ABUMOTALEB
ভালোবাসার মানুষটির আজ বিয়ে হয়ে গিয়েছে, বাবাকে হাজার বার বলেও লাভ হয়নি। মাকে বলতেই মা অনেকক্ষন বকা দিয়ে রাগ দিখিয়ে চলে যায়। বড় ভাইয়া বার বার শাসিয়ে যাচ্ছে মাহমুদের নাম যেনো মুখে না আসে। মাহমুদ কে কয়েক বার ফোন দিলে কেটে ফোন বন্ধ করে রাখে। রুম বন্ধি করে বসে আছি ছোট বোনটা কয়েক বার এসে চোখের পানি মুছে দিলেও ছুটে আবার চলে যাচ্ছে বাহিরে খেলতে। আমার জীবনে আর কি রইলো, যে জীবনের স্বপ্নই পূরন হলো না সেখানে জীবন রেখে কি লাভ। কতগুলো ঘুমের ঔষুধ খেয়ে বিছানার উপর শুয়ে পরলাম। কিন্তু আর উঠলাম না, একে বারে চলে গেলাম সবাইকে মুক্ত করে। মা রাতে আমাকে ঘুমাতে দেখে খেতে না ডেকেই চলে গেলো। ভেবেছিলো- "মেয়েটা ঘুমাচ্ছে ঘুমাক, কতো দিন থেকে শুধু কান্না করতে করতে ঘুমাই নাই, জাগলে আবার কান্না করবে তার থেকে ভালো একটু ঘুমাক।" সকাল হয়েছে, বাবা বড় ভাইয়া অফিস যাবে, মা সকাল সকাল সবাইকে নাস্তা দিয়ে, একটা প্লেটে করে আমার রুমে নাস্তা নিয়ে আসলো। ভাবেছিলো মেয়েটা কাল রাতে কিছু না খেয়ে ঘুমিয়ে পরেছে। এখন গিয়ে নিজ হাতে খাওয়াবে। কিছুক্ষণ ডাকলে যখন ওঠি না তখন হাত দিয়ে ঠেলতেই দেখলো সম্পূর্ণ শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। মা একটা চিৎকার করে ওখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মায়ের চিৎকার শুনে, খাওয়া রেখে বাবা আর ভাইয়া ছুটে আসে। ভাইয়া আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কান্না করছে। বাবা পাথর হয়ে সেখানেই বসে নিরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আশেপাশের সবাই ছুটে আসে, কেউ কেউ আফসোস করছে। "আহারে বেচারা মেয়াটা এতো অল্প বয়সে চলে গেলো" আবার কেউ বা মা কে বোঝাচ্ছে। কিন্তু মা আজ অবুজ, যে মহিলা এতোদিন আমাকে বুঝিয়েছে, আজ সে নিজেই অবুজ। মায়ের কান্না দেখে আমি ছুটে চলে যায় মায়ের কোলে, কিন্তু একি মা আমাকে দেখতে পারছেনা। আমিও মাকে জড়িয়ে ধরতে পারছিনা শুধু অনুভব করছি। এই মুহূর্তে মা কে একবার শুধু একবার জড়িয়ে ধরতে চাই। বার বার আমার মরে যাওয়া স্বপ্ন হয়ে ভেঙ্গে যাক এই প্রার্থনা করছি। কিন্তু কিছু হচ্ছেনা মায়ের আশে পাশে কিছুক্ষণ থেকে আবার দূরে গিয়ে হাটু মুরে বসে মাকে দেখছি। কলিজার টুকরো ছোট বোনটা কিছু বুঝছেনা বার বার আমার আশে পাশে ঘুর ঘুর করছে। বাসায় নতুন মেহমান আসছে তাদের কোলো যাচ্ছে, খেলছে। মাঝে মাঝে এদিন সেদিক কাউকে খুজছে। হয়তো এতোলোকে ভীতর বোনটাকে দেখছেনা বলে তাকে খুজছে। বাবাকে কিছুলোক কিছুক্ষণ আগে একটা রুমে নিয়ে গেছে। আমার কাছে থেকে কান্নার করার কারনে অসুস্থ হয়ে গিয়েছে। বড় ভাইয়া বার বার চিৎকার করে বলছে- "ছুটকি তুই একবার ফিরে আয়, তোর সব কথা শুনবো। তোকে কখনো বকবো না। তবুও তুই আমাকে ছেড়ে যাস না। তুই তো কোথাও একা যেতে ভয় পেতি, তাহলে আজ আমাকে ছেড়ে একা চলে