আজ আমার বিয়ে। বারিতে হইচই পরে গেছে। আমি গায়ে হলুদ সেরে নিজের রুমে এসে বসলাম।আর পুরোনো সব কথা মনে পরছে। আমি একজন কে ভালোবাসতাম নাম সুমন। আমরা দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসতাম। আমাদের রিলেশন ছিলো 3বছর 5মাসের। তবে যতো আমাদের রিলেশনের বয়স বারতে থাকে ওর ভালোবাসা কমতে থাকে।আর সময় দিতো কম শুধু রাত 10টায়।কিছু মাস আগে যখন ফোন দিয়ে বোললাম-
আজ আমার বিয়ে।
আজ আমার বিয়ে। বারিতে হইচই পরে গেছে। আমি গায়ে হলুদ সেরে নিজের রুমে এসে বসলাম।আর পুরোনো সব কথা মনে পরছে। আমি একজন কে ভালোবাসতাম নাম সুমন। আমরা দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসতাম। আমাদের রিলেশন ছিলো 3বছর 5মাসের। তবে যতো আমাদের রিলেশনের বয়স বারতে থাকে ওর ভালোবাসা কমতে থাকে।আর সময় দিতো কম শুধু রাত 10টায়।কিছু মাস আগে যখন ফোন দিয়ে বোললাম-
আয়াতুল কুরসির ফজিলত ও বরকত
আয়াতুল কুরসির ফজিলত ও বরকত
মহাগ্রন্থ আল-কোরআন এমন ফজিলতপূর্ণ কিতাব, যার প্রতিটি অক্ষর পাঠে আছে সওয়াব। তবে কোরআনের বেশ কিছু আয়াত ও সুরা এমন আছে, যেগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্ম্যের কথা রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষভাবে ইরশাদ করেছেন। এমনই একটি আয়াতের নাম ‘আয়াতুল কুরসি’।
এই আয়াতটিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উবাই বিন কাব (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) উবাই বিন কাবকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার দৃষ্টিতে কোরআন মাজিদের কোন আয়াতটি সর্ব শ্রেষ্ঠ? তিনি বলেছিলেন, আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল হাইয়্যুল কাইয়্যুম তথা আয়াতুল কুরসি। তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাত দিয়ে তাঁর বুকে মৃদু আঘাত করে বলেন, আবুল মুনজির! এই জ্ঞানের কারণে তোমাকে মোবারকবাদ। (মুসলিম, হাদিস : ১৩৯৬)
আয়াতুল কুরসির এমন ফজিলতের কারণ হলো, এই আয়াতে আল্লাহর একত্ববাদ বিষয়ে বর্ণনা ও তাঁর গুণবাচক ১০টি বাক্য রয়েছে। আর শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার জন্যও এই আয়াত অত্যন্ত কার্যকর।
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক রমজান মাসে জাকাতের সম্পদ পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব আমাকে দিয়েছিলেন। তখন দেখতে পেলাম একজন আগন্তুক সদকার মাল চুরি করছে। তখন আমি আগন্তুকের হাত ধরে ফেললাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুলের কাছে নিয়ে যাব। তখন আগন্তুক বলল, আমি খুব অভাবী আর আমার অনেক প্রয়োজন। তার এ কথা শুনে দয়া করে তাকে ছেড়ে দিলাম। পরদিন সকালে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, গতকাল তোমার অপরাধী কী করেছে? আমি জবাব দিলাম, হে আল্লাহর রাসুল, লোকটি অনেক অভাবী তাই তাকে দয়া করে ছেড়ে দিয়েছি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, অবশ্যই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে। পরদিন আমি আবার অপেক্ষা করতে লাগলাম। যখন সে আবারও চুরি করতে এলো। তখন তাকে পাকড়াও করে বললাম, এবার অবশ্যই আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুলের কাছে নিয়ে যাব। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি খুব অভাবী, আমার পরিবার আছে, আমি আর আসব না। তখন আমি তাকে দয়া করে এবারও ছেড়ে দিলাম। পরদিন আবারও রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, গতকাল তোমার অপরাধী কী করেছে? আমি এবারও জবাব দিলাম, হে আল্লাহর রাসুল, লোকটি অনেক অভাবী তাই তাকে দয়া করে ছেড়ে দিয়েছি। এবারও রাসুল (সা.) বললেন, অবশ্যই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে। তৃতীয় দিনও আমি চোরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। যখন সে আবারও চুরি করতে এলো তখন তাকে পাকড়াও করে বললাম, এবার অবশ্যই আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুলের কাছে নিয়ে যাব, তুমি বারবার ওয়াদা করছ আর চুরি করতে আসছ। তখন (উপায়ন্তর না পেয়ে) সে বলল, আমাকে মাফ করে দাও। আমি তোমাকে এমন কিছু কথা বলে দেব, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন। আমি বললাম, সেগুলো কী? তখন সে বলল, যখন ঘুমাতে যাবে তখন আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমাবে। তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য একজন পাহারাদার নিযুক্ত করবেন যে তোমার সঙ্গে থাকবে আর কোনো শয়তান সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে আসতে পারবে না। এটা শুনে আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দিলেন। পরদিন রাসুল (সা.) আবার অপরাধীর কথা জানতে চাইলে তিনি আগের রাতের কথা বলেন। তখন রাসুল (সা.) বলেন, যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী; কিন্তু সে এই কথা সত্য বলেছে। রাসুল (সা.) আবু হুরায়রা (রা.)-কে আরো বলেন, তুমি কি জানো সে কে? আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, না। রাসুল (সা.) বলেন, সে হচ্ছে শয়তান। (বুখারি, হাদিস: ২৩১১)
সুবহানাল্লাহ! পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি এতই বরকতপূর্ণ যে রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি নামাজের পর এই আয়াত পড়বে, সে তার জান্নাতে যেতে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের বেশি বেশি আয়াতুল কুরসি পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
অপূর্ণ_জীবন
সাফাত কাত হয়ে শোয়া থেকে অন্যপাশে ফিরে। একি! অন্যপাশে ফিরে তো ও পুরো থ! কে ও? সাফাতের সামনে কে যেন তাঁর বড় ঘন কালো মেঘের মতো চুলগুলোকে আঁচড়াচ্ছে। পরনে তাঁর নীল শাড়ী। এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি। সাফাত তাকে চিনতেই পারছে না। কে এই রমনী যে ওর সামনে তাঁর কোমড় সমান মেঘমালার মতো কেশগুলো ছেড়ে দিয়েছে? তাও আবার ওর পছন্দের রঙের শাড়ী পরে। সাফাত চোখ কচলিয়ে আবার তাঁর দিকে তাকায়। সে তাঁর মতো চুলগুলো আঁচড়াচ্ছে। ও তাঁর পরিচয় না মেলাতে পেরে তাকে ডাকই প্রশ্নই করে বসি,
- এই কে তুমি?
সাফাতের ডাকে মেয়েটা রীতিমতো কেঁপে উঠে। দ্রুত চিরুনিটা রেখে মাথায় কাপড় দিয়ে ওর দিকে ফিরে তাকায়। এবার সাফাত স্পষ্ট দেখতে পারছে ও কে। রহস্যময় এই রমনী এখন আর অপরিচিতা নয় ওর কাছে। তাকে ও চিনি। সাফাত তাকে দেখা মাত্রই চোখটা বন্ধ করে ফেলে রাগে। কারণ সে আর কেউ নয় ওর স্ত্রী, মৌরি। কালো একটা মেয়ে। কিন্তু একটু আগেই মৌরিকে দেখে সাফাতের মনে হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী মায়াবী মেয়েটা ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু মুহূর্তেই আবার তা আঁধারে হারিয়ে গেল। সাফাতের প্রশ্নে মৌরি বলে উঠলো,
~ জ্বী আমি মৌরি। ভুলে গিয়েছেন?
- নাহ! কীভাবে ভুলবো তোমাকে? আমার জীবনটা...থাক সকাল সকাল দিনটা অার নষ্ট করতে চাইনা। আমি আরও ঘুমাবো।
এই বলে সাফাত আবার ঘুমিয়ে যায়। মেজাজটা খুব খারাপ লাগছে ওর। বিয়ে করেছে। কই একটু বউয়ের সাথে রোমান্স করবে কিন্তু এই কালো মেয়েকে ও দেখতেই পারে না। একদমই সহ্য হচ্ছে না ওর।
অন্যদিকে সকাল সকাল মৌরি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে বিতাড়িত হয়ে মুখটা মলিন করে তাড়াতাড়ি চুলটা বেঁধে রুম ত্যাগ করে একরাশ কষ্ট নিয়ে। বাড়ির নতুন বউ সে। অতএব তাঁর হাতের রান্না খাওয়ার জন্য সবাই ই বেকুল থাকবে।
মৌরি বেশ সাংসারিক একটা মেয়ে। নিজের বাসায় রোজ ওকেই নাস্তা, দুপুরের খাবার রান্না করতে হতো। আসলে রোজ বললে ভুল হবে যে কদিন ভার্সিটি অফ থাকতো সে কদিন ও ই রান্না করতো। ওর বাবা ওর হাতের রান্না খুব পছন্দ করতো। এই তো গতকালও বাবাকে রান্না করিয়ে খাইয়ে এসেছে। আর আজ সব ছেড়ে অচেনা মানুষের ভীড়ে পাড়ি জমিয়েছে। যেখানে নিজের স্বামীর কাছেই অবহেলিত ও। মেয়েদের জীবন বুঝি এমনিই? বাবার কাছে রাজকন্যা আর স্বামীর কাছে দাসী? বাবার কথা ভেবে মৌরির চোখ নোনা জলে ভরে আসে। আজ ওর প্রিয় বাবা আর ওর হাতের নাস্তা খেতে পারবে না। এতোদিন সেসব মানুষদের জন্য ও রান্না করেছে যারা ওকে আপ্রাণ ভালবাসতো। আর আজ যারা হয়তো ওকে নিয়ে কিছুক্ষণ পর উপহাস করবে তাদের জন্য ও রান্না করছে। এটাই বুঝি জীবন!
তাও সব তিক্ততা মেনে নিয়ে এই নতুন জীবনটাকে মৌরি সুন্দর করে সাজাতে চায়। শ্বশুর শ্বাশুড়ি যেন ওর কোন ভুল ধরতে না পারে ও সেভাবেই চলতে চায়। শত হলেও তাঁরা গুরুজন। তাদের সেবা করা খুশী করা সত্যি সাওয়াবের কাজ। মৌরি সে সাওয়াবটুকু চায়। তাই মনের মাধুরি দিয়ে সকালের নাস্তা বানাচ্ছে। ওর রান্নার হাত অসম্ভব ভালো। তার কারণ আবার এই কালো হওয়াই। ও কালো বলে ও একা একাই থাকতো। বাইরে ঘুরাঘুরি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা বাজি আরও কত কি। এসব কিছু থেকে ও দূরে থাকতো। সারাদিন মন দিয়ে পড়াশোনা করতো আর রান্না শিখতো। ঘরের কাজ করো। মাকে সাহায্য করতো। ছোট ভাইটাকে পড়াতো। এভাবেই ও ওর জীবনের ২২ টা বছর পার করেছে। এতে যে ও অখুশী তা কিন্তু নয়। ও বেশ খুশী এসবের জন্য। কারণ মৌরির কাছে ওসব অর্থহীন। তার চেয়ে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকাই ভালো। সাথে আল্লাহর ইবাদত। কারণ দিন শেষে আমাদের সবার আবার তাঁর কাছেই যেতে হবে। ও শুকরিয়া করে আল্লাহর কাছে ওকে কালো বানিয়েছে বলে। কোন সুন্দরী ফর্সা মেয়ে হলে হয়তো রূপের ঝলকে ও আল্লাহকে ভুলে না জানি কতই পাপে লিপ্ত হতো। তার চেয়ে এই জীবনটাই ভালো।
নাস্তা বানানো প্রায় শেষ। ঠিক সেই মুহূর্তে মৌরি ওর কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ পায়। কিছুটা আঁতকে উঠে ঘুরে তাকিয়ে দেখে ওর শ্বাশুড়ি।
~ আসসালামু আলাইকুম মা।
~ অলাইকুম আসসালাম। তুমি দেখি নাস্তা বানিয়ে ফেলেছো। এতো সকালে উঠলে কি করে?
