয়ীসহ আরও তিনজন গোবর্ধন, উনাপতি ধর এবং শরণ লক্ষণ সেনের সভা অলংকৃত করেছিলেন। এই পাঁচজন কবিকে একত্রে “পঞ্চরত্ন” বলা হয়।
(৪) এছাড়াও লক্ষণ সেনের মন্ত্রী হলায়ুধ বৈদিক নিয়ম বিষ “ব্রাহ্মণ সর্বস্ব” নামে একটি বই লিখেছিলেন। লক্ষণ সেন নিজেও পিতার অসমাপ্ত “অদ্ভুতসাগর” বইটি সমাপ্ত করেন।
৬.৩ ইকতা ব্যবস্থা কী?
উত্তরঃ নির্দিষ্ট অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা সুলতানের নির্দেশে রাজস্ব আদায় করার অধিকার পেতেন। পরবর্তীকালে সাম্রাজ্যের আয়তন বেড়ে গেলে সুলতানরা যে সব রাজ্য জয় করতেন, সেই রাজ্যগুলির দায়িত্ব এক একজন সামরিক নেতার উপর দিতেন। এই রাজ্যগুলিকে এক একটি প্রদেশে ধরে নেওয়া হত, এগুলিকে বলা হত ইকতা। ইকতার দায়িত্বে যিনি থাকতেন তাকে বলা হত ইকতাদার।
৬.৪ খলজি বিপ্লব বলতে কী বোঝ?
উত্তরঃ ১২৯০ খ্রিস্টাব্দে জালালউদ্দিন ফিরোজ খলজি বলবনের বংশধরদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে সুলতান হন। এই ঘটনাকে ‘খলজি বিপ্লব’ বলা হয়। এর ফলে তুর্কি অভিজাতদের ক্ষমতা চলে যায়। তার বদলে খলজি তুর্কি ও হিন্দুস্তানিদের ক্ষমতা বেড়ে গিয়েছিল।
৬.৫ ‘দাক্ষিণাত্য ক্ষত’ বলতে কী বোঝো?
উত্তরঃ দীর্ঘ রক্ত ও অর্থক্ষয়ী যুদ্ধের পরেও মারাঠা রাজ শিবাজিকে স্বাধীন রাজা বলে মেনে নিতে হয়েছিল। এর ফলে মোগলদের অনেক আর্থিক ক্ষতি হল, একেই দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলে । ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোঘল সাম্রাজ্যের পতনে এই ‘দাক্ষিণাত্য ক্ষত’ অনেকাংশেই দায়ী ছিল।
৭. আট-দশটি বাক্যে উত্তর দাও : ৫ x ৩ = ১৫
৭.১ বখতিয়ার খলজির বাংলা আক্রমণের পর বাংলাতে কি কি পরিবর্তন ঘটেছিল?
উত্তরঃ বখতিয়ার খলজি যার সম্পূর্ণ নাম হল ইখতিয়ার উদ্দিন মহম্মদ বখতিয়ার খলজি। ১২০৮ সালে মাত্র ১৭ জন অশ্ব আরোহী সেনা নিয়ে নদীয়ার রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করেন। নদীয়া জয়লাভের পর তিনি সেখানে মুসলিম শাসন সাম্রাজ্য স্থাপন করেন। বখতিয়ার খলজি তিনদিন যাবৎ নদীয়া লুটপাট করেন। লক্ষণ সেনের বিপুল ধন-সম্পদ দখল করেন। এমনটি ভৃত্যবর্গ ও হস্তী তার হস্তগত হয়। প্রায় বিনা যুদ্ধেই বখতিয়ার খলজি বাংলার একাংশ অর্থাৎ নদীয়া দখল করেন। এরপর বখতিয়ার খলজি নদীয়া ছেড়ে লখনৌতি দখল করেন। সমকালীন ঐতিহাসিকরা নিজের রাজধানী স্থাপন করেন।
সমকালীন ঐতিহাসিকরা এই রাজ্যের নাম লখনৌতি উল্লেখ করেন। নব প্রতিষ্ঠিত রাজ্যে তিনি সুশাসনে ব্যবস্থা করেন। তার সাথে অত্তিয়াপের সময় ও পরবর্তী কালে যে সমস্ত তুর্কী মুসলমানরা বসবাসের জন্য সেখানে আসেন তাদের জন্য মসজিদ, মাদ্রাজা ও খানকাহ নির্মান করেন । তিনি জানতেন শুধুমাত্র সামরিক শক্তির উপর একটি রাজ্যে প্রতিরক্ষা নির্ভর করেন । পরিপূর্ণ শান্তির জন্য চাই অভ্যন্তরীন শৃঙ্খলা । আর তাই তার প্রতিষ্টিত মুসলিম রাজ্যের স্থায়ীত্বে সুষ্ট মুসলিম সমাজ গঠন করার প্রয়াস করেন। সেই জন্য তিনি কয়েকটি ভাগে ভাগ করে সেনাপতিদের তার রাজ্য শাসন ভার দিয়েছিলেন।
এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মর্দান খলজি বরসৌলে হুসাম উদ্দিন ইতজ খলজি গঙ্গাতবীর। বখতিয়ার খলজি বৌদ্ধ ও হিন্দুদের কাছে শুধু মাত্র একজন খুনী লুটেরা ছিল কিন্তু মুসলমানদের কাছে তিনি ছিলেন একজন বীর যোদ্ধা।
তবে একথা সত্য যে ইতিহাসের একটি অংশের শেষ তার হাত ধরে শুরু হয়েছিল আবার অন্য একটি অংশের সূচনা ও হাত ধরে হয়েছিল। তার আমলে ব্যাপক পরিমান মানুষ মুসলিম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল। বাংলাদেশের খ্যাতনামা কবি আল মাহমুত তার ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’ কাব্যগ্রন্থে বখতিয়ারের প্রসংশা করেছেন। একজন বীর চরিত্র হিসাবে। ১২০৬ সালে মানসিক ও শারীরিক ভাবে বিপর্যত হয়ে তিনি মারাযান।
৭.২ কৃষ্ণদেব রায়কে কেন বিজয়নগরের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয় ?
