বিষয়ঃ বাংলা
শ্রেণীঃ ষষ্ঠ শ্রেণি
নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
১. ‘ধানকাটার পর একেবারে আলাদা দৃশ্য।’ – ‘মরশুমের দিনে’ গদ্যাংশ অনুসরণে সেই দৃশ্য বর্ণনা করাে।
উত্তরঃ ধান কাটার পর মাঠের চেহারা একেবারে আলাদা। সবুজ চেহারা মাঠটির আর থাকে না। যতদূর দৃষ্টি যায়, তা রুক্ষ। শুকনাে কঙ্কালসার চেহারা। মাঠের আলগুলি – বুকের হাড়-পাঁজরার মতাে। মাঠের ভেতর দিকে পায়ে চলার রাস্তা ফুটে ওঠে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে যাওয়ার। আকাশের রং তখন তামার হাঁড়ির মতাে। রােদের দিকে তাকানাে যায় না। গােরুর গাড়ির চাকায় মাটির ডেলাগুলি ভেঙে গুঁড়াে হয়ে তা ধুলাের মত ওড়ে। খাল বিল শুকিয়ে খা খা করতে থাকে। গাছের পাতা ঝরে যায়। বসন্ত কাল চলে গিয়ে দেখা দেয় গ্রীষ্ম ঋতু। প্রচণ্ড দাবদাহে পৃথিবী কানায় কানায় ছটফট করতে থাকে। জলের জন্য চারিদিকে হাহাকার পরে যায়। রাখালেরা বট অশত্থের ছায়ায় বসে থাকে। সহজে ছায়া খুঁজে পাওয়া যায় না। জল পিপাসায় গলা শুকিয়ে যায়। ধান কাটার পর এই গ্রীষ্মের রূপ ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে ওঠে।
২. দিন ও রাতের পটভূমিতে হাটের চিত্র ‘হাট’ কবিতায় কীভাবে বিবৃত হয়েছে তা আলােচনা করাে।
উত্তরঃ কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত তার 'হাট' কবিতায় হাটের দিন ও রাতের চিত্র তুলে ধরেছেন। হাট বসার আগে সেখানে কোনাে লােকজন থাকে না। সকালে সেখানে কেউ ঝাঁটও দেয় না। দিনের বেলায় সেখানে চেনা-অচেনা কত মানুষের ভিড়। জিনিসপত্র পছন্দ করা, দরদাম করা, কানাকড়ি নিয়ে কত টানাটানি। অবশেষে বিকেলবেলায় অবিক্রিত পসরা অল্প দামে বিক্রি হয়ে যায়। তারপর কেউ লাভ করে ঘরে ফেরে কেউবা লােকসান করে খালি হাতে ঘরে ফিরে আসে। হাট ভাঙার পর সবাই একে একে ঘরে ফেরে। সন্ধ্যার সময় ওখানে কেউ প্রদীপ জ্বালে না। হাটখানি অন্ধকারে পড়ে থাকে। একটি কাকের কা কা ডাকে নির্জন হাটের বুকে রাত্রি নামে। রাত্রিতে সেখানে নীরবতা।
৩. ‘মাটির ঘরে দেয়ালচিত্র' রচনায় সাঁওতালি দেয়ালচিত্রের বিশিষ্টতা কীভাবে ফুটে উঠেছে?