~ মা এটা আমার পুরনো অভ্যাস। আমি সকাল সকাল উঠে পড়ি।
~ বাহ! খুব ভালো। তুমি নতুন বউ। তুমি বানাতে গেলে কেন। আমিই বানাতাম। তুমি কষ্ট করলে শুধু শুধু।
~ না না মা কি বলছেন। এটা আমার দায়িত্ব। আপনি অনেক কষ্ট করেছেন এতোদিন। আজ থেকে আপনার রেস্ট। আপনি শুধু বলবেন আমি তা তা করবো।
~ মাশাল্লাহ মাশাল্লাহ। এরকম বউমা ক'জনের কপালে থাকে। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের একটা মনের মতো বউমা দিয়েছেন।
মৌরি অনেকটা অবাক হয় শ্বাশুড়ির কাছ থেকে এতো ভালো আচরণ পেয়ে। কি অমায়িক তাঁর আচরণ। একদম ওর নিজের মায়ের মতো। কিন্তু ওর মনে একটা প্রশ্ন অনেকক্ষণ যাবৎ ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই ও সেটা করেই ফেলে।
~ আচ্ছা মা কিছু মনে না করলে একটা প্রশ্ন করি?
~ করো করো। কিচ্ছু মনে করবো না।
~ আমি তো কালো। আর উনি কত্তো সুন্দর ফর্সা। তাহলে কেন উনার জন্য আমাকে পছন্দ করলেন? আর কেনই বা আপনার আর বাবার আমাকে পছন্দ হলো? কেন মা?
সাফাতের মা মৌরির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
~ সত্যি বলতে মা প্রথমে আমারও তোমাকে পছন্দ হয়নি। কিন্তু সাফাতের বাবা আমাকে কিছু কথা বলেছেন। আমি ভেবে দেখেছি। কথাগুলো খুব মূল্যবান ছিল। শোনো, তোমার গায়ের রঙটা শুধু কালো আর বাকি সবদিক থেকে কিন্তু তুমি ১০০/১০০। এই যে তোমার মুখখানা একদম মায়ায় পরিপূর্ণ। এই মুখের দিকে তাকালেই তো তোমার মায়ায় পরে যাবে সবাই। তাই সাদা কালো এগুলো আসলে কিছুই না। সবই তো আল্লাহর সৃষ্ঠী। ভেদাভেদের প্রশ্নই ওঠে না।
মৌরির চোখে অশ্রু। ও সাফাতের মায়ের হাত ধরে বলে,
~ মা, বিশ্বাস করুন আমার মনে হচ্ছে আমি স্বপ্ন দেখছি। এরকম শ্বাশুড়ি পাওয়া খুব দুষ্কর। জানি না আমি স্বপ্ন দেখছি কিনা তবে আমি ভাগ্যবতী আপনার মতো একজন শ্বাশুড়ি পেয়ে।
~ আমি কি শুধু তোমার শ্বাশুড়ি? তোমার মা না? নাকি আমাকে মা ভাবা যায় না?
মৌরি মা বলে কাঁদতে কাঁদতে সাফাতের মাকে জড়িয়ে ধরে। সাফাতের মা ওকে স্বান্ত্বনা দেয়। সত্যিই এরকম শ্বাশুড়ি হয়তো সবার কপালে থাকে না। কিন্তু আবার থাকে। যারা বউমার ভুল ধরে না। বরং তাকে শুধরে দেয়। তাঁর মা হয়ে তাঁর পাশে থাকে। মৌরির পরিবারের পর আজ আরো দুজন যুক্ত হলো যাদের কাছে ওর কালো হওয়াটা কোন সমস্যা না। মৌরি আজ অনেক খুশী। তবে মনের ভিতরে এক আকুলতা রয়েই গিয়েছে। কারণ সাফাত ওকে মেনে নেয় নি। সাফাতের মা বলে উঠে,
~ বউমা নাস্তা তো বানানো শেষ। তুমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সাফাতকে নিয়ে আসো আমি ততক্ষণে নাস্তা টেবিলে দি।
~ না না মা। আমিই দিচ্ছি।
~ এই মেয়ে তুমি কি বলোতো? নতুন বিয়ে হয়েছে। কই খালি সুযোগে থাকবে জামাইয়ের কাছে যাওয়ার। আর তুমি আরও দূরে থাকতে চাচ্ছো। আসল কাহানী কি বলো তো?
মৌরি সাফাতের সম্পর্কে কিছু বলতে চায় না। কারণ সাফাত না করেছে। ও একটা হাসি দিয়ে বলে,
~ আচ্ছা মা যাচ্ছি।
~ যাও যাও। খুব দ্রুত নাতির মুখ দেখতে চাই কিন্তু। হাহা।
মৌরি লজ্জায় আর কষ্টে রান্না ঘর থেকে বের হয়ে হাত মুখ ধুয়ে ওর রুমে যায়। তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে আয়নায় নিজের কালো মুখটা একবার দেখে সাফাতের কাছে যায় ও। গুটি গুটি পায়ে সাফাতের কাছে এসে দাঁড়ায় ও। সাফাত ঘুমিয়ে আছে। কীভাবে ডাকবে ও সাফাতকে? যদি রেগে যায়? যদি আবার কথা শুনায়? তাও মায়ের আদেশ ডাকতে তো হবেই। মৌরি আস্তে করে বলল,
~ এই যে উঠুন মা ডাকছে। এই যে...
সাফাতের কোন খবর নাই। মৌরি হাল না ছেড়ে এবার আস্তে করে গুতো দিয়ে বলে,
~ এই যে উঠুন। নাস্তা খাবেন না? মা ডাকছে।
এবার সাফাত চোখ মিলে তাকায়। মৌরি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। সাফাত ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ও নিচের দিকে ভয়ে তাকিয়ে আছে। সাফাত কিছু না বলে আস্তে করে উঠে বসে। মৌরি খুব নম্রতার সহি বলে,
~ মা আমাদের নিচে ডেকেছে একসাথে। যদি ফ্রেশ হয়ে আসতেন তাহলে একসাথে নিচে যেতাম।
কথাগুলো মৌরি নিচে তাকিয়েই বলেছে। সাফাত উঠে দাঁড়ায়। কোন কথা বলে না। মৌরি সেভাবেই দাঁড়িয়ে ছিল। সাফাত আস্তে আস্তে ওর দিকে আগাচ্ছে। মৌরি সাফাতকে ওর দিকে এগোতে দেখে ভয়ে পিছাতে থাকে। সাফাত এগোচ্ছে মৌরি পিছাচ্ছে। একসময় ও পিছাতে পিছাতে সোফায় পড়ে যায়। আর সাফাতের দিকে তাকায়। সাফাত ওর ডান হাত তুলে থাপ্পড় দেওয়ার মতো করলে মৌরি প্রচন্ড ভয়ে চোখ বন্ধ করে নিজের হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে ফেলে। আর সাফাত মৌরির পাশে থাকা ওর তোয়ালেটা নিয়ে নেয়। মৌরি ওর শরীরে কোন স্পর্শ না পেয়ে হাত সরিয়ে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে সাফাত তোয়ালে হাতে দাঁড়িয়ে আছে। সাফাত ওর দিকে একটা রাগী লুক দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। মৌরি সেখানেই "থ" মেরে বসে আছে। ও ভেবেছে সাফাত ওকে মারবে। কিন্তু আসলে সাফাত তোয়ালে নিয়েছে। সাথে ওকে ভয় দেখিয়েছে। মৌরি কিছুক্ষণ পর উঠে নিজেকে একটু গোছাতে শুরু করে। আয়নায় তাকিয়ে ও মনে মনে বলে,
~ এই আয়না বলনা আমাকে, তোরও কি কালো মেয়ে অপ্রিয়? তুইতো প্রতিদিন সময় করে আমাকে দেখিস। তোরও কি আমাকে দেখতে খারাপ লাগে? অসহ্য লাগে তোর? বলনা আয়না। কালো মেয়েদের কপালে কি কখনো সুখ নেই? আচ্ছা তোর ভিতরে যে আরেক আমি আছি। সেও কি কালো? নাকি তাঁর গায়ের রঙ সাদা? তাঁর স্বামী নিশ্চয়ই তাকে অনেক ভালবাসে? সে কতো ভাগ্যবতী। আর আমার স্বামী! আমাকে ঘৃণা করে৷ এটাই বোধহয় আমার জীবন। তাই না?
এরমধ্যে সাফাত বেরিয়ে আসে। সাফাতকে দেখে মৌরি মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। সাফাত মুখ মুছতে মুছতে মনে মনে বলে,
- মেয়েটার মধ্যে কোন লজ্জা সরম নাই। জামা কাপড় চেঞ্জ কি ওর সামনে করবো? দাঁড়াও। আমাকে দেখার তো অনেক সখ তোমার। তোমার সামনেই জামা চেঞ্জ করবো অাজ।
বলেই সাফাত সুন্দর করে ওর পরনের গেঞ্জিটা ঠাস করে খুলে ফেলে। ওর উদাম বুকটা এখন সম্পূর্ণ মৌরির সামনে। মৌরির চোখ ডিমের মতো হয়ে গিয়েছে এ দৃশ্য দেখে। ও নড়তেও পারছে না। একদম পাথর হয়ে গিয়েছে। পুরো মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গিয়েছে। ও মনে মনে বলছে,
~ একি উনি এটা কি করলেন! আমার সামনে জামা খুলে ফেললেন? ওনার কি লজ্জা করছে না? আমার তো লজ্জায় গা হাত পা কাঁপছে। হায়! আল্লাহ আমি একি দেখছি। গলা শুকিয়ে আসছে।
মৌরি লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলে। সাফাত গেঞ্জিটা দ্রুত পরে ওর কাছে গিয়ে বলি,
- কি এখন লজ্জা পাচ্ছো কেন? এতক্ষণ তো লজ্জা সরম খেয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলে। তখন লজ্জা করে নাই? ফ্রেশ হয়ে এসেছি। জামা চেঞ্জ করবো। আর তুমি খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছো। মাথায় বুদ্ধি নাই? বোকা কালো মেয়ে।
মৌরি সাফাতের বকা খেয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। খুব খারাপ লাগছে ওর। বিয়ের রাত থেকেই সাফাত ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করেই যাচ্ছে। আর ও সব মেনে নিচ্ছে।
মৌরিকে বকা দিয়ে সাফাত আবার বলে,
- এতক্ষণ তো কান ঝালাপালা করে ফেলেছো এখন কি যাবা? নাকি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবা?
~ না না চলুন।
সাফাতের পিছে পিছে মৌরি হেঁটে নাস্তার টেবিলে আসে। এসেই,
~ আসসালামু আলাইকুম বাবা।
- অলাইকুম আসসালাম বউমা। কেমন আছো তুমি?
~ আলহামদুলিল্লাহ বাবা। আপনি?
- আলহামদুলিল্লাহ। সাফাত বস।
সাফাত বসে। ওর মা বলে উঠে,
~ আজকে সম্পূর্ণ নাস্তা আমাদের নতুন বউমা বানিয়েছে। আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি মৌরির সব বানানো শেষ। চিন্তা করো কত্তো পাকা মেয়েটা।
- এরজন্যই তো আমাদের একমাত্র ছেলের জন্য মৌরিকে পছন্দ করেছি। আমার চোখ সবসময় আসল খাটিটাই চিনে। মৌরি মাকে প্রথম দিন দেখেই বুঝেছি ও খুব ভালো। তাইতো ওকে পছন্দ করে আমাদের বউমা করেছি। কিরে মা তুই খুশীতো আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে?