গেলি কি করে।" সবাই আমাকে শেষ বারের মতো দেখতে এসেছে অথচ একবারের জন্য মাহমুদ দেখতে আসেনি। আমার বান্ধবী তাকে ফোন করে আমার কথা জানিয়েছিল। আমি অপেক্ষা করছি এই মানুষটাকে শেষ বারের মতো দেখবো বলে কিন্তু ও আসলো না। আজ নাকি শ্বশুর বাড়ি থেকে লোকজন আসবে সে যদি সব ছেড়ে এখানে আসে তাহলে তারা কি ভাববে। অথচ যার জন্য জীবন দিয়ে দিলাম আমার পরিবারের কথা ভাবলাম না, সেই মানুষটা নতুন বউয়ের বাড়ির লোক কি ভাববে এটা ভেবে শেষ বারের মতো দেখতে আসলো না। আজ নিজেকে সত্যিই অভাগা মনে হচ্ছে, এতোগুলো ভালোবাসা রেখে চলে যাচ্ছি। এই মানুষ গুলো যে এতো ভালোবাসতো বেঁচে থাকতে একবারও জানতে চাইনি। আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো অন্ধকার ঘরের ভীতর রেখে আস্তে আস্তে সবাই চলে গেলে। দিন কেটে আমার চলে যাওয়ার সময় বাড়তে থাকলো। বাবা ভাইয়া আবার অফিসে যাওয়া আসা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে দিন শেষে বাসায় ফিরে ভাইয়া আচারের প্যাকেট নিয়ে আমার রুমে দৌড়ে নিয়ে আসার ভুলটা আজো করছে। কিন্তু মা রাত দিন এক মুহূর্তের জন্য চোখ নিচ শুকাতে দেয় না। বার বার আতকে আতকে কেঁদে ওঠে। যে মহিলাটা নিয়ম করে চুল বাধতো ক্রিম দিতো সেই মহিলার চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে তার সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। ছোট বোন এখন একটু একটু বোঝে তার বোন কোথাও একটা চলে গেছে। আদো আদো পায়ে আমার রুমে আয়নার সামনে আমার সাজগোজ দিয়ে সেজে দৌড়ে চলে যাচ্ছে বোন এসে দেখলে বকবে বলে। এতে সে মহাখুশি হলেও, যখন আমাকে আর দেখে না, অধো আধো পায়ে সারাঘর হেঁটে খুজতে থাকো, তার বোনটা আজো কোথাও লুকিয়ে আছে ভেবে। আজ খুব ইচ্ছে করছে ছোট বোনটাকে কোলে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে, মায়ের হাতের খাবার খেতে। একসঙ্গে বড় ভাইয়ার সাথে আচার বানিয়ে খেতে। বাবার বুকে জড়িয়ে ধরে খুব বলতে ইচ্ছে করছে- "বাবা আমাকে একবার ফিরিয়ে নিয়ে এসো, আর কখনো আমি তোমাদের ছেড়ে যাবো না।" , , , দরজায় ঠুকঠাক আওয়াজ শুনে দৌড়ে দরজা খুলে দেখি মা হাসি মুখে প্লেটে খাবার নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আচ্ছা আমি তাহলে মারা যায়নি? এতোখন স্বপ্ন দেখছিলাম। মাকে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে নাহহ এদের রেখে আর কখনো কোথাও যাওয়ার কথা ভাববো না। যাকে ভালোবাসে এদের রেখে চলে যাব ভেবেছিলাম সে যদি আমাকে ভালোবাসতো তাহলে নিশ্চয়ই অন্য কাউকে বিয়ে করে সংসার করতো না। যদি ভালোই বাসতো বাবা ফিরিয়ে দেওয়ার পর ইগোর জন্য বিয়ে করতো না, বাবার পায়ে পরে আমাকে চাইতো। এই একটা মানুষের জন্য আমি এতোগুলো মানুষের ভালোবাসাকে ভেঙ্গে কি একা চলে গিয়ে ভালো থাকবো, কি করে😌 সমাপ্তি
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment