Model Activity Task Class 8 Part 8 Geography
মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক Class 8 Part 8 পরিবেশ ও ভূগোল
১. বিকল্পগুলি থেকে ঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো : ১ ×৯ = ৯
১.১ ঠিক জোড়াটি নির্বাচন করো
ক) অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল পদার্থের তরল অবস্থা
খ) বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল – পদার্থের ঘনত্ব সর্বাধিক
গ) অ্যাস্সেনোস্ফিয়ার – পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি
ঘ) ভূত্বক – লোহা ও নিকেলের আধিক্য
উত্তরঃ গ) অ্যাস্সেনোস্ফিয়ার – পরিচলন স্রোতের সৃষ্টি
১.২ রকি ও আন্দিজ পর্বতমালার সৃষ্টি হয়েছে –
ক) মহাসাগরীয় মহাসাগরীয় অপসারী পাতসীমানা বরাবর
খ) মহাসাগরীয় মহাসাগরীয় অভিসারী পাতসীমানা বরাবর
গ) মহাদেশীয়-মহাদেশীয় অভিসারী পাতসীমানা বরাবর
ঘ) মহাদেশীয়-মহাসাগরীয় অভিসারী পাতসীমানা বরাবর
উত্তরঃ ঘ) মহাদেশীয়-মহাসাগরীয় অভিসারী পাতসীমানা বরাবর
উত্তরঃ ঘ) মহাদেশীয়-মহাসাগরীয় অভিসারী পাতসীমানা বরাবর
১.৩ উত্তর ভারতের স্থলভাগের সীমানা রয়েছে –
ক) পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে
খ) নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে
গ) বাংলাদেশ ও ভুটানের সঙ্গে
ঘ) মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে
উত্তরঃ খ) নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে
১.৪ কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত নিয়ত বায়ু হলো
ক) দক্ষিণ-পূর্ব আয়নবায়ু
খ) উত্তর-পূর্ব আয়নবায়ু
গ) দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমাবায়ু
ঘ) উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমাবায়ু
উত্তরঃ খ) উত্তর-পূর্ব আয়নবায়ু
১.৫ ঠিক জোড়াটি নির্বাচন করো
ক) বজ্রপাতসহ প্রবল বৃষ্টি – সিরাস মেঘ
খ) জলীয় বাষ্পের জলকণায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া – বাষ্পীভবন
গ) বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল পর্বতের প্রতিবাত ঢাল
ঘ) ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে সর্বনিম্ন বায়ুচাপ – ঘূর্ণবাতের চোখ
উত্তরঃ ঘ) ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে সর্বনিম্ন বায়ুচাপ – ঘূর্ণবাতের চোখ
১.৬ পৃথিবীর বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ হলো
ক) হুরণ
খ) ইরি
গ) সুপিরিয়র
ঘ) মিশিগান
উত্তরঃ গ) সুপিরিয়র
১.৭ ঠিক জোড়াটি নির্বাচন করো—
ক) নিরক্ষীয় অঞ্চল – সূর্যের তির্যক রশ্মি –
খ) নিরক্ষীয় অঞ্চল-বায়ুর উচ্চচাপ
গ) মেরু অঞ্চল— বায়ুর উচ্চচাপ
ঘ) মেরু অঞ্চল – সূর্যের লম্ব রশ্মি –
উত্তরঃ গ) মেরু অঞ্চল— বায়ুর উচ্চচাপ
১.৮ উত্তর আমেরিকার আলাস্কা যে জলবায়ুর অন্তর্ভুক্ত তা হলো
ক) ক্রান্তীয় জলবায়ু
খ) লরেন্সীয় জলবায়ু
গ) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু
ঘ) তুন্দ্রা জলবায়ুু
উত্তরঃ ঘ) তুন্দ্রা জলবায়ু
১.৯ দক্ষিণ আমেরিকার লাপ্লাটা নদী অববাহিকায় অবস্থিত বিস্তীর্ণ তৃণভূমি হলো—
ক) গ্রানচাকো
খ) পম্পাস
গ) ল্যানোস
ঘ) সেলভা
উত্তরঃ খ) পম্পাস
২. শূণ্যস্থান পূরণ করো : ১ × ৩ = ৩
২.১ উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবাহিত একটি স্থানীয় বায়ু হলো __________________ ।
উত্তরঃ লু
২.২ কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে সমপরিমাণ বৃষ্টিপাতযুক্ত স্থানগুলিকে মানচিত্রে __________________ রেখার সাহায্যে যুক্ত করা হয়।
উত্তরঃ সমবর্ষণ
২.৩ দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতের পশ্চিমে অবস্থিত পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক অঞ্চল _______________মরুভূমি।
উত্তরঃ আটাকামা
৩. বাক্যটি সত্য হলে ‘ঠিক’ এবং অসত্য হলে ‘ভুল’ লেখো :
৩.১ রাত্রিবেলা স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে সমুদ্রবায়ু প্রবাহিত হয়।
উত্তরঃ ভুল
৩.২ আপেক্ষিক আর্দ্রতার সাথে উয়তার সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক।
উত্তরঃ ভুল
৩.৩ জুলাই-অগাস্ট মাসে আর্জেন্টিনায় গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।
উত্তরঃ ভুল
Model Activity Task Class 8 Part 8
৪. একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও : ১ × ৩ = ৩
৪.১ রিখটার স্কেলের সাহায্যে কী পরিমাপ করা হয়?