মৌরি সাফাতের দিকে তাকায়। সাফাত ওর দিকেই তাকিয়ে ছিলো। মৌরি সাফাতের দিকে তাকিয়েই বলে,
~ জ্বী বাবা আমি অনেক খুশী। আচ্ছা আমি আপনাদের খাবার বেড়ে দিচ্ছি। মা আপনি বসুন।
~ আচ্ছা দেও।
মৌরি প্রথমে সাফাতের বাবাকে তারপর মাকে আর সবশেষে সাফাতকে খাবার বেড়ে দেয়৷ সাফাতের বাবা বলে,
- মা তুমিও সাফাতের পাশে বসো। আমরা দুজন তোমাদের একসাথে দেখি।
~ হ্যাঁ মা বসো তুমি।
মৌরি সাফাতের দিকে তাকিয়ে ওর পাশে বসে। আর নাস্তা নিয়ে খাওয়া শুরু করে সবার সাথে। সবাই চুপচাপ খাচ্ছে। মৌরির মনটা খচখচ করছে। কেউ কিছু বলছে না। তাহলে কি রান্না ভালো হয়নি? কিন্তু খাবার কিছুই বাকি নেই। সবাই সব নিয়ে খেয়ে ফেলেছে৷ মৌরি যখন হতাশায় ভুগছে তখন ওর শ্বশুর বলে উঠে,
- মাশাল্লাহ। আজ যা নাস্তাটা খেলাম না। আহ! প্রাণ জুড়িয়ে গিয়েছে। মৌরি মা মাশাল্লাহ। তোমার হাতের রান্নাতো অসম্ভব সুন্দর। ঠিক আমার মায়ের রান্নার মতো। আহ! মায়ের রান্নার কথা মনে পড়ে গিয়েছে। কি তাইনা সাফাতের মা?
~ একদম মনের কথা বলেছো তুমি। আমিও খেতে খেতে তাই ভেবেছি। কিরে সাফাত তুই কিছু বল।
- হুম ভালো হইছে।
~ ছেলেটা একদমই বোকা। অসম্ভব ভালো হয়েছে রান্না। মাশাল্লাহ। এখন থেকে বউমার হাতের রান্নাই খাবো।
~ ঠিক আছে।
~ দেখছো আবার ঠিক আছেও বলে।
- সাফাত খাওয়া দাওয়া শেষ হলে বউমাকে নিয়ে ওর বাসা থেকে ঘুরে আয় যা।
- এগুলোর আবার কিসের দরকার বাবা?
~ মেয়েটার বুঝি ওর বাবা-মার কথা মনে পড়ে না? তুই কি বোকা নাকি?
- যাওয়া সময় কিছু কিনে নিয়ে যাস। বোকার মতো খালি হাতে যাস না আবার শ্বশুর বাড়ি।
- আচ্ছা আচ্ছা। (বিরক্ত হয়ে)
মৌরি কিছু বলে না। চুপচাপ খেয়ে সব গুছিয়ে ওর রুমে আসে। এসে দেখে সাফাত একটা পাঞ্জাবি আর পায়জামা পরে রেডি হয়ে বসে আছে। সাফাত মৌরিকে দেখে রাগী ভাবে বলে,
- আমি বাইরে অপেক্ষা করছি তুমি ৫ মিনিটে রেডি হয়ে আসবে।
~ আচ্ছা।
সাফাত বাইরে বসে অপেক্ষা করছে। বেশ কিছুক্ষণ পর ওর মনে পড়ে যে ও ফোনটা রুমের মধ্যে রেখে এসেছে। তাই উঠে কিছু না ভেবেই ওর রুমে ঢুকে পড়ে। সাফাত ওর রুমে ঢুকে পুরো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে মৌরি দেখে৷ কারণ...
চলবে....
কালো সাদার কিছু শিক্ষনীয় বিষয় যা আপনার জীবন পাল্টে দিতে পারে !!!!
দুইদিন টিউশনি করানোর পর তৃতীয় দিন ছাত্রীর মা আমায় ডেকে আমার হাতে একটা খাম দিয়ে বললো,
- কাল থেকে তোমার আর আমার মেয়েকে পড়াতে হবে না। তুমি দুই দিন আমার মেয়েকে পড়িয়েছো। আমি তোমাকে ১ মাসেরই টাকা দিলাম।
আমি অবাক হয়ে ছাত্রীর মাকে বললাম,
-- আন্টি কিছু মনে না করলে জানতে পারি আমার অপরাধটা কি?
আন্টি অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বললো,
- না, তোমার কোন অপরাধ নেই। এমনিতেই তোমাকে আসতে হবে না।
আমি তখন ছাত্রীর মাকে বললাম,
-- আন্টি আমি আপনার মেয়েকে ১ মাস পড়াই। তারপর যদি আপনার মনে হয় আমি আপনার মেয়েকে ঠিক মত পড়াতে পারছি না; তখন না হয় আমাকে বাদ দিয়ে দিবেন। আমার আপত্তি থাকবেনা।
এইবার ছাত্রীর মা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
- আসলে আমার মেয়ে তোমার কাছে পড়তে চাচ্ছে না। শুধু ভালো পড়ালেই হয় না একটু দেখতে শুনতেও ভালো হতে হয়। তোমায় দেখলে না কি আমার মেয়ে ভয় পেয়ে যায়...
আমি আন্টির হাতে খাম দিয়ে বললাম,
-- টিউশনি করাতে হলে যে ফর্সা ভালো চেহারার অধিকারী হতে হয় তা আগে জানতাম না। যদি জানতাম তাহলে বিশ্বাস করেন আমি আপনার মেয়েকে পড়াতে আসতাম না...
ছাত্রীর বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় হাটছি আর কলেজ জীবনের কথা ভাবছি। কলেজে একবার একটা অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার জন্য স্যার ভালো একজন উপস্থাপক খুঁজছিলেন। আমি সবার সামনে হাত তুলে বলেছিলাম,
- স্যার, আমি ভালো উপস্থাপনা করতে পারি। স্কুলে পড়ার সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমি উপস্থাপনা করতাম..
স্যার আমার ভালো করে দেখে হাসতে হাসতে বলেছিলো,
-- তোর মত কাউয়া(কাক) যদি উপস্থাপনা করে তাহলে অনুষ্ঠানে যে কয়জন মানুষ আসবে সেই মানুষগুলোও পালাবে...
স্যারের এই এক কথাতে রাতারাতি আমার নাম আবুল বাশার পিয়াস থেকে "কাউয়া বাশার পিয়াস" হয়ে গিয়েছিলো। তখন আর কেউ আমায় আবুল বাশার পিয়াস নামে চিনতো না। সবাই চিনতো "কাউয়া পিয়াস" নামে...
কয়েকদিন আগে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা যাচ্ছিলাম। আমার পাশের সিটে বসেছিলো সুন্দরী একটা মেয়ে। আমি যখন আমার সিটে বসতে যাবো তখনি মেয়েটা নাক মুখ ওড়না দিয়ে চেপে ধরলো। বাস কিছু দূর যাবার পরেই মেয়েটা বাসের কন্ট্রাক্টরকে ডেকে বললো,
- আমায় এই সিটটা পাল্টে দেন তো। আমি অন্য কোথাও বসবো।
বাসের কন্ট্রাক্টর আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিয়ে তাকালো। তারপর মেয়েটাকে বললো,
-- আপা, এই লোকটা কি আপনার সাথে অসভ্যতামি করেছে? যদি কোনোরকম কিছু করে থাকে তাহলে বলেন। আমি এখনি লোকটাকে বাস থেকে নামিয়ে দিতেছি। কন্ট্রাক্টরের মুখ থেকে এমন কথা শুনে বাসের অন্য সব যাত্রীরা আমার উপর ক্ষেপে উঠলো। একজন লোক চিৎকার করে বললো,
~ অবশ্যই নোংরামি করেছে। তা না হলে আপা সিট ছেড়ে উঠতে যাবে কেন।
এক ভদ্রমহিলা মুখ বাঁকিয়ে বললো,
~ চেহারা দেখেই বুঝা যায় বদমাইশ টাইপ। এইসব কুলাঙ্গারদের জন্য মেয়েদের রাস্তাঘাটে চলাচলই এখন দায় হয়ে পড়েছে।
এমন একটা অবস্থা হয়ে পড়েছিলো যে বাসের সবাই মিলে এখন আমায় মারতে আসবে। আমি বহু কষ্টে সবাইকে থামিয়ে দিয়ে মেয়েটাকে বললাম,
-- আপনি আমার ছোট বোনের মত। আমি কি আপনার সাথে কোন নোংরামি করেছি?
মেয়েটা মাথা নিচু করে বললো,
- না।
আমি তখন বাসের যাত্রীদের বললাম,
-- ভাই আমার অপরাধ কি জানেন? আমার অপরাধ হলো আমি দেখতে কালো। আপনাদের মত সাদা চামড়ার কিছু মানুষ মনে করে আমাদের মত কালো মানুষের গা থেকে গন্ধ বের হয়। আপনাদের ধারণা পৃথিবীর সমস্ত খারাপ মানুষ কালোই হয়৷
যে ভদ্রমহিলা আমায় বদমাইশ, কুলাঙ্গার বলেছিলো সেই মহিলার কাছে গিয়ে বললাম,
-- আপনি আমার চেহারা দেখেই বুঝে গেলেন আমি বদমাইশ। বিশ্বাস করেন আমি কোনো বদমাইশি করছি তো দূরের কথা আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ের দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকাছি পর্যন্ত না। কিন্তু কেন জানি না এই মুহূর্তে আপনার সাথেই আমার বদমাইশি করতে ইচ্ছে করছে...
|
|
নিউমার্কেট এসেছিলাম কিছু শপিং করতে। এমন সময় আমার রুমমেট রাকিব ফোন দিয়ে বললো,
- মেসে আসার সময় দোকান থেকে আমার জন্য একটা ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম ক্রিম নিয়ে আসিস তো। আমি তোকে পরে টাকা দিয়ে দিবো।
রাকিবের কথা মতন কসমেটিকসের দোকানে গিয়ে ক্রিমের কথা বলতেই দোকানের ছেলেটা আমায় দেখে মুচকি হাসলো। তারপর আমার হাতে ক্রিমটা দিতে দিতে বললো,
- শুধু শুধু ভাই টাকা গুলো জলে ফেলবেন। আপনার যে কালার আপনাকে যদি ৩ দিন ৩ রাত হুইল পাউডার দিয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়; তবুও আপনার কালারের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না।
দোকানের ছেলেটার কথা শুনে মনে হচ্ছিলো ওর গালে একটা সজোরে থাপ্পড় মারি কিন্তু ওরই বা কি দোষ। দোষ তো আমার বাবা মার। কারণ উনারা আমাকে জন্ম দিয়েছে।
দোকান থেকে বের হয়েই মাকে ফোন দিলাম। মা ফোনটা রিসিভ করতেই আমি মাকে বললাম,
-- মা, শুনেছি বাবা মা কোনো পাপ করলে তার দায়ভার কিছুটা সন্তানের উপর এসে পড়ে৷ তোমরা কি কোনো পাপ করেছিলে যার ফল স্বরূপ তোমাদের ঘরে আমার মত একটা কালো ছেলে জন্ম নিলো।
মা আমার কথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে বললো,
-তুই আবার তোর গায়ের রঙ কালো দেখে মন খারাপ করছিস? তুই কালো দেখে কি হয়েছে। তুই আমার কাছে সোনার টুকরো ছেলে।
মা কেঁদে দিয়েছিলো দেখে আমি মাকে হাসানোর জন্য বললাম,
-- দেখলে মা তুমিও আমায় তেমন ভালোবাসো না। যদি ভালোবাসতে তাহলে সোনার টুকরো না বলে হীরের টুকরো বলতে।
আমার কথা শুনে মা হাসতে হাসতে বললো,
- তুই আমার কোহীনূর হীরার টুকরো ছেলে...
|
|
সবাই আমাকে কালো বলে দূরে সরিয়ে রাখলেও মা বাবার দোয়া সবসময় আমার সাথেই ছিলো। আর সে জন্যই হয়তো আমি খুব ভালো একটা চাকরি পেয়েছি। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই আমার উপর বাবা মা অত্যাচার করা শুধু করলো বিয়ের জন্য। আমিও বিয়ে করবো বলে রাজি হয়েছি তবে একটা শর্ত দিয়েছি। বিয়ে করলে আমি কালো কোন মেয়েকেই করবো।
আজ মেয়ে দেখতে যাবো। মাকে ডেকে বললাম,
- মেয়ে কালো তো?
মা বললো,
-- আমি মেয়েকে এর আগেও দেখেছি। মেয়ের গায়ের রঙ কালোই। কিন্তু আজ আমরা দেখতে যাবো বলে মেক-আপ করে হয়তো সুন্দরী হয়ে যাবে। তবে চিন্তা করিস না। মুখ ধোঁয়ার পর মেয়ে আবার কালো হয়ে যাবে...
আমরা ড্রয়িং রুমে বসে আছি মেয়ে দেখার জন্য। কিছুক্ষণ পর মেয়ে আসলো। মেয়েকে দেখেই কয়েক মিনিটের জন্য আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। একটা মেয়ে কি করে এত সুন্দর হতে পারে। ভালো করে মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি মুখে কোন মেকাপ নেই। শুধু চোখে হালকা একটু কাজল আছে। মেয়ে দেখা শেষ হলে আমি মাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে বললাম,
-- মা, তুমি না বলেছিলে মেয়ে কালো। এই মেয়ে তো দেখছি বেজায় সুন্দরী। শুধু সুন্দর না ভয়ংকর রকম সুন্দরী। তোমায় আগেই বলেছিলাম আমি, নিজে যেমন ঠিক তেমন মেয়েই বিয়ে করবো।
আমার কথা শুনে মা বললো,
-আরে মেয়ে সুন্দর না। মেক-আপ করেছে তো তাই সুন্দর লাগছে।
আমি মায়ের হাতটা ধরে বললাম,
-- কেন শুধু শুধু মিথ্যা বলছো মা। মেয়ে কোনো মেক-আপ করে নি। এত সুন্দর একটা মেয়ে।হয়তো ও চাইবে ওর হাজবেন্ড যেন খুব সুদর্শন হয়। আমার সাথে বিয়ে হলে দেখা যাবে মেয়েটার লাইফটাই নষ্ট হয়ে গেছে। আমার সাথে একটা সেলফি তুলতে পারবে না। বান্ধবীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে লজ্জা পাবে। একসাথে ঘুরতে লাজ্জা পাবে।
আমার কথা শুনে মা কাঁদতে কাঁদতে বললো,
- তুই কালো হয়েছিস দেখে কি একটা সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করতে পারবি না?
আমি মাকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
-- না পারি না মা। একটা সুন্দরী মেয়ে কখনোই একটা কালো ছেলেকে বিয়ে করতে চায় না। যদি কখনো বিয়ে করতে রাজি হয় তাহলে ভেবে নিবে হয় মেয়েটা বাবা মায়ের চাপে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে। নয়তো কালো ছেলেটার খুব ভালো ক্যারিয়ার আছে সেজন্য রাজি হয়েছে...
দুপুরে অফিসে বসে কাজ করছি। এমন সময় একটা অচেনা নাম্বার থেকে কল আসলো। আমি ফোনটা রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে একটা মেয়ে বললো,
- আমি শ্রাবণী। কাল আপনারা যে মেয়েটাকে দেখতে গিয়েছিলেন আমিই সেই মেয়ে।
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
--আপনি আমায় হঠাৎ ফোন দিলেন যে?
মেয়েটি তখন বললো,
- আমি আপনার অফিসের নিচে। দয়া করে একটু আসবেন? আপনার সাথে আমার জরুরী কিছু কথা আছে....
#যারা গল্প পড়তে ভালোবাসেন আমার আইডিটা ঘুরে আসতে পারেন। ভালো লাগলে রিকোয়েস্ট দিয়ে ফলো করতে পারেন..ধন্যবাদ
একটা রেস্টুরেন্টে আমি আর মেয়েটি বসে আছি। রেস্টুরেন্টের অনেকেই আমাদের হা করে দেখছে। আমি চেয়েছিলাম রেস্টুরেন্ট বাদে অন্য কোথাও বসতে কিন্তু মেয়েটিই আমায় জোর করে এইখানে নিয়ে আসলো।
কফির মগে মেয়েটি চুমুক দিতে দিতে আমায় বললো,
-- সত্যি বলতে আপনাকে আমার প্রথম দেখাতে ভালো লাগে নি। কিন্তু আড়লে যখন আপনি আপনার মায়ের সাথে কথা বলছিলেন আমি আপনার সব কথা শুনে নিয়েছিলাম। তারপর থেকেই আপনাকে প্রচন্ড ভালোবেসে ফেলেছি। ১ মিনিটের কথা শুনে যে কাউকে ভালোবেসে ফেলা যায় সেটা যদি আমার সাথে না ঘটতো তাহলে আমি হয়তো কখনোই বিশ্বাস করতাম না।
আমি মাথা নিচু করে বললাম,
-- তারমানে আপনি আমায় করুণা করছেন?
মেয়েটি কফির মগটা রেখে আমার হাতধরে বললো,
- আমায় একটাবার সুযোগ দাও। আমি তোমায় এতটাই ভালোবাসবো যে মেয়েদের সম্পর্কে তোমার ধারণাটাই পাল্টে দিবো....
ডাক্তারের চেম্বারের সামনে বসে আছি। এমন সময় দেখি ডাক্তারের চেম্বার থেকে আমার ছাত্রী পিহু আর ওর মা বের হচ্ছে। আমি আন্টিকে সালাম দিয়ে বললাম,
-- আন্টি আমায় চিনতে পেরেছেন? আমি আপনার মেয়েকে দুইদিন পড়িয়েছিলাম। কিন্তু ৩ দিনের দিন আমায় বের করে দিয়েছিলেন।
আন্টি তখন বললো,
- হ্যাঁ। চিনতে পেরেছি..
এমন সময় রুম থেকে শ্রাবণী এসে বললো,
- সরি সরি, আজ রোগীর খুব চাপ ছিলো তাই দেরি হয়ে গেলো। অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছো। তাই না?
আমি তখন আন্টিকে বললাম,
--আন্টি, আমার স্ত্রী শ্রাবণী।
আর শ্রাবণীকে বললাম,
- ও হলো পিহু। একসময় আমার ছাত্রী ছিলো।
শ্রাবণী মুচকি হেসে বললো,
-- হ্যাঁ আমি জানি ওর নাম পিহু। আমিও ওর ট্রিটমেন্ট করছি।
আন্টি আর পিহু আমাদের দিকে হা করে তাকিয়ে রইলো। আমি হেঁটে যেতে যেতে শ্রাবণীকে বললাম,
-- পিহুর কি হয়েছে?
শ্রাবণী বললো,
- এক টিচারের সাথে ওর শারিরীক সম্পর্ক ছিলো। পরে প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়। কোন ক্লিনিকে যেন এভরসন করিয়েছে। এখন বিয়ের পর আর বাচ্চা হচ্ছে না...
হঠাৎ শ্রাবণী দাঁড়িয়ে বললো,
- ঐ, এই টিচারটা তো কোনোভাবে তুমি নাতো?
আমি রেগে গিয়ে বললাম,
-- আমি কেন হতে যাবো?আমি কালো বলেই তো আমাকে ৩ দিনের দিন বের করেই দিয়েছিলো।
আমার কথা শুনে শ্রাবণী হাসতে হাসতে বললো,
- নীল শার্টে তোমায় খুব সুন্দর লাগছে।
আমি মাথা নিচু করে বললাম,
-- কাউয়ার মত লাগছে...
আমার কথা শুনে শ্রাবণী আমার হাত ছেড়ে দিয়ে বললো,
- যে ছেলে নিজে নিজেকে সম্মান করে না;তাকে মানুষে কিভাবে সম্মান করবে..
শ্রাবণী রাগ করে একা একা হাঁটছে। আর আমি ওর পিছু পিছু যাচ্ছি আর ভাবছি, কালো কলঙ্কের দাগ হলেও মাঝে মধ্যে কালোকে বাদে সাদাকে অসম্পূর্ণ লাগে..❤
আজ আমার বাসর রাত ?
আজ আমার বাসর রাত। রুমের ভিতরে এ বাড়ির নতুন বউ আমার অপেক্ষায় বসে আছে। আর আমি? বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। অনেক আগেই রুমে ঢুকেছি। কিন্তু বউয়ের কাছে যাই নি। কারণ বউ আমার কল্পনার মতো রূপসী কোন মেয়ে না৷ সে কালো। হ্যাঁ তাঁর গায়ের রঙ কালো। বিয়েতে একজন বন্ধু বান্ধবও বাদ যায় নি যারা আমাকে কথা শুনায় নি। রাগে দুঃখে কষ্টে গা'টা জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। মন চাচ্ছে ভিতরে ঢুকে গলা চেপে মেয়েটাকে মেরে ফেলি। আমার মতো হ্যান্ডসাম গুড লুকিং ইঞ্জিনিয়ার ছেলের সাথে একটা কালো মেয়ে! এটা বেমানান। একদমই বেমানান। কোন ভাবেই যায় না। তাহলে কেন এই বিয়েটা করলাম?