উত্তরঃ সাঁওতালি দেয়ালচিত্রগুলি মূলত জ্যামিতিক আকার-আশ্রিত বর্ণ সমাবেশেই রচিত হয়। এতে যেমন দেখা যায় চওড়া রঙিন ফিতের মতাে সমান্তরাল রেখা তেমনি থাকে চতুষ্কোণ ও ত্রিভুজের বাহুল্য। সাধারণত ঘরের চারপাশে ঘিরে থাকা মূল বেদিটি হয় কালাে রঙের। তার সমান্তরালে টানা হয় চওড়া গেরুয়া রেখা আবার তার উপর সমান্তরালে টানা হয় চওড়া কালাে রেখা। এর উপর নানা রঙের চতুষ্কোণ বা ত্রিভুজগুলি সাজানাে থাকে। মাটি থেকে ছ-ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় চিত্রণটি বিস্তৃত হয়। দূর থেকে দেখা যাবে এমন দেয়ালই ছবির জন্য নির্বাচিত হয়।
৪. ‘পিপড়ে কবিতায় পতঙ্গটির প্রতি কবির গভীর ভালােবাসার প্রকাশ ঘটেছে।’– আলােচনা করাে।
উত্তরঃ ‘পিঁপড়ে' কবিতায় পিঁপড়ের প্রতি কবির গভীর ভালােবাসার প্রকাশ ঘটেছে। সারিবদ্ধ ছােটো পিঁপড়ের চলাফেরা কবি গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে লক্ষ করেছেন। আমাদের পরিবেশের চারিদিকে এ-জাতীয় পিঁপড়ে সারি দেখা যায়। কবি তাদের লক্ষ করলেও তাদের চলাফেরায় বাঁধা সৃষ্টি করতে চাননি। কারণ তাদের কাউকে বিচ্ছিন্ন করে দিলে তারা কষ্ট পাবে। তাদের চলাফেরার মধ্যে কবির প্রাণের সদাচঞ্চল স্পন্দন অনুভব করেছেন। আর ভেবেছেন বড়াে বড়াে পশুপাখির মতাে এই পিঁপড়েও মাত্র দুদিনের জন্য এই পৃথিবীকে ভালােবেসে, ভালােবাসা দিয়ে তাদের ভুবন গড়ে তােলে।
৫. ‘ফাকি’ গল্পের ন্যতম প্রধান চরিত্র একটি নিরীহ, নিরপরাধ আমগাছ।– উদ্ধৃতিটি কতদূর সমর্থনযােগ্য?
উত্তরঃ লেখক রাজকিশাের পট্টনায়ক এর লেখা ফাঁকি গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটি আম গাছ। গােপালের বাবার তৈরি একটি কলমি চারা থেকে ধীরে ধীরে গাছটি বড় হয়ে ওঠে এবং একসময় সেই গাছটি বিশাল জায়গা জুড়ে বিস্তার করেছিল। পাড়ার বিভিন্ন লােক এবং ছেলেরা সেই গাছের নিচে ধীরে ধীরে গাছটি বড় হয়ে ওঠে এবং একসময় সেই গাছটি বিশাল জায়গা জুড়ে বিস্তার করেছিল। পাড়ার বিভিন্ন লােক এবং ছেলেরা সেই গাছের নিচে খেলাধুলা করা, বই পড়া, গল্প করা ইত্যাদি আরম্ভ করলাে। এভাবে বিরাট আকারের এই গাছটি গােপালের বাড়ির নিশানায় পরিণত হয়।
একদিন আষাঢ়ের ঝরে গাছটি মরে গেলে শুধু গােপালদের বাড়ির লােক নয় বরং পাড়ার সব লােক দুঃখ প্রকাশ করে। তারপর সবাই লক্ষ্য করে গাছটির একধার উই পােকা খেয়ে নিয়েছিল অথচ কারাে নজরে পড়েনি, যদি পরতাে তাহলে গাছটি এভাবে মরে যেত না। তাই গাছটিকে নিরীহ ও নিরপরাধ বলা সমর্থনযােগ্য।
৬. ‘পৃথিবী সবারই হােক।'— এই আশীর্বাণী ‘আশীর্বাদ’ গল্পে কীভাবে ধ্বনিত হয়েছে?