উত্তরঃ তুলুভ বংশের বিজয়নগরের বিখ্যাত শাসক ছিলেন কৃষ্ণদেব রায়। তাঁকে শ্রেষ্ঠ শাসক বলার কারণগুলি হলো –
(i) তাঁর রাজত্বকালে বিজয়নগরের গৌরব সবচেয়ে বেড়েছিল এবং রাজ্যের সীমানাও বহুদূর বিস্তৃত হয়েছিল।
(ii) তিনি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়েছিলেন।
(iii) এছাড়াও শিল্প, সাহিত্য, সংগীত এবং দর্শনশাস্ত্রের উন্নতি তাঁর সময়ে লক্ষ করা যায়। কৃষ্ণদেব রায় নিজেও একজন সাহিত্যিক ছিলেন। তেলেগু ভাষায় লেখা আমুক্তমাল্যদ গ্রন্থে তিনি রাজার কর্তব্যের কথা লিখেছেন ।
(iv) পর্তুগিজ পর্যটক পেজ রাজা কৃষ্ণদেব রায়ের প্রশংসা করে বলেছেন, “রাজাদের মধ্যে তিনি সর্বাপেক্ষা পন্ডিত এবং সর্বোত্তম একজন মহান শাসক এবং সুবিচারক, সাহসী ও সর্বগুণান্বিত।”
৭.৩ শেরশাহের যে-কোনো দুটি প্রশাসনিক সংস্কার সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ ভূমিকা : সম্রাট শের শাহ ছিলেন বিজেতা হিসেবে শ্রেষ্ঠ, আর শাসক হিসেবে শ্রেষ্ঠতম। দিল্লির শাসক হিসেবে তিনি মাত্র ৫ বছর (১৫৪০-১৫৪৫ খ্রি.) রাজত্ব করেছিলেন। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই শাসনব্যবস্থার সর্বত্র তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। তাঁর শাসনব্যবস্থার মধ্যে অনেক মানবিক চিন্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
শের শাহের প্রশাসনিক সংস্কার :
i) ভূমিরাজস্ব : ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার ক্ষেত্রে শের শাহ অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি পাট্টা’ ও ‘কবুলিয়ত’’ ব্যবস্থা চালু করেন। শের শাহ কৃষককে কৃষকের নাম, জমিতে কৃষকের অধিকার এবং তাকে কত রাজস্ব দিতে হবে তা লিখে যে দলিল দিতেন,তাকে পাট্টা বলা হত। পাট্টাপ্রাপ্ত কৃষকরা রাজস্ব দেওয়ার কথা স্বীকার বা কবুল করে সরকারকে যে দলিল সই করে দিত, তাকে কবুলিয়ত বলা হত।
ii) যোগাযোগ ব্যবস্থা : যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সুদীর্ঘ ও প্রশস্ত রাজপথ নির্মাণ শের শাহের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। তিনি পূর্ববঙ্গের সোনারগাঁ থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত ১৪০০ মাইল দীর্ঘ পথ নির্মাণ করেন, যা সড়ক-ই আজমস’ বা গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড বা জি টি রোড নামে পরিচিত। তিনি আগ্রা থেকে বুরহানপুর ও আগ্রা থেকে যোধপুর পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করেন। তিনি পথিক ও বণিকদের সুবিধার জন্য রাস্তার ধারে ধারে অনেক সরাইখানা নির্মাণ করেছিলেন। তিনিই প্রথম ঘোড়ার পিঠে ডাক আদানপ্রদানের ব্যবস্থা করেন।
উপসংহার : মধ্যযুগে মাত্র পাঁচ বছর রাজত্ব করে শের শাহ উন্নত শাসনকাঠামো রচনা করেন। তাই তিনি আজও ভারত ইতিহাসে স্মরনীয় হয়ে আছেন।
No comments:
Post a Comment