ওই সেই একই কারণ। বাবা-মার মেয়েটাকে পছন্দ হয়েছে তাই আমার উপর জোর খাটিয়ে বিয়েটা দিয়েছে। বাবা-মার বয়স হয়েছে তাদের সাথে যে বেয়াদবি করবো তাও সম্ভব না। কারণ সে শিক্ষা আমাকে কখনোই তারা দেয় নি৷ আবার মেনে নিতেও পারছি না মেয়েটাকে।
ইচ্ছা ছিল একটা সুন্দরী রূপবতী মেয়েকে বিয়ে করবো। যাকে নিয়ে রাস্তায় বের হলে সব্বাই হা করে তাকিয়ে থাকবে৷ সব্বাই বলবে, ওই দেখ ইঞ্জিনিয়ার এর বউটা কত্তো সুন্দর। কিন্তু তা আর কিছুই হলো না। এখন সবাই বলবে, ওই দেখ কালি বউ নিয়া ঘুরে ইঞ্জিনিয়ার সাফাত। ছিঃ ভাবতেই ঘিন লাগছে৷
এদিকে সাফাতের স্ত্রী মৌরি একা একা ভিতরে রুমে বসে মন খারাপ করে ভাবছে,"নিশ্চিত ওনার আমাকে পছন্দ হয় নি। না হওয়ারই কথা। কালো একটা মেয়েকে কারই বা পছন্দ হবে। সেতো মাশাল্লাহ কত্তো সুন্দর। কেন যে আমাকে বিয়ে করলো। না করলেই পারতো। আমি কি তার কাছে যাবো? নাকি ঘুমিয়ে পড়বো? কি করবো আমি? আল্লাহ তুমি আমাকে কেন কালো বানালে? আজকের দিনটা প্রতিটি মেয়ের কাছে বিশেষ এক রাত। কিন্তু আমার কাছে হয়তো তা অভিশাপ। আমার কপালে সুখ নেই। আছে একরাশ তিক্ততা। হয়তো এই তিক্ততা নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে আজীবন। উনি কি আজ আর ভিতরে আসবেন না?"মৌরি এসব ভাবতে ভাবতেই সাফাত ভিতরে ঢুকে।
আমার চোখে মুখে ভীষণ গাম্ভীর্যতা। রাগ হলে আমার মুখ লাল হয়ে যায়। আজও তার ব্যতিক্রম হয় নি। মৌরিকে মাত্র দু'বার দেখেছি। একবার যখন দেখতে গিয়েছি তখন। আর একবার আজ বিয়ের সময়। এছাড়া তেমন দেখিনি। ইচ্ছা হয় নি দেখার। এরকম কালো মেয়েকে কে দেখতে চাইবে? কেউ না। আমিও চাই না৷ আর ভালো লাগছে না বাইরে। তাই রুমে ঢুকে আলমারি থেকে ট্রাউজার আর টি-শার্ট নিয়ে সোজা ওয়াশরুমে চলে গেলাম।
মৌরি সাফাতের এই আচরণ দেখে খুব ব্যথিত হলো। একটা বার ওর দিকে তাকালোও না। কালো হওয়া কি এতোই খারাপ? কালো মানুষেরা কি ভালবাসা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না? আমি তো ইচ্ছা করে কালো হইনি। আল্লাহ তায়ালা আমাকে কালো বানিয়েছেন। এটা কি আমার দোষ? মৌরি এসবই ভাবছিলো। এরমধ্যেই সাফাত বেড়িয়ে আসি।
বাইরে এসে মুখ মুছতে মুছতে মৌরির দিকে একবার তাকালাম। মেয়েটা বঁধু সাজে চুপচাপ মাথা নিচু করে লাল বেনারসি পরে গোলাপের পাপড়ির উপর বসে আছে। আমার অপেক্ষায়। কিন্তু আমার ওকে দেখে কেন জানি রাগ আরো বেড়ে যাচ্ছে। যে মেয়েকে মনে ধরে নি তাকে কীভাবে বউ হিসেবে মানবো! তোয়ালেটা সোফায় ছুড়ে মেরে বেডে গিয়ে বসি। আমার পিছনেই মৌরি বসে আছে। আমি অন্যদিকে ফিরে পা ঝুলিয়ে বসে আছি। ভাবছি কি করবো। ওকে কথা শুনাতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু এখন কিছুই ভালো লাগছে না। তাই বেডে পা তুলে অন্যদিকে ফিরেই শুয়ে পড়ি।
মৌরি সাফাতকে শুয়ে পড়তে দেখে মনে মনে বলছে,"একি উনি শুয়ে পড়লেন! আমার কি হবে? আমি কি এভাবেই বসে থাকবো? আমাকে দেখবে না? আমার সাথে একটু কথা বলবে না? আমি কি করবো এখন?" ও বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে সাফাতের এই আচরণে।
মৌরি কিছু না ভেবেই ওর আঙুল দিয়ে আস্তে করে সাফাতের বাম হাতে একটা গুতো দিয়ে বলে,
~ এই যে শুনুন। আমার সাথে একটু কথা বলুন। কিছু না বলেই শুয়ে পড়লেন যে।
আমি কান দিয়ে মৌরির মিষ্টি কোকিলা কণ্ঠটা শুনলেও জেদ করে চোখ বন্ধ করে শুয়েই আছে। এদিকে মৌরি সাফাতের কোন সাড়া না পেয়ে আবার বলে,
~ আমি জানি আপনি ঘুমান নি। একটু উঠে কথা বলুন। আমাকে দেখুন। আপনার জন্যই সেজেছি। আপনার স্ত্রী তো আমি। আমাকে একটু দেখবেন না?
এবার আমি একলাফে উঠে ঘুরে মৌরির দিকে তাকিয়ে রাগী কণ্ঠে বলে,
- না! দেখবো না আমি তোমাকে। আমার ইচ্ছা নাই তোমাকে দেখার। আমার বাবাকে পটিয়ে আমাকে বিয়ে করেছো। তোমরা সবাই বাটপার। সুন্দর ছেলে পেয়ে আমার বাবাকে মাখন লাগিয়ে তোমার বাবা তাঁর কালো মেয়েটাকে আমার গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছে। যত্তসব বাটপার লোক।
সাফাতের কথাগুলো মৌরির ভিতরটাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খান খান করে দিয়েছে। ও এতোক্ষণ ঘোমটার আড়ালেই ছিলো। ও ভেবেছিলো সাফাত হয়তো ওর ঘোমটাটা তুলবে৷ কিন্তু সাফাত তো ওর মনটাকে ভেঙে শেষ করে দিলো। তাও বিয়ের প্রথম রাতেই। মৌরি সাফাতের কথা শোনার পর মুহূর্তেই নিজ থেকে ঘোমটা তুলে অশ্রুসিক্ত নয়নজোড়া নিয়ে সাফাতের তিক্ততা ভরা মুখের দিকে তাকায়। যে চাহনিতে আছে অজস্র কষ্ট আর অপমানিত বোধ।
এই প্রথম আমি মৌরিকে এতোটা কাছ থেকে দেখলাম। চোখে কাজল, বড় বড় পাপড়ি, ডান চোখের পাশে একটা ছোট্ট কালো তিল আছে। নাকটা পারফেক্ট। ঠোঁটদুটো গোলাপের পাপড়ির মতো। খুব মিষ্টি লাগছে। শুধু মুখের রঙটা কালো। আসলে অতিরিক্ত কালো না। মৌরি যে ভারি মেকাপ করেছে তা কিন্তু মোটেও না। মেকাপ বলতে চোখে কাজল, ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক এই অার কিছু না। আমার কাছে তাই ই মনে হলো৷ তবে ও কালো। কোন ফর্সা মেয়ে না৷ যদি ও ফর্সা হতো একদম আমার মনের মতো হতো। শুধুমাত্র কালারটার জন্যই মৌরিকে আমি এখন মেনে নিতে পারছি না। ওর অশ্রুসিক্ত চোখ আমার বিবেককে নাড়া দেয়। কিছুটা বুঝতে পারছি যে বেশী বলে ফেলেছি। তাই আমি নজর নামাই। আর ও বলে উঠে,
~ আপনি এখন অামার স্বামী। আমার উপর আপনার অধিকার আছে। তাই আপনি আমাকে যাতা বলতে পারেন। কিন্তু দয়া করে আমার পরিবারকে কিছু বলবেন না। আপনার বাবা আমাকে পছন্দ করেছে। আমার সাথে কথা বলেছে। আমার বাবা তাকে বারবার জিজ্ঞেস করেছে যে, আমার মেয়ে তো কালো। ওকে এর আগে অনেকেই না করে দিয়েছে। আপনি ভেবে চিন্তে হ্যাঁ বলছেন তো? আপনার বাবার উত্তর হ্যাঁ ই ছিলো। আমার বাবা আমার পরিবার বাটপার না। দয়া করে তাদের কিছু বলবেন না। তাদের কোন দোষ নেই।
- তাদের সত্যিই কোন দোষ নেই। দোষ যতসব আমার কপালের। তোমার মতো কালো মেয়েই আমার কপালে ছিলো। কতো স্বপ্ন ছিল এই রাতটা নিয়ে। সব শেষ। কয়লা ধুইলে যেমন ময়লা যায় না। ঠিক তোমার মতো কালো মেয়ে কখনো ফর্সা হবে না। আমার জীবনটাই শেষ। আমি কখনোই তোমাকে মেনে নিতে পারবো না। এটা কোন সিনেমা না। এটা আমার বাস্তব জীবন। আমি এতো উদার না যে আমি তোমাকে মেনে নিবো আর তোমার অধিকার তোমাকে দিব। কখনো না। আমি তোমার মতো কালো বউ চাই না। আমি এখন ঘুমাবো। আমাকে আর ডাকবা না। আর হ্যাঁ বাবা-মা যেন কিছু না জানে। তুমি তোমার মতো আমি আমার মতো থাকবো। কখনো আমার কাছে আসার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করবে না। কখনো না।
মনের যত্ত ক্ষোভ ছিল সব বের করে মৌরিকে শুনিয়ে আমি অন্যদিকে ফিরে ঘুমিয়ে পড়ি। বেশ হালকা লাগছিলো। কিন্তু রাগটা যায় নি। হয়তো কখনো যাবেও না।
অন্যদিকে মৌরি বাকরুদ্ধ। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে সাফাতের কথা শুনে। বিয়ের প্রথম রাতেই চোখ দিয়ে অঝোরে অশ্রু ঝরছে। নিঃশব্দে কান্না করতে করতে মৌরি নিজের হাত দুটো তুলে দেখছে ও কতটা কালো। ও মনে মনে বলছে,
~ আজ এই গায়ের রঙ আমাকে আমার অধিকার, সুখ সবকিছু থেকে বঞ্চিত করলো। সত্যিই মানুষেরা সবাই সুন্দরের পূজারী। সুন্দর ফর্সা গায়ের রঙ সবার প্রিয়, সুন্দর একটা মন তাদের কাছে প্রিয় না। হ্যাঁ আমি কালো। কালোই আমার পরিচয়। আমার ভাগ্যে কখনো সুখ নেই এই কালো হওয়ার জন্য। এটাই হয়তো আমার নিয়তি। আল্লাহ আমি মেনে নিলাম তোমার এই নিয়তিকে। দেখি কতদূর যেতে পারি। এ সমাজে আর কতদিন টিকে থাকা যায় আমিও দেখবো।
ওভাবেই বসে অনেকক্ষণ পার করে মৌরি। চোখের জলগুলো শুকিয়ে গিয়েছে। ও আস্তে করে উঠে জামা নিয়ে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে নামাজে দাঁড়িয়ে যায়। একমাত্র আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য নামাজ সবচেয়ে উত্তম। ও নামাজ শেষে মোনাজাতে অনেক কাঁদে। আল্লাহর কাছে অনেক নালিশ করে। আল্লাহর সাথে মনে মনে অনেক কথা বলে। মনটা যখন কিছুটা হালকা হয় তখন মোনাজাত শেষ করে উঠে দাঁড়ায় ও। জায়নামাজটা পাশে রেখে মৌরি সাফাতের দিকে তাকায়। বেঘোরে ঘুমাচ্ছে ও। মনের অজান্তেই কোন এক অজানা টানে মৌরি সাফাতের কাছে যায়। মানে যেদিকটা ফিরে সাফাত ঘুমাচ্ছিলো। ও সাফাতের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। খুব নিষ্পাপ মনে হচ্ছে। সাফাত দেখতে খুব সুন্দর। ফর্সা টানটান মুখ, বড় বড় সিল্কি চুল, ফিটফাট বডি। খুব আকর্ষনীয় ও। মৌরি সব অপমান ভুলে সাফাতের কাছে এসে বসে ওকে দেখছে। রুমে একটা ছোট ডিম লাইট জ্বলছিলো। সেই আলোতেই মৌরি সাফাতকে দেখছে। বেডে হাত রেখে তার উপর মাথা রেখে ও সাফাতকে দেখছে। নিজের স্বামীকে হয়তো সারাজীবন এভাবেই দেখতে হবে। মৌরি ওর একটা হাত ভাসমান অবস্থায় সাফাতের মুখের পাশে ধরে। সাদা আর কালো। কোন মিল নেই। ও আস্তে করে হাতটা সরিয়ে আনে। আর মনে মনে বলে,
~ আপনি কত্তো সুন্দর। আপনার জীবনটা সত্যিই আমি অন্ধকার করে দিলাম। আজ রাতটায় আমার জায়গায় কোন সুন্দরী অপরূপা হলে আপনি কত্তো খুশী হতেন। আপনার সব খুশী আমার কালোত্ব কেড়ে নিল। আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন। আমার কালো কপাল আপনার জীবনের সব সুখ কেড়ে নিল। সব।
মৌরি কাঁদতে কাঁদতে উঠে আস্তে করে সাফাতের পাশে অন্যদিকে ফিরে শুয়ে পড়ে। মাথার বালিশটা সাক্ষী ও কতটা কেঁদেছিলো সেদিন রাতে।
পরদিন সকালে,
দক্ষিণা জানালা দিয়ে ঠান্ডা একটা বাতাস এসে মুখে লাগে। সাথে সাথে ঘুমটা ভেঙে যায়। চোখ মিলে তাকাই। রাতের সব আস্তে আস্তে মনে পড়ে। নিজের কপাল ভেবে নি সব। সবার কপালে সব কিছু থাকে না। সবার সব ইচ্ছা কখনো পূরণ হয় না। আমারও হয়নি। বিয়ের প্রথম রাতে বউটাকে নিজের কাছে পাইনি। হয়তো কখনোই পাওয়া হবে না। কালো বউকে আমি কখনো মেনে নিব না। এসব ভেবে কাত হয়ে শোয়া থেকে অন্যপাশে ফিরি। একি! অন্যপাশে ফিরে আমি তো পুরো থ! কে ও?