উত্তরঃ উত্তর-দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের লেখা ‘আশীর্বাদ’ গল্পে বক্তা হলাে গাছের পাতা। গল্প অনুযায়ী দিনশেষে পিঁপড়েকে মাটির নিচে আশ্রয় নিতে হয় বলে উপরে বলেছিল যে মাটি শুধু তাদের কিন্তু পাতা পিঁপড়েকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে মাটি শুধু তার নয় মাটি সবার জন্যই। পাতার এই কথার মধ্য দিয়ে এই পৃথিবীতে জীবজগতের প্রতিটি প্রাণীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই পৃথিবীর আলাে-বাতাস, জল, মাটি ভােগ করার অধিকার সবার সমান।
৭. ‘ছােট্ট গাড়ির মধ্যে যতটা আরাম করে বসা যায় বসেছি।'– এর পরবর্তী ঘটনাক্রম ‘এক ভুতুড়ে কাণ্ড’ গল্পনুসরণে লেখাে।
উত্তরঃ ছােট্ট বেবি অস্টিন গাড়ি খুব আস্তে আস্তে চলছিল। লেখক সেটিতে উঠে আরাম করে বসেন। কিন্তু গন্তব্য স্থান লালপুরার মােড়ে তিনি যে নামবেন সেকথা ড্রাইভারকে বলতে গিয়ে দেখলেন, ড্রাইভার নেই, গাড়ির মােটরও চলছে না। লেখক ভাবলেন নিশ্চয়ই তিনি ভুতের পাল্লায় পড়েছেন। এই কথা ভেবে লেখকের গলা শুকিয়ে গিয়ে, চোখ ঠিকরে বেরিয়ে এসে খুব খারাপ অবস্থা হয়েছিল। ঘন্টা দুয়েক পরে গাড়িটি লেভেল ক্রসিং এ পৌঁছলে লেখক রেলগাড়ি আসার আওয়াজ শােনেন। কিন্তু গাড়ি থামবার কোনাে লক্ষণ নেই। কোনােরকমে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়বার পর মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেনটি চলে গেল। লেখক দেখলেন তিনি বেঁচে গেছেন এবং মােটরগাড়িটিরও কিছু হয়নি। কিছুক্ষণ পর লেখক দেখলেন পিছন থেকে একটি লােক এগিয়ে এসে তার কাছে সাহায্য চাইছেন, গাড়িটি ঠেলে নিয়ে যাবার জন্য। আট মাইল পথ তিনি গাড়িটিকে ঠেলে নিয়ে আসছেন। এইবার লেখক গাড়িটি ড্রাইভারহীন অবস্থায় কেন ছিল তা বুঝতে পারলেন।
৮. ‘এক যে ছিল ছােট্ট হলুদ বাঘ’– ‘বাঘ’ কবিতা তানুসরণে তার কীর্তিকলাপের পরিচয় দাও।
উত্তরঃ নবনীতা দেবসেনের লেখা 'বাঘ' কবিতায় একটি ছােট্ট বাঘের রাগ, দু:খ এবং নানান কর্মকাণ্ডের পরিচয় পাওয়া যায়। সেই ছােট্ট বাঘটি থাকত তার বাবা-মায়ের সাথে পাখিরালয়ে। সেখানে শুধুই পাখি। ছাগল, ভেড়া, হরিণ কিছুই নেই, খাবে কি?
এজন্য খিদের চোটে তার রাগ জমে ওঠে। খিদের জ্বালায় সে পাখি ধরতে লাফ দেয় কিন্তু পাখিরা উড়ে পালায়। তাতে সে আরাে প্রচন্ড রেগে যায়। এরপর খিদে মেটানাের জন্য সে যায় নদীর ধারে কাকড়া ধরতে। বাঘছানা গর্তে থাবা ঢােকাতেই কাকড়া তার পঁড়া দিয়ে চিমটে ধরে। যন্ত্রনায় কেঁদে ওঠে। তারপর তার বাবা এসে তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে।আলােচ্য গল্পে ছােট্ট বাঘটির খিদের জ্বালায় এসব কীর্তিকলাপের পরিচয় পাওয়া যায়।

No comments:
Post a Comment