উত্তরঃ রিখটার স্কেলের সাহায্যে ভুমিকম্পের তিব্রতা পরিমাপ করা হয়
৪.২ গ্রানাইট শিলা গঠনকারী একটি খনিজের নাম লেখো।
উত্তরঃ গ্রানাইট শিলা গঠনকারী একটি খনিজের নাম হল কোয়ার্টজ ।
৪.৩ ভারতের কোন প্রতিবেশী দেশ মশলা উৎপাদনে বিখ্যাত ?
উত্তরঃ ভারতের প্রতিবেশী দেশ শ্রীলংকা মশলা উৎপাদনে বিখ্যাত।
৫. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও : ২ x ৪ = ৮
৫.১ ভূ-অভ্যন্তরের কোন স্তরে কীভাবে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছে ?
উত্তরঃ বিজ্ঞানীরা কেন্দ্রমন্ডলকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছেন, যথা – অন্তঃকেন্দ্রমন্ডল ও বহিকেন্দ্রমন্ডল। এই স্তর ২৯০০ কিমি- ৫১০০ কিমি গভীর | এর চাপ, তাপ ও ঘনত্ব অন্তঃকেন্দ্রমন্ডলের তুলনায় কম| এই স্তর অর্ধকঠিন অবস্থায় পৃথিবীর অক্ষের চারিদিকে আবর্তন করে চলেছে। এই বহিঃকেন্দ্রমন্ডল স্তরে সান্দ্র অবস্থায় থাকা লোহা ও নিকেল প্রচন্ড গতিতে ঘুরতে ঘুরতে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করছে। যেখানে থেকেই সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর চৌমকত্ব।
৫.২ পাকিস্তানে জলসেচের সাহায্যে কীভাবে কৃষিকাজ করা হয়?
উত্তরঃ পাকিস্তানের কৃষি কাজ মূলত জলসেচের ওপর নির্ভরশীল । পাকিস্তানের জলসেচ প্রধানত থালের মাধ্যমে। হয়ে থাকে । সিন্ধু ও তার উপনদী গুলোতে বাঁধ দিয়ে জলাধার তৈরি করা হয়েছে । জলাধারগুলো থেকে একাধিক সেচ খাল কাটা হয়েছে । পাকিস্তানের বেশীরভাগ জলসেচ এইভাবে করা হয়। তবে পশ্চিমের শুষ্ক অঞ্চলে মাটির নিচে সুরঙ্গ কেটে কৃষিক্ষেত্রে জল নিয়ে যাওয়ার প্রথা আছে, যার নাম ক্যারেজ প্রথা ।
৫.৩ উত্তর আমেরিকার প্রেইরি সমভূমি দুগ্ধশিল্পে উন্নত কেন ?
উত্তরঃ প্রেইরি সমভূমি অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রেইরি তৃণভূমি অবস্থিত। এলাকা 1/3 বসন্তকালে বরফ গলে যাওয়ায় এই তৃণভূমির বিস্তীর্ন তৃণক্ষেত্রে হে, ক্লোভার, আলফা তৃণ ও ভুট্টা জন্মায় । তাই এই তৃণভূমি পশুচারণক্ষেত্র হিসাবে বিখ্যাত । পশুজাত দ্রব্য যেমন দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য এখানে উন্নতমানের হিমাগার গড়ে উঠেছে। এই কারণে এই অঞ্চল দুগ্ধশিল্পে উন্নত।
৫.৪ সব মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় না কেন?
উত্তরঃ জলীয়বাষ্প উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হয় এবং বায়ুতে ভাসমান ধূলিকণা কে আশ্রয় করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণা বা তুষার কনায় পরিণত হয়। এই জলকণা বা তুষারকণার সমষ্টিকে বলে মেঘ। মেঘ সৃষ্টিকারী জলকনাগুলি বিভিন্ন কারণে সংযুক্ত হয় যেমন- বিদ্যুৎ মোক্ষনের জন্য বা ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ খুব শীতল হওয়ার জন্য। যেহেতু সব মেঘে জলকনা সংযুক্তির অনুকূল’ সৃষ্টি হয় না তাই সব মেঘে বৃষ্টি হয় না।
৬. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ৩ x ৩ = ১৫
৬.১ অভিসারী পাতসীমানাকে কেন বিনাশকারী পাতসীমানা বলা হয় তা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ অভিসারী পাতসীমানায় পাত দুটো পরস্পরের দিকে অগ্রসর হয় এবং পাতের সংঘর্ষ ঘটে। দুটো পাতের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভারী পাত হালকা পাতের নীচে প্রবেশ করে। এর ফলে নিমজ্জিত পাতটির গলন হয়, সমুদ্রখাত সৃষ্টি হয় ও ভূত্বকের বিনাশ ঘটে এবং এই অঞ্চলে প্রতিনিয়ত ভূমিকম্প ও অগ্নুৎপাত ঘটে। এই জন্য অভিসারী পাতসীমানাকে বিনাশকারী পাতসীমানা বলা হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে উপকূল বরাবর জাপান ও সন্নিহিত দ্বীপপুঞ্জ এইভাবে গড়ে উঠেছে।
৬.২ ‘আমাজন অববাহিকার ক্রান্তীয় বৃষ্টিঅরণ্য দুর্গম প্রকৃতির’— ভৌগোলিক কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ আমাজন অববাহিকার ক্রান্তীয় বৃষ্টি অরণ্য নিরক্ষরেখার উভয় পাশে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলে সারাবছর সূর্য লম্বভাবে পড়ে ফলে উষ্ণতা সবসময়েই বেশি থাকে (প্রায় 27°C) এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় (বার্ষিক 200-250cm প্রায়)। তাই এখানে এই অঞ্চলে চিরহরিৎ গাছের বনভূমির সৃষ্টি হয়েছে।
গাছের গুড়ি গুলি খুব লম্বা, মোটা গাছগুলি ঘন সন্নিবিষ্ট হওয়ায় আর পাতাগুলো বেশ চওড়া হয়। গাছগুলি অরন্যের ওপর চাঁদোয়ার মতো ঢেকে যায় এবং এর মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো বনভূমি তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। ফলেতলদেশ স্যাতসেঁতে এবং অন্ধকার হয়ে থাকে এবং এই অঞ্চলে জন্মায় নানান লতা, গুল্ম, পরগাছা ইত্যাদি এইসব প্রতিকূলতাই ক্রান্তীয় বৃষ্টি অরণ্য কে করে তুলেছে অত্যন্ত দুর্গম।
৬.৩ পম্পাস অঞ্চলকে দক্ষিণ আমেরিকার শস্য ভাণ্ডার বলা হয় কেন?
উত্তরঃ পম্পাস অঞ্চল হল দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম কৃষি সমৃদ্ধ অঞ্চল । প্ৰধানত সমতল ভূপ্রকৃতি, নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু, বৃহদায়তন কৃষিজমি, উর্বর পলি মৃত্তিকা ও বায়ুবাহিত লোয়েস মৃত্তিকা, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জলসেচ, সুলভ ও দক্ষ কৃষকের যোগান, কৃষিজাত দ্রব্যের চাহিদা ইত্যাদি অনুকূল প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার পম্পাস অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে গম, বার্লি, আখ, তামাক, তুলো, তিসি, সোয়াবিন, নানা রকম শাক সবজি ও ফল ইত্যাদি উৎপাদন হয়। বিভিন্ন ধরনের ফসল বা শস্য প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন হয় বলে পম্পাস অঞ্চলকে দক্ষিণ আমেরিকার শস্য ভান্ডার বলা হয়।
৭. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও : ৫ x ৩ = ১৫
৭.১ উদাহরণসহ উৎপত্তি অনুসারে আগ্নেয়শিলার শ্রেণিবিভাগ করো।
উত্তরঃ উৎপত্তি অনুসারে আগ্নেয় শিলা দুই প্রকার যথা:
i) নিঃসারী আগ্নেয় শিলা
ii) উদবেধী আগ্নেয় শিলা
i) নিঃসারী আগ্নেয় শিলা : ভূ-অভ্যন্তরের অত্যধিক চাপে উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা ভূত্বকের কোন দুর্বল ফাটলের মধ্য দিয়ে ভূপৃষ্ঠে লাভা রুপে এসে শীতল ও কঠিন হয়ে যে আগ্নেয়শিলা সৃষ্টি করে তার নাম নিঃসারী আগ্নেয় শিলা । খুব দ্রুত জমাট বেঁধে তৈরি হয় বলে এর দানা গুলো বেশ সূক্ষ্ম হয় । যেমন: ব্যাসল্ট,অবসিডিয়ান ।
ii) উদবেধী আগ্নেয় শিলা : ভূ-অভ্যন্তরের গলিত ম্যাগমা ভূত্বকের দুর্বল ফাটল বা ছিদ্রের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে না পেরে ভূ অভ্যন্তরেই ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে উদবেধী আগ্নেয়শিলার সৃষ্টি করে । যেমন : গ্রানাইট, ডোলেরাইট এই উদবেধী আগ্নেয় শিলা আবার দু’রকম হয় ।
যথা: উপপাতালিক শিলা, পাতালিক শিলা ম্যাগমা ভূ-অভ্যন্তরের কোন ফাটল বা ছিদ্রপথে ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে জমাট বেঁধে সৃষ্টি করে উপপাতালিক শিলা। যেমন: ডোলেরাইট ।
ম্যাগমা ভূ-অভ্যন্তরের একেবারে তলদেশে অতি ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে সৃষ্টি করে পাতালিক শিলা । যেমন – গ্রানাইট
৭.২ ‘বায়ুচাপ বলয়গুলির অবস্থান পরিবর্তন দুই গোলার্ধের ৩০° থেকে ৪০° অক্ষরেখার মাঝের স্থানগুলির জলবায়ুর উপর বিশেষ প্রভাব ফেলে’— উপযুক্ত উদাহরণসহ বিষয়টি ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ বায়ুচাপ বলয়গুলির অবস্থান পরিবর্তন দুই গোলার্ধের ৩০° থেকে ৪০° অক্ষরেখার মাঝের স্থানগুলির জলবায়ুর উপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। এই অঞ্চলগুলো গ্রীষ্মকালে আয়নবায়ু আবার শীতকালে পশ্চিমা বায়ুর দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়। যেমন-
(i) সূর্যের উত্তরায়নের সময় কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়টি উত্তর দিকে সরে যায়। ফলে গ্রীষ্মকালে স্থূলভাগ থেকে আগত উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ুর প্রভাবে ভূমধ্যসাগরের সন্নিহিত দেশগুলোতে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না।
(ii) আবার সূর্যের দক্ষিণায়নের সময় কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়টি দক্ষিণ দিকে সরে যাওয়ায় ভূমধ্যসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়। ফলে শীতকালে এই অংশে জলভাগের ওপর দিয়ে বয়ে আসা দক্ষিণ পশ্চিম পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হয়।
৭.৩ চিত্রসহ শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করো।
উত্তরঃ শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত : সমুদ্রের দিক থেকে আসা জলীয়বাষ্পযুক্ত আর্দ্র বায়ুর প্রবাহ পথে আড়াআড়ি ভাবে কোনো পর্বত বা উচ্চভূমি অবস্থান করলে ঐ বায়ু পর্বত বা উচ্চভূমিতে বাধা পেয়ে ঐ পর্বত বা উচ্চভূমির ঢাল বেয়ে ওপরের দিকে উঠে যায়। ঊর্ধ্বগামী এই বায়ু ক্রমশ প্রসারিত হয় ও ঠান্ডা হয়। আরও ওপরেউঠলে এই বায়ু সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে এবং ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এই বৃষ্টি হলো শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ( Orographic Rainfall)।
পর্বতের যে ঢাল বরাবর বায়ু ওপরের দিকে ওঠে ও বৃষ্টিপাত ঘটায় সেই ঢাল হলো প্রতিবাত ঢাল (Windward Slope)। আর এর বিপরীতে যে ঢাল বরাবর বায়ু নীচের দিকে নামে, সেই ঢাল হলো অনুবাত ঢাল (Leeward Slope) প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর বায়ু যখন পর্বতের অনুবাত ঢালে পৌঁছায় তখন সেই বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ যথেষ্ট কমে যায়। এছাড়া বায়ু যত নীচের দিকে ঢালের উন্নতর স্থানে নামতে শুরু করে বায়ুর উষ্ণতা তত বাড়তে থাকে ফলে বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বায়ু অসম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। এই কারণে অনুবাত ঢালে প্রতিবাত ঢাল অপেক্ষা বৃষ্টিপাত খুবইকম হয়। তাই পর্বতের অনুবাত ঢাল বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rainshadow Region) নামে পরিচিত।
No comments:
Post a Comment