চলবে..?
#অপূর্ণ_জীবন
পর্বঃ ০১
সবার ভালো সাড়া চাই। আর কেমন লেগেছে জানাবেন কিন্তু। সাথে থাকবেন সবসময়। ধন্যবাদ।
☞সকলে ১ বার হলেও শেয়ার করুন
ইলমহীন আবেগী জাতি আমরা।
ইলমহীন আবেগী জাতি আমরা।
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
এক বৃষ্টিঝরা দিনে তিনি মুয়াযযিনকে বললেনঃ আজকের আযানে যখন তুমি “আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লা-হ” বলে শেষ করবে তার পরে কিন্তু “হাইয়্যা ‘আলাস সলা-হ” বলবে না। বরং বলবে, “সল্লু ফী বুয়ূতিকুম” অর্থাৎ- তোমরা তোমাদের বাড়ীতেই সলাত আদায় করে নাও।
হাদীসের বর্ণনা কারী (‘আবদুল্লাহ ইবনু হারিস) বলেছেনঃ এরূপ করা লোকজন পছন্দ করল না বলে মনে হ’ল। তা দেখে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস বললেনঃ তোমরা এ কাজকে আজগুবি মনে করছ? অথচ যিনি আমার চেয়ে উত্তম তিনি এরূপ করেছেন। জুমু’আর সলাত আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু তোমরা কাদাযুক্ত পিচ্ছিল পথে কষ্ট করে চলবে তা আমি পছন্দ করিনি। (ই.ফা. ১৪৭৪, ই.সে. ১৪৮২)
*সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৪৮৯
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস*
সহজ দ্বীন কে হয়তো অজ্ঞতা কিংবা আবেগ দিয়ে কঠিন করে তুলেছি।
ছবিটি 'ঘূর্ণিঝড় ইয়াস' এর তান্ডবের সময়/পরবর্তীকালীন ছবি(নেট থেকে নেওয়া)
যদিও এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের জামাত ত্যাগ করার সুযোগ ছিলো কিন্তু অজ্ঞতা কিংবা আবেগ তা করতে দেয়নি।অথচ হাদিস তা করার পক্ষে বার্তা দেয় রাসূল ﷺ করেছেন বলে উল্লেখ করে।।
ডক্টর জাকির নায়েক লেকচার: Duties of Muslims as a professional
স্পেনের মাদ্রিদ যাদুঘরে "ইহুদী, খ্রিস্টান ও মুসলিম" নামে পরিচিত এই মূর্তি সম্পর্কে কিছু শিক্ষনীয় বিষয়
স্পেনের মাদ্রিদ যাদুঘরে "ইহুদী, খ্রিস্টান ও মুসলিম"
নামে পরিচিত এই মূর্তিটি দেখে একজন ইহুদী পর্যটক অভিযোগ করলে কর্তৃপক্ষ তাকে বললো,
"আপনিতো উপরে আছেন, এরপরও কেন অভিযোগ?"
ইহুদী বললো,"কিন্তু যখন মুসলিমটি দাঁড়িয়ে যাবে তখন তো আমরা দু'জনই পড়ে যাব।"
~অপেক্ষা_শুধু_মুসলমানদের_উঠে_দাঁড়ানোর~
সময় টা আর বেশি দূরে নয়।
ইনশা আল্লাহ,,
হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের নিয়ম
হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের সাথে যদি (_) এই চিহ্ন ব্যবহার করা হয় এবং যে আইডি থেকে পোস্ট/কমেন্টস করা হচ্ছে সেটা যদি পাবলিক করা না থাকে অর্থাৎ লক করা থাকে তো সেই হ্যাশট্যাগ কাউন্ট হবে না!
যে হারে কমেন্টস হচ্ছে; মিলিয়ন ছাড়ানোর কথা অনেক আগেই।
লক্ষ্য করুন, চ্যালেঞ্জ পোস্ট গুলো কিন্তু কাউন্টের দিক থেকে এগিয়ে।
হ্যাশট্যাগ ইউজ করার সঠিক নিয়ম আমরা অনেকেই হয়তো জানি না। হ্যাশট্যাগ ইউজ করে যদি কোনো কাউন্ট ই না হয় তাহলে ওই হ্যাশট্যাগ ইউজ করে কোনো লাভ নাই। আমরা অনেকেই (_) এই সাইন টা ইউজ করি, কিন্তু এটা ইউজ করলে হ্যাশট্যাগ কাউন্ট করা হয় না আন্তর্জাতিক ভাবে। 99% মানুষেরই হ্যাশট্যাগ কাউন্ট হচ্ছে না।। অামার টাও ভুল ছিল।। তারপর গুগলে সার্চ করে দেখলাম।। ভাবতে খুব কষ্ট হচ্ছে এত ভুল হ্যাশট্যাগ কাউন্ট হবে না।। সবাই নবীকে ভালোবেসে হ্যাশট্যাগ দিচ্ছে অার একটু ভুলের জন্য তা কাউন্ট হচ্ছে না।। এইটা সবার জানা উচিত।। ভারতীয়রা এগিয়ে গেলে আমাদেরই ক্ষতি হবে। সবাই হ্যাশট্যাগ সঠিক নিয়মে ইউজ করুন এবং নিজেদের আইডি এবং পোস্ট প্রাইভেসি পাবলিক করে রাখুন।
সকল গ্রুপ ও পেইজে এটা কপি অথবা শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন৷।
(বি:দ্র- এমতাবস্থায় যেহেতু আগের হ্যাশট্যাগ অনেক দূর এগিয়ে গেছে,তাই আমাদের উচিত হবে দুই ভাবেই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা।এতে দুটাই ব্যবহার হবে সাথে সন্দেহ ও দূর হবে।)
তারপরও থেমে যাওয়া চলবেনা
হ্যাশট্যাগ দিয়ে যাও অন্তত ৫ বার
#savepalestine
#savethemuslims #StopTerrorismAgainstMuslims #AlAqsa #StopConspiracyAgainstIslam #stopIsraeliTerrorism
#GazaUnderAttack
#AlAqsaUnderAttack
#WeHateIsrael
#WestandwithPalestine
#PalestineWillBeFree
#FreePalestine
#bangladeshstandswithpalestine
#BDstandsWithPalestine
#La_ilaha_illallahu_muhammadur_rasulullah
#We_are_follower_of_Our_Prophet_Hazrat_Muhammad_Sallallahu_Alaihi_Wasallam
একি কলার দাম ভিন্ন রকমের কেন একটি শিক্ষোনিয় বিষয়
বিদ্যুৎ অফিসের সামনে চায়ের দোকানে কলা ঝুলিয়ে রেখেছে বিক্রির জন্যে!!
বিদ্যুৎ অফিসের এক প্রকৌশলী চা খাওয়ার সময় জিজ্ঞেস করলো কলার দাম কত?
দোকানদারঃ কি কাজে কলা ব্যবহার করবেন তার উপর নির্ভর করে কলার দাম!!
প্রকৌশলীঃ মানে কি ?
দোকানদারঃ যদি কোন মিলাদ বা ধর্মীয় কাজে নেন তাহলে দুই টাকা পিচ, যদি রুগির জন্যে নেন তাহলে ৩টাকা পিচ, আর যদি নিজে খাওয়ার জন্যে নেন তবে ৫ টাকা পিচ!
প্রকৌশলীঃ ইয়ার্কি কর, একই কলার দাম বিভিন্ন হয়?!
দোকানদারঃ একই খুঁটি হতে বিদ্যুৎ বাসায় গেলে একদর, দোকানে গেলে আরেক দর, কারখানায় গেলে আরেক দর। তাহলে আমার কলা কি দোষ করলো?
জয়_হোক_মানবতার
মৃত্যুর তোয়াক্কা না করে প্রিয় খেলোয়াড়ের জার্সি গায়ে প্রতিপক্ষকে লাল কার্ড দেওয়া একজন ফুটবল ভক্ত❤️🇵🇸❤️
মেসুত ওজিল আর ফুটবল তার কতটা প্রিয় হলে কেউ জীবন মৃত্যুর এই সন্ধিক্ষণেও জীবন বাজি রেখে নিজের ভালোবাসাকে এভাবে প্রকাশ করে এটা লেখার মতো ক্ষমতা আমার নেই। এটা লেখার মতো ক্ষমতা কারোর নেই।
লড়ে যাও হে বীর তুমি ইসলামের জন্য। হয়তো সুযোগ নেই যাওয়ার ফিলিস্তিন তবেঁ তোমরা বাংলার প্রতিটা মুসলমানের মোনাজাতে থাকবে। জানি বিশ্বমুসলিম আজ চুপ থাকলেও তারাও তোমাদের ইমানি শক্তি দেখে লজ্জা পাচ্ছে।
#জয়_হোক_মানবতার
#savepalestine
#savethemuslims #StopTerrorismAgainstMuslims #AlAqsa #StopConspiracyAgainstIslam #stopIsraeliTerrorism
#GazaUnderAttack
#AlAqsaUnderAttack
#WestandwithPalestine
#PalestineWillBeFree
#FreePalestine
#La_ilaha_illallahu_muhammadur_rasulullah
#We_are_follower_of_Our_Prophet_Hazrat_Muhammad_Sallallahu_Alaihi_Wasallam
নেলসন ম্যান্ডেলা কিছু শিক্ষা মুলক কাহিনী
দীর্ঘ ২৭ বছর জেল খাটার সময় , নেলসন ম্যান্ডেলা সূর্য কি জিনিস চোখে দেখেননি । তারপর তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর একদিন তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে বললেন : -
চলো আজ শহর দেখি । চার দেয়ালের ভিতর বন্দি থেকে , জীবনের দীর্ঘ সময় কেটে গেলো । এখন নিজের শহরটি কেমন হয়েছে , নিজের চোখে না দেখলেই নয় ।
সহকর্মীদের সাথে নিয়ে নেলসন ম্যান্ডেলা শহরের অলিতে গলিতে হাঁটলেন । তাঁর খুব ক্ষিদে পেলো । ক্ষিদে লাগার পর ম্যান্ডেলা বললেন : -
চলো , সামনের মোড়ে যদি কোনো রেস্তোরাঁ পাই ,
সেখানেই কিছু খেয়ে নিতে চাই । সহকর্মীরা তো অবাক ! বুঝতে পেরে ম্যান্ডেলা বললেন , অবাক হওয়ার কিছুই নেই , ক্ষিদে পেয়েছে , খাবো । জেলখানার ওই বিভৎস খাবার খেয়েও যেহেতু মরিনি , তাই এতো সহজে মরবো না ।
সবাই মিলে টেবিলে খেতে বসেছেন ।
অল্পদূরে আরেকজন ভদ্রলোক বসে আছেন , বেশ বয়ষ্ক । হোটেলের ওয়েটারকে ডেকে ম্যান্ডেলা বললেন , একটা চেয়ার এনে আমার পাশে রাখো এবং ওনাকে বলো , আমার টেবিলে বসে খেতে ।
ভদ্রলোক আসলেন । এসে তাঁর পাশের চেয়ারটায় বসলেন । খেতে খেতে সবাই গল্প করছেন । কিন্তু পাশে বসা ভদ্রলোকটি কিছুই খেতে পারছেন না । ওনার হাত কাঁপছে । চামচ থেকে খাবার প্লেটে পড়ে যাচ্ছে । ম্যান্ডেলার সহকর্মীদের একজন বললেন ,
আপনি মনে হয় অসুস্থ । ভদ্রলোক চুপচাপ রইলেন । কিছুই বললেন না ।
ম্যান্ডেলা নিজ হাতে ওনাকে খাবার খাইয়ে দিলেন এবং ওয়েটারকে ডেকে বললেন , ওনার খাবার বিলটা আমরা পরিশোধ করবো ।
খাবার শেষে সেই বয়স্ক ভদ্রলোক বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন । কিন্তু সবাই অবাক চোখে দেখলো , লোকটি ভালো করে দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারছেন না । শরীরের কাঁপুনি ক্রমবর্ধমান ।
ম্যান্ডেলা নিজ হাতে ওনাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করলেন এবং সহকর্মীদের একজনকে বললেন , ওনাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসতে ।
সহকর্মীদের মধ্যে আরেকজন বললেন , এতো অসুস্থ শরীর নিয়ে উনি বাড়ী পৌঁছাতে পারবেন তো ! এই সময় ম্যান্ডেলা বলতে শুরু করলেন ,
আসলে উনি অসুস্থ না । আমি জেলের যে সেলে বন্দি ছিলাম উনি ছিলেন সেই জেলের গার্ড । প্রচন্ড মার খেয়ে আমার খুব তৃষ্ণা পেতো । পিপাসায় কাতর আমি যতবার জল জল বলে আর্তনাদ করতাম , ততবার উনি আমার সমস্ত শরীরে প্রসাব করে দিতেন । আজ আমি দেশের প্রেসিডেন্ট ।
দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মানুষ হওয়ার পর , আমি ওনাকে আমার টেবিলে একসাথে খাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ করেছি ! তাই সেই সব দিনগুলোর কথা মনে করে উনি খুব ভয় পেয়েছেন ।
কিন্তু ক্ষমতাবান হয়েই ক্ষমতাহীন মানুষকে শাস্তি দেয়া তো আমার আদর্শের পরিপন্থী । এটা আমার জীবনের এথিকসের অংশ নয় । তাই শাস্তি পাওয়ার পরিবর্তে উনি ভালোবাসা পেয়েছেন । আমার মুখে আর শরীরে উনি প্রসাব করেছেন । কিন্ত ওনার মুখে আমি খাবার তুলে দিয়েছি । আমি আপনাদের যেমন প্রেসিডেন্ট , তেমনি ওনারও প্রেসিডেন্ট ।
প্রতিটি নাগরিককে সম্মান জানানো আমার নৈতিক দায়িত্ব । শুধুমাত্র প্রতিশোধ নেয়ার মানসিকতা'ই একটি তৈরী রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দিতে পারে ।
আর সহনশীলতার মানসিকতা একটি ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রকে তৈরী করতে পারে ।
ফিলিস্তিনি শহীদ আবু সালাহ.....!
এই সেই ফিলিস্তিনি শহীদ আবু সালাহ.....!
যিনি প্রতিবন্ধী হয়েও মসজিদুল আকসা রক্ষার্থে প্রতিনিয়ত লড়াই করেই গেছেন।
আল্লাহ পাক যেন ভাইটিকে শহীদী মর্যাদা দিয়ে জান্নাতুল ফিরদউস নাসিব করেন। আমিন
নিচের এই হ্যাশট্যাগ গুলি ব্যবহার করুন
#SavePalestinians
#savesheikhjarrahfreedom
#StopConspiracyAgainstIslam
#AlAqsa
#Palestine_Under_attack
#PalestinianLivesMatter
#Palestine_PrayForGaza
#PalestineWillBeFree
#SaveTheMuslims
#gaza_under_attack_now
#WeStandForPalestines
#WeStandWithSheikJarrah
#israeliattackonalaqsaa
#IsraeliTerrorism
#StopIsraelTerrorism
#boycott_israel_prodouct
কি জবাব দিবেন সেই দিন?
সবুজটা ফিলিস্তিন আর লালটা ইসরাইল,
বাকিটা নিয়ে নিলে কি মুসলিম বিশ্বের শাসকদের ঘুম ভাঙ্গবে।
আল্লাহু যদি হাশরের মাঠে প্রশ্ন করে কি করেছিলে তুমি তোমার অত্যাচারিত নিপিড়ীত মুসলমান ভাইদের জন্যে?
কি জবাব হবে তখন?
কি জবাব দিবেন সেই দিন?
আল্লাহু যদি বলে আমি তো তোমাকে যথেষ্ট শক্তি দিয়েছিলাম, যে সময় তোমার পঙ্গু মুসলিম ভাই ফিলিস্তিনে লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিল কি করেছিলে তুমি,
হে মুসলিম বিশ্বের শাসক সত্যিই সেদিন কোন জবাব থাকবে না?
#SavePalestine 🇵🇸
#SaveTheMuslims 🤲
#StopConspiracyAgainstIslam ✋
#GazaUnderAttack 🤲
#AlAqsaUnderAttack 🕌
#FreePalestine 🇵🇸
#StandForPalestine ✊
#StandWithSheikhJarrah ✊
#SaveSheikhJarrahFreedom 🤲
#StopTerrorismAgainstMuslims ✋
#AlAqsa 🕌
#SaveAqsa 🕌
#MasjidAlAqsa 🕌
#SavethefirstKibla 🕋
#stopIsraeliTerrorism ✋
#WeStandForPalestine 🇵🇸
#Islamwillwin ✌️
#westandwithalaqsa ✊
বিয়ে করি তবে কিছু কথা
বাবার স্নেহ
'স্নেহ'
আমার
দুয়ার কাটা অন্ধকারে
তুই এসেছিস একটা নতুন
সকাল প্রভাত হয়ে--
তুই এসেছিস
একটা নতুন সকাল প্রভাত হয়ে,
আমার দুয়ার কাটা অন্ধকারে।
তুই এসেছিস
আমার স্নেহ সুরধুনী তপ্ত মরুর মাঝে,
প্রভাতের সোনা রোদ হতে,তুই সুন্দর
হাজারো ফুলের মাঝে আমার দুয়ার
কাটা অন্ধকারে।
ধানের শীষে সবুজ রঙে
তুই অনেক বেশী কোমল
সতেজ---
আমার
দুয়ার কাটা অন্ধকারে
তুই এসেছিস একটা নতুন
সকাল প্রভাত হয়ে।
যখন দেখি
তোর মিষ্টি হাসি,প্রাণ ভরে যায়
এমনি হাসি--
তুই না থাকলে
জীবন অসুন্দর,তুই না থাকলে
জীবন অম্ল!
তুই আছিস
জীবন সুন্দর,তুই আছিস
জীবন মধুর--
মধুর তোর হাসির পরে
আকাশের তারা গুলো সব
হার মানে,
ওরা সব হিংসে করে,
মধুর তোর হাসির পরে,
আমার দুয়ার কাটাঅন্ধকার
তুই এসেছিস একটা নতুন
সকাল প্রভাত হয়ে।
তুই এসেছিস
একটা নতুন সকাল প্রভাত হয়ে,
আমার দুয়ার কাটা অন্ধকারে।
------'স্নেহ'----
অধিকাংশ মানুষই জানেই না কেনো মুসলমানদের নিকট মসজিদুল আকসা এতোটা গুরুত্বপূর্ণ??
অধিকাংশ মানুষই জানেই না কেনো মুসলমানদের নিকট মসজিদুল আকসা এতোটা গুরুত্বপূর্ণ??
যেখানে ইহুদিরা সমগ্র ফিলিস্তিনই দখল করে নিয়েছে, সেখানে মাত্র ১৪ একর জায়গার জন্য কেনো এতো অত্যাচার নির্যাতনের পরেও ফিলিস্তিনের মুসলমানরা বারবার মসজিদের দিকে ধাবিত হচ্ছে!!
১. এখানেই রয়েছে হযরত ইব্রাহিম এবং মূসা (আ) সহ অসংখ্য নবী রাসুলের কবর।
২. এখানেই আল্লাহর বন্ধু প্রিয় নবী রাসুল ছাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া ছাল্লাম সকল নবী রাসুলদের এবং ফেরেস্তাদেরকে নিয়ে নামাজ পড়ছিলেন। সেই জামাতের ইমাম ছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া ছাল্লাম, এবং এই জামাতে মতান্তরে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার নবী রাসুল ছিলেন।
৩. এখান থেকেই হজরত মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া ছাল্লাম বোরাকে করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলেন।
৪. এই মসজিদের নির্মাণের সাথে জড়িয়ে আছে হজরত আদম আঃ এবং সুলাইমান আঃ এর নাম।
৫. এর সাথে জড়িয়ে আছে খলিফা হজরত উমর (রা) এর সেই বিখ্যাত উটের বিরল ঘটনা।
৬. এখানের সাথেই জড়িয়ে আছে দ্যা গ্রেট সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবীর অসংখ্য স্মৃতি।
৭. এই মসজিদের পাথরের গায়ে লেখা রয়েছে সম্পূর্ণ সূরা ইয়াসিন।
৮. এই মসজিদের জন্য জ্বীনদের দ্বারা পাথর উত্তোলন করা হয়েছে সাগরের তলদেশ থেকে। যা কিনা কোন মানুষের পক্ষে অসম্ভব!!!
৯. এই মসজিদে ২ রাকাআ'ত নামাজ আদায় করার জন্য ২৫ হাজার রাকাআ'ত নামাজের সওয়াব লিখা হবে।
১০. পবিত্র কোরআনে সবচেয়ে বেশি মহান আল্লাহ এই মসজিদ নিয়ে আলোচনা করছেন।
তোমাদের কেউ যদি কোনো খারাপ কাজ বা বিষয় দেখে তাহলে সে যেন হাত দিয়ে তা পরিবর্তন করে দেয়, যদি তা করতে অপারগ হয় তাহলে যেন মুখ দিয়ে তার প্রতিবাদ করে, যদি তাও করতে সক্ষম না হয় তাহলে যেন অন্তর দিয়ে তা ঘৃণা করে, আর এটাই হচ্ছে ঈমানের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বলতম স্তর। (বুখারি, হাদিস নং: ১৯৪)
আল্লাহ পাক ঘুমন্ত মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানদের বিবেককে জাগ্রত করুন,আমিন।
হ্যাস ট্যাগ ব্যবহার করুন ।
মনে পরে সবার??
গত বছর ফ্রান্স যখন আমার নবী আপনার নবী
সবার প্রাণের নবী মোহাম্মদ (সাঃ) কে অবমাননা করার প্রতিবাদে আমরা
হ্যাস ট্যাগ বয়কট ফ্রান্স লিখে ঝড়ে উড়িয়ে দিয়েছিলাম?
শেষে ফ্রান্স নরে গেলো।
আজকে সেই সময় আবার এসেছে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানোর।
হ্যাস ট্যাগ যুদ্ধে আবার নামা হয়েছে।
তাই যতদিন না ইসরাইলের হামলা থামছে।
ততদিন আমাদের হ্যাস ট্যাগ যুদ্ধ থামবে না।
আর ততদিন হৃদয়ে প্রাইমারি ও শিক্ষক নিবন্ধনসহ সকল জব পরিক্ষার প্রস্তুতি গ্রুপে প্রতিটি পোস্টের সাথে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করি
হ্যাশট্যাগ কেন দেব?
কেয়ামতের দিন আল্লাহ জিজ্ঞেস করলে যেন বলতে পারি জীবন দিতে পারি নাই কিন্তু মজলুম ভাইদের পাশে থেকে ইসলামের পক্ষে ছিলাম!
আল্লাহ ফিলিস্তিন কে হেফাজত করুক, আমীন!😔
#SavePalestine 🇵🇸
#SaveTheMuslims 🤲
#StopConspiracyAgainstIslam ✋
#GazaUnderAttack 🤲
#AlAqsaUnderAttack 🕌
#FreePalestine 🇵🇸
#StandForPalestine ✊
#StandWithSheikhJarrah ✊
#SaveSheikhJarrahFreedom 🤲
#StopTerrorismAgainstMuslims ✋
#AlAqsa 🕌
#SaveAqsa 🕌
#MasjidAlAqsa 🕌
#SavethefirstKibla 🕋
#stopIsraeliTerrorism ✋
#WeStandForPalestine 🇵🇸
#Islamwillwin ✌️
অন্ধবধূ
অন্ধবধূ
পায়ের তলায় নরম ঠেকল কী!
আস্তে একটু চলনা ঠাকুর-ঝি —
ওমা, এ যে ঝরা-বকুল ! নয়?
তাইত বলি, বদোরের পাশে,
রাত্তিরে কাল — মধুমদির বাসে
আকাশ-পাতাল — কতই মনে হয় ।
জ্যৈষ্ঠ আসতে কদিন দেরি ভাই —
আমের গায়ে বরণ দেখা যায় ?
—অনেক দেরি? কেমন করে’ হবে !
কোকিল-ডাকা শুনেছি সেই কবে,
দখিন হাওয়া —বন্ধ কবে ভাই ;
দীঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ি জাগে —
শেওলা-পিছল — এমনি শঙ্কা লাগে,
পা-পিছলিয়ে তলিয়ে যদি যাই!
মন্দ নেহাৎ হয়না কিন্তু তায় —
অন্ধ চোখের দ্বন্ধ চুকে’ যায়!
দুঃখ নাইক সত্যি কথা শোন্ ,
অন্ধ গেলে কী আর হবে বোন?
বাঁচবি তোরা —দাদা তো তার আগে?
এই আষাড়েই আবার বিয়ে হবে,
বাড়ি আসার পথ খুঁজে’ না পাবে —
দেখবি তখন —প্রবাস কেমন লাগে ?
—কী বল্লি ভাই, কাঁদবে সন্ধ্যা-সকাল ?
হা অদৃষ্ট, হায়রে আমার কপাল !
কত লোকেই যায় তো পরবাসে —
কাল-বোশেখে কে না বাড়ি আসে ?
চৈতালি কাজ, কবে যে সেই শেষ !
পাড়ার মানুষ ফিরল সবাই ঘর,
তোমার ভায়ের সবই স্বতন্তর —
ফিরে’ আসার নাই কোন উদ্দেশ !
—ঐ যে হথায় ঘরের কাঁটা আছে —
ফিরে’ আসতে হবে তো তার কাছে !
এই খানেতে একটু ধরিস ভাই,
পিছল-ভারি — ফসকে যদি যাই —
এ অক্ষমার রক্ষা কী আর আছে !
আসুন ফিরে’ — অনেক দিনের আশা,
থাকুন ঘরে, না থাক্ ভালবাসা —
তবু দুদিন অভাগিনীর কাছে!
জন্ম শোধের বিদায় নিয়ে ফিরে’ —
সেদিন তখন আসব দীঘির তীরে।
‘চোখ গেল ঐই চেঁচিয়ে হ’ল সারা।
আচ্ছা দিদি, কি করবে ভাই তারা —
জন্ম লাগি গিয়েছে যার চোখ !
কাঁদার সুখ যে বারণ তাহার — ছাই!
কাঁদতে গেলে বাঁচত সে যে ভাই,
কতক তবু কমত যে তার শোক!
’চোখ’ গেল– তার ভরসা তবু আছে —
চক্ষুহীনার কী কথা কার কাছে !
টানিস কেন? কিসের তাড়াতাড়ি —
সেই তো ফিরে’ যাব আবার বাড়ি,
একলা-থাকা-সেই তো গৃহকোণ —
তার চেয়ে এই স্নিগ্ধ শীতল জলে
দুটো যেন প্রাণের কথা বলে —
দরদ-ভরা দুখের আলাপন
পরশ তাহার মায়ের স্নেহের মতো
ভুলায় খানিক মনের ব্যথা যত !
এবার এলে, হাতটি দিয়ে গায়ে
অন্ধ আঁখি বুলিয়ে বারেক পায়ে —
বন্ধ চোখের অশ্রু রুধি পাতায়,
জন্ম-দুখীর দীর্ঘ আয়ু দিয়ে
চির-বিদায় ভিক্ষা যাব নিয়ে —
সকল বালাই বহি আপন মাথায় ! —
দেখিস তখন, কানার জন্য আর
কষ্ট কিছু হয় না যেন তাঁর।
তারপরে – এই শেওলা-দীঘির ধার —
সঙ্গে আসতে বলবনা’ক আর,
শেষের পথে কিসের বল’ ভয় —
এইখানে এই বেতের বনের ধারে,
ডাহুক-ডাকা সন্ধ্যা-অন্ধকারে —
সবার সঙ্গে সাঙ্গ পরিচয়।
শেওলা দীঘির শীতল অতল নীরে —
মায়ের কোলটি পাই যেন ভাই ফিরে’!
অপেক্ষা
*একটি নারীর প্রশ্ন?
জীবন মানেই কাঁদা হাসা
এই সময়টা পেরিয়ে যাবে
ফুটবে আবার দিনের আলো,
তোমরা যারা গোমড়া মুখে--
একটুখানি হাসা ভালো।
ভাবছো কেন দিনের শেষ?
কেটেই যাবে আঁধার আবার,
দিনের আলো দেখতে হলে
একটুতো করো মুখ বার !
আশা নিয়ে সবাই বাঁচে --
বাঁচিয়ে রেখো একটু আশা ;
নিভলে প্রদীপ চাঁদ আকাশে
জীবন মানেই কাঁদা-হাসা..
না লিখা চিঠি
না-লেখা চিঠি
==========================
আর কতক্ষণ আমি চোখ বুজে বসে থাকব?
এবারে আমি তাকাতে চাই।
তাকিয়ে দেখতে চাই,
তুমি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছ।
অনেক দিন হল আমি তোমাকে দেখি না।
অনেক মাস, অনেক বছর।
অনেক দিন তোমার গলা শুনি না।
অনেক মাস, অনেক বছর।
এবারে তুমি এসো।
গেল বছর আমাদের গুলঞ্চ গাছটায় খুব
ফুল এসেছিল।
তার আগের বছর আমাদের নদীতে খুব
জল এসেছিল।
তার আগের বছর..আশ্চর্য..তার আগের বছর
কী যে হয়েছিল, আমার মনে নেই।
এবারে আমাদের গাছে একটাও ফুল আসেনি।
নদীতে জল আসেনি।
তুমি এসো।
বললে না
বললে না
বহুদিন দেখা হয় নাই
বহুদিন হলো জড়াই নাই তোমাকে বক্ষে!
শেষ যেদিন দেখেছিলাম
সেদিন শাড়ি ছিল তোমার পরনে
পা দুটো প্রায় ঢাকা ছিল শাড়ির বহরে
চোখে হাল্কা কাজল ছিলো
আমি পছন্দ করতাম না বলে
টিপ ছিলো না কপালে।
আমি একটু দেরিতে ছিলাম বলে
তুমি বই পড়া শুরু করেছিলে
আমি আসাতেই কালো ফিতার ঘড়ির দিকে চোখ বুলিয়ে,
একটা দীর্ঘশ্বাস!
প্রতিবারের মতো সেদিনও দুই কাপ কফি
প্রতি চুমুকে তোমার চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়া
সেই সুযোগে তোমার হাতটা ধরে ফেলা
টেবিলে কাপটা রেখে আমার হাতে একটা চড়!
তারপর বরাবরের মতো সেই কথাটা বল্লেনা
সেদিন আর ভালোবেসে বক্ষে জড়ালে না
সেদিন শুধু বললে ভালো থেকো!
সেদিন তুমি আমাকে ভালোভাবে দেখলেই না
আমি তোমার পছন্দের কালো রঙের টি শার্ট টি পরেছিলাম
তোমার জন্য কবিতার বই এনেছিলাম
রাত্রি জেগে তোমার জন্য অনু কাব্য লিখে এনেছিলাম
কিন্তু তুমি আমাকে শাস্তি দিয়ে চলে গেলে
ভালোবাসি কথাটাও না বলে!
সুখ যা দোকান থেকে কেনা যায় না
আমার একটা তুমি চাই
আমার এমন একটা তুমি চাই
যে তুমিতে আমার
চাওয়ার কিছুই নাই।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যে তুমিতে আমার
না পাওয়ার কিছুই নাই।।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যে তুমিতে আমার সকল শূন্যতা
পূর্ণতায় পরিপূর্ণ।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যে তুমিটার সকল পূর্ণতা হবো আমি
এজীবনে তাই সে কখনো, হবেনা শূন্য।।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যে তুমিতে অন্ধ আমিটা
দুচোখ ভরে দেখতে পারি।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যে তুমিতে হাতটা রেখে অন্ধকারেই
নির্ভয়ে আমি হাঁটতে পারি।।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যে তুমির আখি পটটি
আমার আরশি হিসেবে করে কাজ।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যার অন্তরের অন্তরালে শুধু
আমিই জুড়ে প্রতিটি ভাঁজ।।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যার অগোছালো, ছন্নছাড়া জীবনটায়
আমিই হবো সংসারের বেড়ি।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যার মুখে "পাগলি" শব্দটা শুনলেই
ভুলে যাবো করা সকল আড়ি।।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যার হেরে যাওয়ার দিন গুলোতে
আমিই হবো মনের শান্তি।
আমার এমন একটা তুমি চাই
আমার মুখের সরলতায় যার
দূর হবে সকল ক্লান্তি।।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যে তুমি আর আমি মিলে এক
ভালোবাসার শহর গড়বো।
আমার এমন একটা তুমি চাই
সে আর আমি ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্বরূপ হয়ে
সে শহরে অসুস্থ নয় সবাই সুস্থতার সাথে বাঁচবো।।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যার ধন-সম্পদের অভাব থাকলেও
ভালোবাসার অভার কখনোই হবে না।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যার সাথে একটা শুকনো রুটি ভাগ করে খেলেও
ভালোবাসা কখনোই জানালা দিয়ে পালাবে না।।
আমার এমন একটা তুমি চাই
তার কুড়েঘর থাক, মনের সিংহাসনে যেন
আমি হই একমাত্র রাণী।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যে তুমিটা আমি মরে গেলেও হবে না "নাথ"
অন্য কারো জানি।।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যার সাদাকালো জীবনে আমিই হবো রংধনুর সাত রং
ভয়ের মুহূর্তে পাশে রবো হয়ে, "অভয়দায়িনী"
সংসারের অভাব-অনটনে হয়ে উঠব লক্ষী।
আমার এমন একটা তুমি চাই
যে তুমির সংসারে, রন্ধন না জেনেও হবো "অন্নপূর্ণা"
বিদ্বান না হয়েও হবো "সরস্বতী"
সাত জন্মই সে আমার রইল, চন্দ্র-তারা সাক্ষী।।
ভালোবাসা হলো ঔষধ
ভালোবাসা কোনো ব্যাধি নয়
ব্যাঁধি সম্পন্ন মানুষ গুলোই
ভালোবাসাকে ব্যাধি কয়




































